কুমিল্লা

মন্দির-মণ্ডপে হামলার নেপথ্যে কুমিল্লা সিটি মেয়রের ‘সহযোগী’

কুমিল্লা, ২৬ অক্টোবর – কুমিল্লায় ঘটনায় গ্রেপ্তার ইকবাল হোসেন জিজ্ঞাসাবাদে নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের নাম জানিয়েছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেছেন, পূজা মণ্ডপে পবিত্র কুরআন শরীফ রাখার ঘটনায় কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর সহযোগীর নাম উঠে এসেছে।

ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে পূজা মণ্ডপে পবিত্র কুরআন শরিফ রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে পুলিশ তাকে ৭ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, মঈনুদ্দিন আহমেদ বাবু নানুয়া দিঘীরপাড়ে উপস্থিত জনতাকে উসকানি দেওয়া ব্যক্তিদের একজন হিসেবে চিহ্নিত করেছেন ইকবাল। বাবু স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে কুমিল্লা সিটি মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে পরিচিত। বিক্ষুব্ধ জনতা মণ্ডপে জড়ো হলে মঈনুদ্দিন এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান।

মেয়র সাক্কুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমার কোনো ব্যক্তিগত সচিব নেই। তবে বাবু প্রায়ই আমার সঙ্গে থাকে। আমি পুলিশকে ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এই ঘটনায় তার কী ভূমিকা তা খুঁজে বের করতে বলেছি। যদি সে দোষী হয়, তাহলে অবশ্যই তার শাস্তি হওয়া উচিত।’

মেয়র বর্তমানে হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন জিজ্ঞাসাবাদকারী জানান, জেরার সময় ইকবালের আচরণ ছিল জঙ্গিদের মতো একগুঁয়ে।

জিজ্ঞাসাবাদকারী আরও বলেন, ‘তিনি খুবই ধূর্ত এবং খুব ভালো করে জানেন কীভাবে প্রশ্ন এড়াতে হয়।’

কুমিল্লায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আওতায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। মামলাটির তদন্ত করবে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

গতকাল সোমবার কুমিল্লার নানুয়া দিঘীরপাড় পূজা মণ্ডপ থেকে ১২ দিন আগে চুরি হওয়া গদা মণ্ডপের কয়েকশ গজ দূরের একটি ঝোপ থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রাত সাড়ে ১১টায় ইকবালের দেখিয়ে দেওয়া দারোগা বাড়ি মাজার সংলগ্ন বাড়ির সামনের ঝোপ থেকে হনুমানের গদাটি উদ্ধার করে পুলিশের সমন্বিত একটি দল।

ইকবালের বরাত দিয়ে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) এম তানভীর আহমেদ জানান, মণ্ডপ থেকে গদা সরিয়ে নিয়ে আসার পর পানিতে ছুড়ে মেরেছিলেন ইকবাল। গদা ভেসে থাকায় ইকবাল আবারও সেটিকে তুলে এনে কাছাকাছি একটি ঝোপের উদ্দেশে ছুড়ে মারেন।

গদা উদ্ধারের সময় ইকবাল পুলিশের সঙ্গে ছিলেন বলেও জানান তিনি।

নোয়াখালীতে বিএনপি ও জামায়াত নেতা গ্রেপ্তার

১৫ অক্টোবর নোয়াখালীতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল পুলিশ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। যাদের মধ্যে আছেন একজন স্থানীয় জামায়াত ও স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতা।

চাটখিল ও সেনবাগ উপজেলায় রাতভর অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও আপলোড করে এবং পোস্ট দিয়ে হামলায় ইন্ধন জোগানোর অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করা হবে।

নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শহীদুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে জানান, জামায়াত নেতা ও বিজবাগ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হারুনুর রশীদ (৪৮), নোয়াখালী যুব দলের সহকারী ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মো. রায়হান (৩৮) এবং পূর্ব চরমটুয়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফয়সাল বারি চৌধুরীকে (৪৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নোয়াখালী বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান জানান, পুলিশের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। তিনি বলেন, ‘পুলিশ প্রতি রাতে বিএনপি নেতা ও কর্মীদের বাড়িতে অভিযান চালাচ্ছে। গ্রেপ্তারকৃতরা তাণ্ডবের সঙ্গে জড়িত নন। আমরা শিগগির একটি সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করবো।’

পুলিশ নোয়াখালীতে তাণ্ডব বিষয়ে ২৬টি মামলা দায়ের করেছে এবং ১৯২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

কর্মকর্তারা গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় গতকাল ভোরে ২ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে পীরগঞ্জের জেলে পল্লীতে হামলা চালানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, আবদুল্লাহ আল মামুন (২৩) ও ওমর ফারুক (২৪)। তারা পেট্রোল ব্যবহার করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিলেন বলা জানিয়েছে পুলিশ।

রংপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) বিপ্লব কুমার সরকার জানান, ২০১২ থেকে মামুন শিবিরকর্মী হিসেবে কাজ করছেন এবং ফারুক পীরগঞ্জ বাস স্ট্যান্ডের কাছাকাছি একটি মসজিদের ইমামের দায়িত্ব পালন করছেন। ৪টি মামলায় সর্বমোট ৬৬ জন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আরেক ঘটনায় টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের একটি বৌদ্ধ বিহারের অস্থায়ী রান্নাঘরে হামলার অভিযোগে টেকনাফ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মহলং চাকমা সাংবাদিকদের বলেন, কাটাখালীর চাকমা পল্লীর অরণ্য বৌদ্ধ বিহারের নলকূপে কয়েকজন চাকমা তরুণী বাসন মাজছিলেন। এ সময় স্থানীয় নুরুল আমিন, সেলিম, আব্দুস ছালাম, কায়সার, তোফায়েল, মামুনসহ কিছু যুবক তরুণীদের উত্ত্যক্ত করেন। তরুণীরা প্রতিবাদ করলে স্থানীয় কয়েকজন চাকমা যুবক ঘটনাস্থলে আসেন। এর পর দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। এই ঘটনার জের ধরে বিকেলে ৪০ থেকে ৫০ জন বাঙালি বৌদ্ধ বিহারের রান্নাঘরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। তারা ধারালো অস্ত্র, বন্দুক ও লাঠি নিয়ে পাশের চাকমা পল্লীতে হামলা চালায়।

সূত্র : দ্য ডেইলি স্টার
এন এইচ, ২৬ অক্টোবর

Back to top button