ক্রিকেট

এখন কিসের আশায় খেলবে বাংলাদেশ?

দুবাই, ৩০ অক্টোবর – পুরো ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে শেষ দিকে এসে হারতে হলো। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাজে বোলিং কিংবা মিসফিল্ডিংয়েও জেতা সম্ভব হয়নি। যেন তীরে এসে ডুবল তরী। প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ক্যাচ ফসকে ম্যাচও ফসকে যায়। দুটি ম্যাচে জয় পেতে পেতেও পায়নি বাংলাদেশ। মাঝে ইংল্যান্ডের কাছে পাত্তা পায়নি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল।

টানা তিন ম্যাচে হেরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার স্বপ্ন মাটিতে মিশে গেছে। বিশ্বকাপের সমীকরণ সামনে আনলে বাংলাদেশের জন্য এ দুই ম্যাচ থেকে পাওয়ার কিছু নেই। তবে তাদের হারিয়ে অর্জনের খাতায় নাম লেখাতে পারে আর দলের যে মানসিক অবস্থা সেটাও কিছুটা কাটিয়ে উঠতে পারে। এটাই হতে পারে বাংলাদেশের একমাত্র লক্ষ্য।

ম্যাচ শেষে যা বলছিলেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহও, ‘এখনো অনেক কিছুই পাওয়ার আছে। যদিও সেমিফাইনালের আশাটা ক্ষীণ হয়ে গেছে কিন্তু দুইটা ম্যাচ আছে। এই দুটো ম্যাচ যদি জিততে পারি, ইনশাআল্লাহ দলের জন্য ভালো কিছু একটা হবে।’

উইন্ডিজের বিপক্ষে এমন সহজ ম্যাচ হাতছাড়া হওয়ার পর মানতে পারছেন না কেউ। শারজা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগত প্রবাসী দর্শকরা ক্ষুব্ধ। দলের নিবেদন, শারীরিক ভাষা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। এখনো যদি এমনভাবে হারতে হয়, তাহলে বাংলাদেশ শিখবে কবে- কেউ কেউ করেছেন এমন প্রশ্ন। সিনিয়র ক্রিকেটাররা গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অযাচিত শট খেলে সাজঘরে ফিরবেন, এমন আর কত!

তবে মাহমুদউল্লাহ জানালেন তারা মরিয়া হয়ে চেষ্টা করছেন জয়ের জন্য, ‘আমরা চেষ্টা করছি সবাই, মরিয়া হয়েই চেষ্টা করছি। মাঠে শতভাগ দেওয়ার কমিটমেন্ট রাখার চেষ্টা করছি। তবে ভুল হচ্ছে। বাকি দুটি ম্যাচ জেতার চেষ্টা করব।’

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে হার দিয়ে বিশ্বকাপে যাত্রা শুরু। ওমান-পাপুয়া নিউ গিনিকে হারিয়ে সুপার টুয়েলভের টিকিট কেটেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু মূলপর্বের লড়াইয়ে এসে তারা যেন অচেনা। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৫ উইকেটে হার, ইংলিশদের বিপক্ষে ৮ উইকেট ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে মাত্র ৩ রানে। উইন্ডিজের বিপক্ষে এই ম্যাচটি ছিল ঘুরে দাঁড়ানোর, সেটা তো পারেনি, উল্টো যেন ভেঙে পড়েছে।

দলের এমন পারফরম্যান্স, ক্যাচ মিস এসব নিয়ে অধিনায়কের কী পর্যালোচনা? মাহমুদউল্লাহ বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে, বিশেষ করে যারা দলের সেরা ফিল্ডার তারা ক্যাচ মিস করে অনেক সময়, কেউ তো আর ইচ্ছা করে করে না। কিন্তু আমরা তো আশা করি যে ওই সুযোগগুলো ধরা দিবে। যেহেতু আমরা ধারাবাহিকভাবে ওই ভুলগুলো করছি ম্যাচ বাই ম্যাচ, অবশ্যই এগুলো উদ্বেগের। আমার তো মনে হয় যে আমাদের ক্যাচিং আরো ভালো করতে হবে এবং করা উচিত।’

শুধু ক্যাচিং না বাংলাদেশের গ্রাউন্ড ফিল্ডিংও ছিল হতশ্রী। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ভালো ব্যাটিং-বোলিংয়ের মতো দুর্দান্ত ফিল্ডিংও খুব জরুরি। আঁটসাঁট ফিল্ডিং করে অল্প কয়েক রান যদি বাঁচানো যায়, ম্যাচ শেষে সেগুলো হয়ে দাঁড়ায় পাহাড়সম। এই অল্প কয় রানই ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেয়। বাংলাদেশ কবে শিখবে এটা?

সূত্র : রাইজিংবিডি
এন এইচ, ৩০ অক্টোবর

Back to top button