ক্রিকেট

দুবাই থেকেই অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপের চিন্তা!

সাইফুল ইসলাম রিয়াদ

দুবাই, ৩১ অক্টোবর – দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে চলছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের লড়াই। স্টেডিয়ামের খুব কাছের ক্রাউন প্লাজা হোটেলে বসে আগামী বছর অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের চিন্তা করছে বাংলাদেশ টিম ম্যানেজম্যান্ট! কিভাবে অস্ট্রেলিয়াতে ভালো করা যেতে পারে?

দলের সঙ্গে থাকা নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন একটি উপায় বের করেছেন,‘দেশের মাটিতে স্পোর্টিং উইকেটে খেলতে হবে। নইলে রান করার অভ্যাস গড়ে উঠবে না।’ এই সমাধান অবশ্য আজকের নয়। বিসিবির উদাসীনতায় কখনো রান প্রসবা উইকেটে খেলতে পারেননি ক্রিকেটাররা। যার বড় খেসারত দিচ্ছে লাল সবুজের প্রতিনিধিরা।

মরুর বুকে বিশ্বকাপের আমেজ এখনও শুরুই হয়নি। অথচ বাংলাদেশের চিন্তায় ২০২২ বিশ্বকাপ! না করেই বা কী উপায়। লাল সবুজের শিবিরে যে বাজছে বিদায়ের সুর! দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ দুই ম্যাচ আনুষ্ঠানিকতা মাত্র।

ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়া-নিউ জিল্যান্ডকে উড়িয়ে পাহাড়সম স্বপ্ন নিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পা রেখেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু দেশের অর্জন যে কাজে আসেনি সেটা বোঝা গেছে মাস না পেরোতেই। হারতে হয়েছে স্কটল্যান্ডের মতো দলের বিপক্ষে। কোনোমতে সুপার টুয়েলভ নিশ্চিত করলেও টানা তিন হারে শেষ হয়ে গেছে সেমিফাইনালের স্বপ্ন।

আরও দুই ম্যাচ বাকি থাকলেও ক্রিকেটারদের মধ্যে আর সেই আমেজ নেই। বিপর্যস্ত শিবির থাকবে দুদিনের বিশ্রামে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচ আগামী ২ নভেম্বর। আবুধাবিতে ম্যাচ হলেও একদিন আগে অনুশীলন হবে দুবাইয়ের আইসিসি অ্যাকাডমিতে।

অবশ্য এ ম্যাচগুলোতে বাংলাদেশের আশা সামান্যই। ব্যর্থতা ভুলে বাংলাদেশ ভাবছে ২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে। এবার সুপার টুয়েলভে ওঠায় বাংলাদেশকে বাছাই পর্ব খেলতে হবে না। এক বছর পরই যেহেতু আরেকটি বিশ্বকাপ তাই সময় নষ্ট না করে বাংলাদেশ পরিকল্পনা করছে কিভাবে অস্ট্রেলিয়াতে ভালো খেলা যায়।

হাবিবুল বাশার যেমন বললেন,‘নির্বাচক হিসেবে অবশ্যই আমি হতাশ, ওয়ানডেতে আমরা ভালো। টেস্টে উথান-পতন আছে। কিন্তু টি-টোয়েন্টিতে পারছি না। অবশ্যই শেষ তিন সিরিজের হিসেবে আমাদের এই বিশ্বকাপে অনেক স্বপ্ন ছিল কিন্তু আমরা তা অর্জন করতে পারিনি। তবে এখন আমাদের নতুন পরিকল্পনা করতে হবে। প্রোপার উইকেটে (স্পোর্টিং উইকেট) খেলতে হবে, তাহলে অবশ্যই পরের বিশ্বকাপে ভালো করা সম্ভব।’

বিশ্বকাপে আসার আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ ৪-১ ব্যবধানে জেতে। আর নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানে। এই দুটি সিরিজে মিরপুর শের-ই বাংলায় স্পিনারদের রাজত্বে অসহায় ছিলেন ব্যাটসম্যানরা। তখনই মিরপুরের মন্থর ও স্পিন বান্ধব উইকেট নিয়ে কথা উঠেছিল। এমন উইকেটে খেলে বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি কতটা ফলপ্রসূ হবে? ঠিক তাই হলো, আসল লড়াইয়ে এসে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদরা যেন দেখেছেন মুদ্রার উল্টোপিঠ।

ব্যাটিং বান্ধব উইকেটের কথা জানিয়ে বাশার বলেছেন, ‘আমাদের টি-টোয়েন্টির উন্নতির জন্য সবচেয়ে বেশি দরকার ঘরোয়া ক্রিকেটে ব্যাটিং উইকেট তৈরি করা। আমরা যখন ঘরোয়া টি-টোয়েন্টিতে খেলি তখন একই উইকেটে বারবার খেলার কারণে ভালো উইকেট পাচ্ছি না যে কারণে পাওয়ার হিটার তৈরি হচ্ছে না। এদিকে যদি উন্নতি করতে হয় তাহলে ঘরোয়া টুর্নামেন্টে যেন পরবর্তীতে আমরা ব্যাটিং উইকেটে খেলতে পারি, ভালো উইকেটে খেলতে পারি।’

দেশে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগসহ (বিপিএল) বিভিন্ন টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের প্রচুর ম্যাচ হয়। সেসব উইকেটও ব্যাটিং বন্ধব হয় না। মন্থর উইকেটে রাজত্ব করেন বোলাররা। শের-ই বাংলার কিংবা জহুর আহমেদ; এক একটি পিচ হয়ে ওঠে স্পিন স্বর্গ।

কিন্তু বিশ্বমঞ্চে যে এমন একমুখি উইকেট দিয়ে ভালো কিছুর সম্ভবনা থাকে না; সেটি এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। শুধু টের পেলেই হবে না; কাজে লাগাতে হবে। বাশারের এই পরিকল্পনা কি মুখে থাকবে নাকি বাস্তাবায়িত হবে? সময়ের কাছেই প্রশ্নটা তোলা থাক।

প্রায় প্রত্যেক ম্যাচেই বাংলাদেশ সুযোগ হাতছাড়া করেছে। ক্যাচ ও স্ট্যাম্পিং মিসের মাশুল দিয়েছে। পাশাপাশি ডেথ ওভারে বোলারদের পারফরম্যান্সও আহামরি ভালো নয়। তবে হাবিবুল বাশারের কাঠগড়ায় ব্যাটসম্যানরাই,‘ব্যাটিংটা আমাদের ভুগিয়েছে। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ভালো করেছি কিন্তু বাকি ম্যাচগুলোতে পারছি না। যে আশা ছিল আমাদের সেরকমটা পারিনি। বিশেষ করে পাওয়ার প্লেতে আমরা ব্যর্থ। শেষ দিকে আমাদের পাওয়ার হিটার দরকার। একদমই নেই। এই জায়গায় আমাদের উন্নতি করতে হবে।‘

যেকোনো বড় আসর বা সিরিজে ব্যর্থ হলে ঢেলে সাজানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। দুবাইয়ে নির্বাচক সেই ঘোষণা দিলেন। তার দেওয়া ডাক কি বিসিবি কার্যালয় পর্যন্ত যাবে নাকি দুবাইয়ে সীমাবদ্ধ থাকবে? এবার কি টনক নড়বে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের?

সূত্র : রাইজিংবিডি
এন এইচ, ৩১ অক্টোবর

Back to top button