ব্যক্তিত্ব

কর্মক্ষেত্রে প্রমোশন পাওয়ার মূলমন্ত্র

অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয় একটি ভালো চাকরি অর্জন করতে । এরপর শুরু হয় কর্মক্ষেত্রের প্রতিযোগিতা। সেখানে প্রত্যেকেই একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী। একে অপরকে টপকে সাফল্যের শীর্ষে উঠতে হয়। কেউ কাউকে ছাড় দিতে চায় না, প্রত্যেকেই চায় নিজের ভাগ্যকে বদলাতে।

পেতে চায় প্রমোশন। কাজের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা অর্জনে এগিয়ে যেতে হয়। প্রত্যেকেই কর্মক্ষেত্রে প্রমোশনের জন্য চাতক পাখির মতো হাঁ করে থাকে। কিছু কৌশল ও দক্ষতার মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রে প্রমোশন পাওয়া সহজ হয়। প্রমোশন পাওয়ার কৌশল নিয়ে রইল কিছু পরামর্শ—

অফিসের চাহিদা পূরণ :  বসের চাহিদামাফিক  কাজ করতে হবে আর এটাই হওয়া উচিত। জানতে হবে অফিসের কাজে বস কি চায়? অফিসকে কি দিতে পারবেন। বসের এই চাহিদা পূরণে কি স্বয়ংসম্পূর্ণ? প্রমাণ করতে হবে প্রতিষ্ঠান নিয়ে আপনার সৎ পরিকল্পনার কথা। সৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময় সবাইকে সম্পৃক্ত করতে হবে। প্রতিষ্ঠান আপনার সফলতা সম্পর্কে জানবে। জানবে দক্ষতা, কর্মক্ষমতা, কর্মস্পৃহা, সততা ইত্যাদি সম্পর্কেও। পাশাপাশি রয়েছে  ব্যক্তিত্ব, বাচনভঙ্গি, সহযোগী মনোভাব ইত্যাদি। তারপরই না পদোন্নতির প্রশ্ন।

মাঝে মাঝে অতিরিক্ত কিছু কাজ সম্পাদন করার জন্য দায়িত্ব নিতে হতে পারে। এসব কাজে যোগ্যতা ও দক্ষতার মাপকাঠি ফুটিয়ে তুলতে হবে। মনে রাখতে হবে গতানুগতিক কাজের বাইরে যেগুলো করবেন সেগুলো দ্বারা অফিসের সবার নজরে পড়তে পারেন। এরপর যদি নতুন অবস্থানে সামর্থ্য প্রমাণ করতে পারেন, তখনই কেবল আপনাকে নতুন অবস্থানের জন্য স্থায়ীভাবে বহাল করবে।

নতুন অবস্থানে আসার পর নিজের কাজকেও পর্যবেক্ষণ করতে হবে। মনে মনে স্থির করতে হবে আপনি আপনার বর্তমান অবস্থানে সর্বোচ্চ সাফল্য দেখাতে পারবেন। নিজেকে স্থির করে নিতে হবে- ‘হ্যাঁ! আমি পারব’। মনের জোর হলো সবচেয়ে বড় জোর। এর মাধ্যমে পেরুতে পারেন হিমালয়সম বাধা। ডিঙ্গাতে পারেন অনেক ঝুটঝামেলা। এড়াতে পারেন অনেক প্রতিবন্ধকতা। আরও একটি বিষয়ে মনস্থির করতেই হবে যে, আমি আমার সাফল্যের জন্য অতিরিক্ত সময়ও ব্যয় করতে পারব।

অনেকের ধারণা সকাল-সন্ধ্যা কাজ করলেই প্রমোশন পাওয়া যাবে। কিন্তু এই ধারণাটা ভুল। সকাল-সন্ধ্যা কাজ করলেই প্রমোশন পাওয়া যাবে না। প্রমোশন পেতে হলে অবশ্যই কর্মদক্ষতা, বিচক্ষণতা, কর্মস্পৃহা, উন্নত ধারণা, নতুন নতুন কাজ করার মতো সাহস থাকতে হবে, যা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নজর কাড়বে। আর এই কাজগুলো এনে দেবে সফলতা, পাইয়ে দেবে প্রমোশন। তাছাড়া ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যেভাবে চান তার পুরোটাই দিতে পারলে ভালো। আরও একটি জরুরি বিষয় হলো— যদি

বর্তমান কাজে পুরো সফলতা ছাড়াও অন্যান্য কাজেও দক্ষতার সঙ্গে কাজ সম্পাদন করার ক্ষমতা অবমুক্ত করতে পারেন। তবে অবশ্যই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আপনার প্রতি খুশি থাকবেন।

দক্ষতার পরস্ফুিটন : আপনার উচিত ঊর্ধ্বতনকে নতুন নতুন পরিকল্পনার কথা জানানো। জানাতে হবে দক্ষতা। বিকশিত করতে হবে সুপ্ত কোনো প্রতিভাকে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যখন ব্যস্ত থাকেন তখন অবশ্য এই কাজ করা ঠিক নয়। একটি ভালো সময় বিচার করেই কাজটি করতে হবে। সময়টা হতে পারে লাঞ্চের সময় কিংবা অফিস শেষে অথবা কোনো আনন্দঘন মুহূর্তে।  বসের মন-মেজাজের ওপর নির্ভর করবে এসব কথার গ্রহণযোগ্যতা। নতুন ধারণা সম্পর্কে পূর্ণ বিবরণ দিতে হবে। তাছাড়া পরিকল্পনাটি আর্থিক আয়ের ক্ষেত্রে কতটা যথোপযুক্ত তার পিছনেও কিছু যুক্তি দিতে হবে। সব শোনার পর বসের মতামত সম্পর্কেও জানতে হবে।

যাচাই-বাছাই ও বিশ্লেষণ :  কাজটি ঠিকভাবে করতে পারবেন কিনা এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের কিছু দ্বিধা থাকতে পারে। ঊর্ধ্বতনকে বুঝাতে হবে যে কোনো কাজের জন্য আপনি উপযুক্ত আর নতুন এই অবস্থানে সর্বোচ্চ কর্মদক্ষতা প্রমাণ করতে সক্ষম। যদি নতুন কাজটিতে বহাল হওয়ার পর থেকেই নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে তত্পর থাকেন তবে সেই অবস্থানেও পূর্বের মতো দক্ষতা প্রমাণ করতে পারবেন। মোদ্দাকথা হলো, নিজের দক্ষতা ও যোগ্যতাকে অফিসে ফুটিয়ে তোলা ও কাজের মাধ্যমে বসের মন জয় করা। তাহলেই প্রমোশন আপনাকে নিজ থেকেই হাতছানি দিয়ে ডাকবে।

এম ইউ

Back to top button