জাতীয়

মানুষ ভাত বেশি খায় এমন কথা বলিনি: কৃষিমন্ত্রী

ঢাকা, ৩০ অক্টোবর – ‘মানুষ ভাত বেশি খায় এ জন্য চালের দাম বেড়ে গেছে’- গণমাধ্যমে এমন কোনো কথা বলেননি বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেছেন, এ ধরনের কথা আমি কোনো দিনই বলিনি। আমি এ প্রসঙ্গই আনিনি। তিনি পুষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়ার কথা বলেছিলেন বলে জানিয়েছেন।

শুক্রবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ উপ কমিটির এক সেমিনারে তিনি এমন কথা বলেন। সেমিনারের বিষয় ছিল ‘বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন ২০২১: বাংলাদেশে প্রত্যাশা’।

চালের সংকট কমাতে কৃষিমন্ত্রী দেশের মানুষকে ভাত কম খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন উল্লেখ করে সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এ ধরনের তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। এরপর মঙ্গলবার রাতে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে কৃষিমন্ত্রীর বক্তব্যকে ভুলভাবে উদ্ধৃত করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। সেখানে কৃষিমন্ত্রী দাবি করেন, ভাত কম খেতে বলেননি তিনি।

একই প্রসঙ্গে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ধানের জাত এবং চাষাবাদ কী হওয়া উচিত, যেগুলোর ওপরেও আমাদের বিজ্ঞানীরা কাজ করছে। মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা একটি বিষয় ছিলো। আমরা চাল জাতীয় খাবারে অনেকটা আত্মনির্ভরশীল। যদি ভালো আবহাওয়া থাকে, আমাদের কোনো সমস্যা হয় না। আমরা খাদ্যে উদ্বৃত্ত থাকি। কিন্তু এখন আমাদের লক্ষ্য হলো পুষ্টি জাতীয় খাবার। এটি আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে বলেছি, আমরা পুষ্টি জাতীয় খাবার এবং সি ফুড মানুষকে দেব। এটাই এখন আমাদের চ্যালেঞ্জ। এটা করার জন্য কৃষিকে আধুনিকীকরণ করতে হবে। আমরা যান্ত্রিকীকরণ করছি। আমরা কৃষিপণ্যকে যান্ত্রিকীকরণ করবো প্রকৃয়া প্রকৃয়াজাত করণের মাধ্যমে। আমাদের কৃষকদের আয় বাড়াতে হবে, তাদের জীবনযাত্রার মান বাড়াতে হবে।

তিনি বলেন, এ কথা আমি আর একদিন বলেছি, আমাদের এক মিডিয়ার সাংবাদিকদের ফোরামে। ৭৭টি মিডিয়া আমার বক্তব্য কাভার করেছে। একটি ভূইফোঁড় পত্রিকা তারা নিউজ করেছে আমি নাকি বলেছি, মানুষ ভাত বেশি খায় এ জন্য চালের দাম বেড়ে গেছে। এ ধরনের কথা আমি কোনো দিনই বলি না। আমি এ প্রসঙ্গই আনিনি।

তিনি বলেন, আমাদের সরকারের লক্ষ্য হলো আগামী প্রজন্মকে সৃজনশীল ও মেধাবী করার মানুষকে পুষ্টিজাতীয় খাবার দিতে হবে। জাপানে চার বেলা ভাত খায়, কিন্তু তাদের কনযানশন ২ গ্রামেরও কম। সেখানে আমরা আগে ৪৩০ গ্রাম খেলাম এখন এটা কমে ৩৭০ গ্রামে আসছে। আস্তে আস্তে কমছে। মানুষের যেহেতু আয় বাড়ছে, মানুষ এখন শাক সবজি, ফলমূল, ডিম, মাছ মাংস সেদিকেই বেশি যাচ্ছে।

বাংলাদেশ এখন আর বিদেশি সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, আমাদের উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে এখন আর ওইভাবে সাহায্য নিতে হয় না। বিদেশি অনেক অর্থনীতিবিদদের আমাদের নেত্রী আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন যে, বাংলাদেশ এসেছে এটা টিকে থাকবে। জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য আমরা কৌশলগত পরিকল্পনা করেছি। আমরা যখন সরকারে এসেছি তখন থেকেই এগুলো শুরু করেছি।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, আমাদের বিজ্ঞানীরা বিআর-৬৭ নামে একটা জাত আবিস্কার করেছে। ইনশাল্লাহ এটা কোস্টাল এরিয়াতে হবে। আমরা গমের জাত আবিস্কার করছি, যা উষ্ণ অবস্থার মধ্যে, অর্থ্যাৎ জলবায়ু পরিবর্তন হোক আর না হোক আমরা প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবেলা করার জন্য প্রস্ততি নিচ্ছি। কারণ বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনে কৃষিই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপ-কমিটির চেয়ারম্যান ড. খন্দকার বজলুল হক। স্বাগত বক্তব্য দেন, উপকমিটির সদস্য সচিব দেলোয়ার হোসেন।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য় অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল, বাংলাদেশে সেন্ট্রার ফর অ্যাডভান্স স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক ড. আতিক রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাদেকা হালিম, সিনিয়র সাংবাদিক কাওসার রহমান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ব্যারিস্টার ফারজানা মাহমুদ।

সূত্র : বাংলাদেশ জার্নাল
এন এইচ, ৩০ অক্টোবর

Back to top button