জাতীয়

তারা গণতন্ত্র দেয়ার কে: মির্জা ফখরুল

ঢাকা, ৩১ অক্টোবর- অধিকার আমরা মুক্তিযুদ্ধের সময় রক্ত দিয়ে অর্জন করেছি। পরবর্তীতে গণতন্ত্রের জন্য আমরা আরও লড়াই করেছি। পত্রিকায় দেখলাম ওবায়দুল কাদের সাহেব বলেছেন, গণতন্ত্র তারা না দিলে আমরা নাকি সমালোচনা করতে পারতাম না। গণতন্ত্র দেয়ার তারা কে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার রাজধানীর বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানে রাজনৈতিক কার্যালয়ে দুপুরে বিএনপি নেতা সুমনের বাসায় অভিযানে নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানাতে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে চিরকাল ক্ষমতায় থাকার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন ব্যবস্থা করেছে এবং সেটাকে পাকাপোক্ত করার জন্য বারবার বিএনপিকে ধ্বংস ও নির্মূল, বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের হয়রানি মিথ্যা মামলা, গ্রেপ্তার এবং হত্যাসহ সবকিছু করছে। এটাকে কোনো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বলা যাবেই না। এটা ভয়ঙ্করভাবে একটা ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা। হিটলার-মুসোলিনিরও এভাবেই গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে এবং ভোটের অধিকার হরণ করেছে।

তিনি অভিযোগ করেন, দুর্গাপূজা উৎসবকে কেন্দ্র করে সারাদেশে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে যারা মিথ্যা মামলা দিয়েছে। এই মামলা বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দিয়েছে।

বিএনপি নির্বাচনে যাবে কি না সরকার ইঙ্গিত পেয়েছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে ফখরুল বলেন, আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকার দেশে বিরোধীদল শূন্য একটা অবস্থা তৈরি করতে চায়। যারা রাজনীতি করছেন বা নির্বাচনের সময় নির্বাচন করতে পারেন, সরকারের দাবিতে আন্দোলন করতে পারেন- সেটা কি বাধা দেয়ার জন্য সরকার এসব করছে। এটা সরকারের চিরাচরিত ধারনা বা ভীতি, বিএনপিকে কোনো মতেই নির্বাচনের কাছে আসতে দেয়া যাবে না। কারণ বিএনপিকে নির্বাচনের আশেপাশে আসতে দিলেই তারা জানে যে, সামনে নির্বাচনে তাদের ক্ষমতায় আসা সম্ভব হবে না।

‘বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা আছে তাতে আমরা কোনমতেই নির্বাচনে যাব না। নির্বাচনকালীন সময়ে একটা তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া বিএনপি কোনো নির্বাচনে যাবে না।’

রোববার দুপুরের ওই ঘটনার বর্ণনা সংবাদ সম্মেলনে দেন বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান বলেন, বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব, তেজগাঁও মহানগরীর নেতাকর্মীরাসহ আমরা শাহীনবাগে বাদ যোহর একটি মিলাদে অংশ নেই। মিলাদ শেষে গুম হওয়া বিএনপি’র ছাত্রনেতা সাজেদুল ইসলাম সুমনের এর অসুস্থ মাকে আমরা দেখতে যাই। সে সময় সুমনের বাড়ি চারিদিকে শতাধিক ইউনিফর্ম ও সাদা পোশাকে অর্ধ শতাধিক পুলিশ ঘিরে ফেলে। দরজা খুলে ঢুকে তারা বেধড়ক নেতাকর্মীদের ওপর হামলা মারধোর আক্রমণ এবং গ্রেপ্তার করে। আমরা প্রতিবাদ করি কেন করছেন, আমরা তো মিলাদে এসেছি । অসুস্থ মাকে দেখতে এসেছি, কিন্তু কোন কথায় তারা মানবে না। ওসি অপূর্বের নেতৃত্বে এই ঘটনাটি ঘটেছে।’

প্রায় ১৫ জন নেতাকর্মীকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে অভিযোগ করে আমান বলেন, এই গ্রেপ্তার কেন, আমাদের কি গণতান্ত্রিক অধিকার নেই। আমরা কি মিলাদ করতে পারব না। এটা কি নিষিদ্ধ?

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির কমিটির তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন নসু, সহ গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, নগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল হক, চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শায়রুল কবির খান, শামসুদ্দিন দিদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সূত্রঃ বাংলাদেশ জার্নাল

আর আই

Back to top button