কিশোরগঞ্জ

গৃহকর্মী ছোট্ট মরিয়মের মরদেহে অসংখ্য ক্ষতচিহ্ন

নূর মোহাম্মদ

কিশোরগঞ্জে, ২৮ অক্টোবর- পরিবারের স্বচ্ছলতার আশায় সাত বছরের শিশুসন্তান মরিয়মকে প্রতিবেশী নাইমার বাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে কাজে দেন কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার শাহেদল ইউনিয়নের বীর পাইশকা গ্রামের দিনমজুর সিরাজুল ইসলাম। মাত্র দুই মাস আগে মরিয়মকে প্রতিবেশী নাইমা ও তার স্বামী নূরুল ইসলামের কর্মস্থল কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুরে নিয়ে যায়। দুই মাস যেতে না যেতেই লাশ হয়ে বাড়ি ফিরতে হলো ছোট্ট মরিয়মকে। তাইতো কান্না থামছে না স্বজনদের।

সাত বছরের শিশু গৃহকর্মী মরিয়মকে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগে নাইমার ও তার ম্বামী এনাম এলাহি শুভকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকাতে শিশুটিকে হত্যার পর বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভোরে হোসেনপুরে গ্রামের বাড়িতে মরদেহ রেখে পালানোর সময় নাইমা ও তার স্বামী শুভকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন এলাকাবাসী। নির্মম এ ঘটনায় হতবিহবল এলাকাবাসী। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন শিশুটির স্বজন ও এলাকাবাসী।

পুলিশ জানায়, বীর পাইশকা গ্রামের নূরুল ইসলামের মেয়ে নাদরাতুন নাইমা দুই মাস আগে মরিয়মকে গৃহকর্মী হিসেবে তার স্বামীর কর্মস্থল কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুরে নিয়ে যান। এরপর থেকে শিশুটির বাবা-মায়ের সাথে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। বুধবার ভোরে গৃহকর্তা শুভ ও তার স্ত্রী একটি প্রাইভেটকারে মরিয়মের মৃতদেহ হোসেনপুরে নিয়ে আসেন। এ সময় মেয়েটির শরীরে অসংখ্য নির্যাতনের চিহ্ন দেখতে পান শিশুটির স্বজনরা। মেয়েটির সারা শরীরে আগুনের ছ্যাকাসহ অসংখ্য ক্ষতচিহ্ন দেখতে পায় তারা।

স্বজনদের অভিযোগ, বাড়ির মালিক নাইমা মেয়েটিকে পাষবিক নির্যাতন করে হত্যা করেছে। তার সমস্ত শরীরে পোড়া, সিগারেটের ছ্যাকা দেয়া অসংখ্য ক্ষত রয়েছে। হাত-পা ও পিঠের বিভিন্ন স্থানে স্থানে মাংস উঠে গেছে, আর মাথা থেতলানো ছিল। ৩ বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে শিশু মরিয়ম ছিল চতুর্থ।

শিশু মরিয়মের বাবা সিরাজুল ইসলাম ও মা কুলসুম বেগম জানান, বাড়িতে শিশুদের দেখাশুনা করবে বলে দুই মাস আগে মরিয়মকে কুমিল্লায় নিয়ে যায় নাইমা ও তার স্বামী শুভ। মেয়েকে নিয়ে যাওয়ার পর তার আর কোনো খবর পাননি তার। মঙ্গলবার রাতে ফোন করে জানানো হয় মরিয়ম পড়ে গিয়ে ব্যথা পেয়েছে।

শিশু মরিয়মের মা জানান, এ খবর শুনে মরিয়মের বাবা কুমিল্লা যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এরইমধ্যে বুধবার ভোরে একটি প্রাইভেটকারে করে মরিয়মের মরদেহ পাইকশা গ্রামে নিয়ে আসে শুভ ও তার স্ত্রী। গাড়ি থেকে মরদেহ নামানোর পর তারা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু মেয়েটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখে গ্রামবাসী তাদের আটক করে পুলিশে খবর দেয়।

খবর পেয়ে হোসেনপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. নূর ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের গ্রেফতার করেছে।

আরও পড়ুন: উত্তরবঙ্গে সঙ্গে ঢাকার ট্রেন চলাচল বন্ধ

জানা গেছে, অভিযুক্ত নাইমার স্বামী এলাহি শুভ গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদরের ভাদুগড় গ্রামে। তার বাবার নাম মৃত. শাহ আলম। তিনি কুমিল্লার গৌরিপুরে একটি বেসরকারি কোম্পানির বিক্রয় বিভাগে চাকরি করেন। স্ত্রীকে নিয়ে সেখানেই থাকেন।

পুলিশ পরিদর্শক নূর ইসলাম জানান, মেয়েটিকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। শরীরের অন্তত ৪০টি স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ব্যাপারে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তবে ঘটনাস্থল যেহেতু কুমিল্লায় তাই কুমিল্লা থানায় মামলা দায়ের করা হবে।

সূত্রঃ সময় নিউজ
আডি/ ২৮ অক্টোবর

Back to top button