ক্রিকেট

সাকিব কেন ওপেনিংয়ে?

দুবাই, ৩০ অক্টোবর – তামিম ইকবাল টি-টোয়েন্টি খেলছেন না এক বছরেরও বেশি সময় ধরে। অভিজ্ঞ এই ওপেনারের শূন্যতা পূরণ করতে পারছেন না কেউই। লিটন দাস, সৌম্য সরকার ও মোহাম্মদ নাঈমকে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে খেলানো হচ্ছিল এক ও দুই নম্বর পজিশনে। তারা বরাবর হতাশ করেই যাচ্ছেন। বিশেষ করে লিটনের রানখরা নিয়ে বিস্তর আলোচনা হচ্ছে। তাকে বাদ দেওয়ার দাবি উঠলেও আস্থা হারাচ্ছেন না নির্বাচকরা। বিশ্বকাপে প্রথম রাউন্ড ও সুপার টুয়েলভে বাংলাদেশের পাঁচ ম্যাচই খেলেছেন তিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেও তাকে দলে রাখা হয়েছিল। দলে ফিরেছিলেন সৌম্যও। স্বাভাবিকভাবেই নাঈমের সঙ্গে উদ্বোধনী জুটিতে হয় লিটন নয়তো সৌম্যকে দেখার প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু ১৪৩ রানের লক্ষ্যে যখন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা নামল, তখন অবাক হতে হলো। কারণ ওপেনিংয়ে নাঈমের সঙ্গে সাকিব আল হাসান!

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের যে কোনো ফরম্যাটে প্রথমবার ওপেনার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেন সাকিব। ৩৬৭ আন্তর্জাতিক ম্যাচে তিনি বিভিন্ন পজিশনে ব্যাটিং করেছেন। কিন্তু কখনো ইনিংস ওপেন করা হয়নি তার। তিন, চার ও পাঁচ নম্বরে ব্যাটিং করতে দেখা গেছে সাকিবকে। ছয়, সাত ও আটেও খেলেছিলেন কোনো এক সময়। ক্যারিয়ার শুরু মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান হিসেবেই। অবশ্য ওপেনিংয়ে নেমেছেন তিনি ঘরোয়া ক্রিকেটে। ২০১৫ সালে ঢাকা লিগের সুপার লিগের ম্যাচে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের জার্সিতে প্রাইম দোলেশ্বরের বিপক্ষে ওপেনিংয়ে নেমে ৫১ বলে করেছিলেন মাত্র ২৮ রান।

কিন্তু ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তো এক নয়। যেখানে লিটন, সৌম্য ও নাঈম আছেন সেখানে কেন সাকিব ওপেনিং করতে গেলেন। দীর্ঘদিন ধরেই ওপেনিং নিয়ে দেশের ক্রিকেটে চলছে পরীক্ষা নিরীক্ষা। সেই পরীক্ষাই কি এবার বাঁহাতি ব্যাটসম্যান দিতে চেয়েছিলেন? কতটা সফল হলেন তিনি? প্রথম ওভারের তৃতীয় বলেই খুলেছিলেন রানের খাতা। ওই ওভারে আরেকটি বল খেলে তাতেও নিলেন সিঙ্গেলস। পরের ওভারে তিন বল খেলে নিতে পারলেন না একটিও রান। চতুর্থ বলে বাউন্ডারি! পরে আরেকটি সিঙ্গেল।

প্রথম দুই ওভারে সাকিবের রান ৭ বলে ৭। আর ২.৩ ওভার উইকেটে টিকে ছিলেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। করতে পারলেন দুটি রান। মোট ২১ মিনিট ক্রিজে থাকলেন, খেললেন ১২ বল, রান ৯। স্ট্রাইক রেট ৭৫। একজন ওপেনার হিসেবে অভিষেক ম্যাচ এমনই কি হওয়া উচিত? আশা পূরণ করতে পারলেন কোথায়?

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, সাকিব কেন ওপেনিংয়ে নামলেন। উত্তর পাওয়া যায়নি কারো কাছ থেকে। ধারণা করা হচ্ছে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসের চার ওভার শেষে পায়ের ব্যথা নিয়ে কিছুক্ষণ মাঠের বাইরে ছিলেন। আর ওই ইনজুরির কারণে মিডল অর্ডারে ব্যাটিং করার চাপ নিতে চাননি সাকিব। আবার হতে পারে, ‘অলরাউন্ডার’ হিসেবে ওপেনিংয়েও ত্রাতার ভূমিকা রাখতে চেয়েছিলেন।

প্রশ্ন উঠছে সাকিবের ফিটনেস নিয়েও। পায়ের চোট নিয়ে মাঠের বাইরে কিছুক্ষণ থাকার পর ফেরেন। বল হাতে নেন দশম ওভারে গিয়ে। দেখে মনে হচ্ছিল খানিকটা অস্বস্তিতে আছেন। এক স্পেলেই শেষ করলেন চার ওভার। প্রথম তিন ওভারে ১৩ রান দিলেও শেষ ওভারে নিকোলাস পুরান তাকে টানা দুটি ছয় মারলেন, ওই এক ওভারেই দিলেন ১৫ রান। ৪ ওভারে ২৮ রান দিয়ে থাকলেন উইকেটশূন্য।

সাকিবের এই চোট ম্যাচ চলার সময়ই পেলেন নাকি আগে থেকেই ফিটনেসের সমস্যায় ভুগছিলেন? জবাব মিলেনি মাহমুদউল্লাহর সংবাদ সম্মেলনে। উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে, সদ্য শেষ হওয়া আইপিএলে আন্দ্রে রাসেল কিংবা ১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অধিনায়ক ওয়াসিম আকরামকে নিয়ে। রাসেল পুরোপুরি ফিট না হওয়ায় তাকে ফাইনালেও খেলায়নি কলকাতা নাইট রাইডার্স। আর বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে হাফ ফিট থাকার পরও ভারতের বিপক্ষে খেলেননি অধিনায়ক ওয়াসিম, নেতৃত্ব দেন আমির সোহেল। সাকিব ‘হাফ ফিট’ যদি থাকেনই, তবে তাকে খেলানো কতটা যৌক্তিক ছিল সেই প্রশ্নও থাকছে।

সূত্র : রাইজিংবিডি
এন এইচ, ৩০ অক্টোবর

Back to top button