আফ্রিকা

সুদানে অভ্যুত্থানবিরোধী মিছিলে গুলি, নিহত বেড়ে ৭

খার্তুম, ২৬ অক্টোবর – সুদানে সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা দখলের প্রতিবাদে বিক্ষোভরতদের ওপর গুলি চালিয়েছে সেনাবাহিনী। এতে সাতজন নিহত ও আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১৪০ জন।

সোমবার দেশটির সশস্ত্র বাহিনী সরকারের মন্ত্রী ও সরকার সমর্থক রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেপ্তার শুরু করে। পরে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করা হলে প্রতিবাদকারীরা রাস্তায় নেমে আসে।

রাজধানী খার্তুমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্থানীয় বিক্ষোভকারীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সুদানের তথ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সুদানের প্রধানমন্ত্রী আবদাল্লা হামদাক অভ্যুত্থানের সমর্থনে বিবৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাকে বন্দি করে অজ্ঞাত স্থানে নেওয়া হয়েছে। এরপরই অন্তর্বর্তী সরকার ভেঙে দিয়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন সামরিক নেতা জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল বুরহান।

জেনারেল বুরহান আগে থেকেই সুদানের সার্বভৌম কাউন্সিলের প্রধান ছিলেন। সামরিক ও বেসামরিক নেতাদের মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগির যৌথ কাউন্সিল এটি।

অভ্যুত্থানের নেতা জেনারেল বুরহান এ পরিস্থিতির জন্য রাজনৈতিক কোন্দলকে দায়ী করেছেন। টিভিতে এক ভাষণে তিনি বলেন, রাজনীতিবিদদের মধ্যে কোন্দল, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং সহিংসতায় উস্কানির কারণে আমাকে বাধ্য হয়ে দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় ব্যবস্থা নিতে হয়েছে।

বুরহান আরও বলেন, সুদান এখনও আন্তর্জাতিক সব চুক্তি এবং বেসামরিক শাসনে ফিরতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে নির্বাচনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই তা করা হবে।

তবে এর প্রতিবাদে খার্তুমের রাস্তায় হাজারও মানুষ নেমে এসেছে। বিক্ষোভকারীরা বলছেন, বেসামরিক সরকার ফিরে না আসা পর্যন্ত আমরা রাস্তা ছাড়ব না।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, খার্তুমজুড়ে ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়েছে। শহরজুড়ে সেনা ও আধা-সামরিক সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। খার্তুম বিমানবন্দর বন্ধ করা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ রয়েছে।

সুদানের বিরোধীদলীয় কোয়ালিশন আইন অমান্য করে আন্দোলন এবং দেশব্যাপী প্রতিবাদের ডাক দিয়েছে। রাজবন্দিদের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

সুদানে সামরিক অভ্যুত্থানের নিন্দা জানিয়েছে বিশ্ব সম্প্রদায়। দেশটির প্রধানমন্ত্রীসহ অন্যদের তাৎক্ষণিক মুক্তির দাবি জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, আরব লীগও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো সামরিক অভ্যুত্থানের নিন্দা জানিয়েছে। পাশাপাশি রাজবন্দিদের মুক্তি ও সামরিক অপতৎপরতার অবসান দাবি করেছে তারা।

সুদানের দীর্ঘদিনের প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশিরকে ২০১৯ সালে সরিয়ে দেওয়ার পর সামরিক বাহিনী ও বেসামরিক গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগির চুক্তি হয়। এর মধ্য দিয়ে গত দুই বছর ধরে পরিচালিত হয়ে আসছিল পূর্ব আফ্রিকার এ দেশটি। এরই মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে গতকাল অভ্যুত্থান ঘটায় সামরিক নেতৃত্ব।

সূত্র : সমকাল
এন এইচ, ২৬ অক্টোবর

Back to top button