ফুটবল

অনিবার্য ছিল কোম্যানের বিদায়

তাহলে, রোনাল্ড কোম্যান আউট! অবশেষে বার্সেলোনা ভক্তদের চোখেমুখে সন্তুষ্টির ছাপ। খেলোয়াড় হিসেবে ন্যু ক্যাম্পে কিংবদন্তিতুল্য ছিলেন, কিন্তু কোচ হিসেবে ডাচম্যানের এমন নিয়তি তো কয়েক মাস আগে থেকেই দেখা যাচ্ছিল। তারপরও আর্থিক সংকটের মুখে পড়া বার্সা চুক্তির আগেই তাকে বরখাস্ত করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পক্ষে ছিল না। তাই তো টেনেটুনে কোম্যানকে দিয়েই শেষ করার ইচ্ছা ছিল তাদের।

কিন্তু এভাবে আর কত! কদিন আগে ন্যু ক্যাম্পে এল ক্লাসিকোয় বার্সা হারের পর স্টেডিয়াম থেকে বেরিয়ে আসার পথে ক্লাব সমর্থকরা যেভাবে তার গাড়ির গতি রোধ করেছিল, তাতেই বিদায়ঘণ্টা আরো জোরেশোরে বাজতে শুরু করে। সবশেষ ডেভিডের কাছে গোলিয়াথের করুণ পরিণতির মতো রায়ো ভায়েকানোর কাছে বার্সার হার সব সীমা ছাড়িয়ে যায়। ১৯ বছর পর দলটির কাছে ১-০ গোলে হারের কয়েক ঘণ্টার পর বার্সা দিলো সেই প্রতীক্ষিত ঘোষণা, ‘প্রথম দলের কোচ হিসেবে আজ রাতে রোনাল্ড কোম্যানকে ছাঁটাই করেছে বার্সেলোনা।’

বিস্ময় জাগানোর মতো ঘোষণা ছিল না এটি। সব ধরনের প্রতিযোগিতায় ১০ ম্যাচে বার্সা জিতেছে মাত্র তিনটি। আর লা লিগায় তাদের অবস্থান ১০ ম্যাচ খেলে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে ৯ নম্বরে। কাকতালীয় ব্যাপার হলো, ২০২০ সালের ২৭ অক্টোবর পদত্যাগ করেছিলেন বার্সা প্রেসিডেন্ট হোসেপ মারিয়া বার্তোমেউ, ঠিক এক বছর পর একই দিনে বিদায় হলেন কোম্যান।

গত বছর বায়ার্ন মিউনিখের কাছে চ্যাম্পিয়নস লিগ কোয়ার্টার ফাইনালে ৮-২ গোলে বার্সা ধরাশায়ী হওয়ার পর কিকে সেতিয়েনেকে অব্যাহতি দিয়ে কোম্যানকে আনা হয়। খেলোয়াড় হিসেবে কাতালানদের হয়ে চারটি লা লিগা, একটি ইউরোপিয়ান কাপ জয়ী তিনি। ফুটবল পায়ে নিয়ে যতটা সফল, ততটা প্রত্যাশা কাঁধে নিয়ে ডাগআউটে দাঁড়ান। হিসাব কষে দেখলে বার্সায় কোচ হিসেবে ব্যর্থ কোম্যান।

ডাগআউটে দায়িত্ব নিয়ে ৬৭ ম্যাচে কোম্যান দেখা পেয়েছেন ৪০ জয়, ১১ ড্র ও ১৬ হারের। ম্যাচের ফল দিয়ে তাকে ব্যর্থ হয়তো কেউ কেউ বলতে চাইবেন না। কিন্তু তার অধীনে দুটি মৌসুমেই লিগে বার্সার শুরুটা হয়েছে সবচেয়ে বাজে। গতবার ১০ ম্যাচ শেষে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে নবম স্থানে ছিল কাতালানরা, ৩৩ বছরে সবচেয়ে বাজে শুরু। এবার একটি পয়েন্ট বেশি পেলেও তাদের অবস্থান সেই একই।

অনেকের বিশ্বাস, কোম্যান আসলে কাতালানদের কোচ হওয়ার যোগ্য নয়। তার দলের অনেক খেলোয়াড়দের ঠিকভাবে বিকশিতই নাকি হতে দেননি। কোনো কোনো খেলোয়াড়ের উন্নতির পথে প্রধান অন্তরায়ও বলা হচ্ছিল তাকে। সিনিয়র খেলোয়াড়ও তার পুরোনো ট্যাকটিকে অভ্যস্ত হয়ে উঠতে পারছিলেন না। ক্লাবের তৃতীয় শীর্ষ গোলদাতা লুইস সুয়ারেজকে তো বেরই করে দিলেন ন্যু ক্যাম্প থেকে।

খেলোয়াড়দের অস্বস্তি, আর সাফল্যে অধারাবাহিকতা; তারপরও কোম্যানের অধীনেই যখন বার্সা দুই বছর পর শিরোপা করা কাটাল কোপা দেল রে জিতে, তখন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হোয়ান লাপোর্তা নমনীয় হলেন। এমনকি এই মৌসুমে প্রথম তিন হোম ম্যাচ থেকে মাত্র এক পয়েন্ট পেয়েও তাকে নিয়ে নাড়াচাড়া করলেন না ক্লাব প্রধান।

সবশেষ এই মৌসুমে লিওনেল মেসিকে ধরে রাখতে না পারা কাল হলো বার্সার জন্য। তার অভাব প্রচণ্ড অনুভূত হচ্ছে দলের মধ্যে। দল সাজাতে হিমশিম খেতে হয়েছে কোম্যানকে। একবার তো সোজাসাপ্টা বলেই দিলেন, দল নিয়ে লাপোর্তাকে নাক না গলাতে। সার্জিনো ডেস্ট, মেম্ফিস ডিপে ও আনসু ফাতির তরুণ প্রজন্ম ঠিক মানিয়ে নিতে পারছেন না তার ট্যাকটিকে। সার্জিও বুশকেটস, জোর্দি আলবা ও জেরার্দ পিকেও রয়েছেন অসুবিধায়। অস্বস্তিতে ছিল বার্সা ভক্ত-সমর্থকরাও।

সম্ভবত সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বার্সা। কে হাল ধরবে এই ডুবন্ত তরীর! বেশি সময় হাতে নেই। আগামী সপ্তাহে ডায়নামো কিয়েভের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ, নকআউটের আগে ছিটকে যাওয়া রুখতে চ্যাম্পিয়নস লিগে মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ তাদের জন্য। শোনা যাচ্ছে কাতারি ক্লাব আল সাদের বর্তমান কোচ ও লিজেন্ডারি মিডফিল্ডার জাভি। তিনি কি হবেন বার্সার কাণ্ডারি।

সূত্র : রাইজিংবিডি
এন এইচ, ২৮ অক্টোবর

Back to top button