জাতীয়

জনগণ প্রস্তুত হয়ে আছে: ড. কামাল

ঢাকা, ২৯ অক্টোবর – গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, বর্তমান সরকার জনগণের আস্থায় নেই। কিন্তু তারা জনগণের ওপর ক্ষমতা প্রয়োগ করেই যাচ্ছে। জনগণ প্রস্তুত হয়ে আছে। আনুষ্ঠানিক ঐক্য নিয়ে মাঠে নামলেই জনগণ তাদের মতামত জানিয়ে দেবে।

শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে গণসংহতি আন্দোলনের তিন দিনব্যাপী চতুর্থ জাতীয় প্রতিনিধি সম্মেলনের উদ্বোধনী দিনের আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

ড. কামাল বলেন, সারাদেশে জেলায় জেলায় সংগঠিত হয়ে নামতে হবে। ইতোমধ্যে নামা শুরু হয়ে গেছে। রাজপথ দখলে নিলেই দেশের মালিকানা আমরা ফিরে পাব।

তিনি বলেন, এ দেশের মালিকানা আত্মসাৎ করা হয়েছে। গণবিরোধী শক্তি সরকারে থেকে দেশকে দখল করে রেখেছে। তাদের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করে জনগণের নিয়ন্ত্রণে নিতে হবে। সেখান থেকেই হবে আসল পরিবর্তনের শুরু। ইতিহাসে দেখা গেছে, জনগণ ঐক্যবদ্ধ হলে কোনো শক্তিই তাকে হারাতে পারে না।

প্রতিনিধি সম্মেলন উদ্বোধন করে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচন করা যাবে না। একটি জাতীয় সরকার গঠন করতে হবে। কেননা আওয়ামী লীগ রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে সব প্রতিষ্ঠান অকার্যকর করে ফেলেছে। আগামী এক বছরের মধ্যে এই ফ্যাসিবাদী সরকারকে বিদায় করা হবে।

তিনি বলেন, দেশে নির্বাচন বলে কোনো কিছু নেই। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হচ্ছে, কিন্তু কোথাও জনগণের অংশগ্রহণ নেই। অতএব এই সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচন সম্ভব নয়।

সভাপতির বক্তব্যে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, সরকার রাষ্ট্রক্ষমতা ব্যবহার করে জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। রাজনীতিকে নির্বাসনে পাঠিয়ে রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে অকার্যকর করে দিয়েছে। নাগরিকদের জন্য এর চেয়ে বড় অমর্যাদা ও বড় জবরদস্তি আর হতে পারে না।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পাটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক বজলুর রশিদ ফিরোজ, ভাসানী অনুসারী পরিষদের মহাসচিব রফিকুল ইসলাম বাবলু, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম, গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল, রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য তাসলিমা আখতার, ফিরোজ আহমেদ, দেওয়ান আবদুর রশিদ নীলু, হাসান মারুফ রুমী প্রমুখ।

এর আগে জাতীয় সংগীত ও দলীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে সম্মেলন উদ্বোধন করেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। আলোচনা সভা শেষে একটি মিছিল নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। তিনদিনের এ প্রতিনিধি সম্মেলন রোববার পর্যন্ত চলবে।

সূত্র : সমকাল
এম এস, ২৯ অক্টোবর

Back to top button