ক্রিকেট

কেন সাকিব-নাসুমকে বোলিংয়ে আনলেন না মাহমুদউল্লাহ?

আবুধাবি, ২৫ অক্টোবর – প্রথম ওভারে উইকেট হারানোর পরও ঘুরে দাঁড়িয়ে টাইগার বোলারদের তুলোধুনো করেছিলেন দুই লঙ্কান ব্যাটসম্যান পাথুম নিশানকা-চারিথ আসালাঙ্কা। পাওয়ার প্লে-তে ১ উইকেট হারিয়ে ৫৩ রান তুলে নেন। বাংলাদেশ পাচ্ছিল না উইকেটের দেখা। প্রতিপক্ষের দুই ব্যাটসম্যানের রানের ফোয়ারাতে উঁকি দিচ্ছিল হারের শঙ্কা।

ঠিক তখনই পথ হারা বাংলাদেশকে জোড়া উইকেট নিয়ে স্বস্তি এনে দিয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। ইনিংসের নবম ও নিজের দ্বিতীয় ওভারে বোলিংয়ে এসে মাত্র ১ রান দিয়ে ২ উইকেট তুলে নেন। সাকিবের অসাধারণ নেই ওভারের পর বাংলাদেশ ম্যাচে ফিরলেও শ্রীলঙ্কা আবার ঘুরে দাঁড়ায়।

কিন্তু দল যখন আরেকটি উইকেটের খোঁজে ছিল তখন সাকিবকে বোলিংয়ে আনেননি মাহমুদউল্লাহ। চেষ্টা করেননি প্রথম ওভারে উইকেট পাওয়া নাসুমকে দিয়েও। দুই বাঁহাতিকে ফেরাতে অফস্পিনার আফিফ ও মাহমুদউল্লাহ নিজে বোলিংয়ে আসেন। উল্টো তাদের ৩ ওভারে ৩৬ রান তুলে নেন লঙ্কানরা।

কেন সাকিবকে বোলিংয়ে আনলেন না মাহমুদউল্লাহ? কেন-ই বা নিয়মিত স্পিনার নাসুমের উপর ভরসা রাখতে পারলেন না দলপতি। ম্যাচ শেষে সেই ব্যাখাই দিলেন মুশফিকুর রহিম।

‘এটা আসলে ম্যাচের অংশ। উইকেট খুব ভালো ছিল। বাঁহাতি ব্যাটসম্যানরা সেট ছিল। ইনিংসের শেষদিকেই তো গুরুত্ব অংশগুলো হয়, তখন আমরা চেয়েছিলাম সাকিবকে আনব। কারণ শেষ দিকেই তো কঠিন সময়টা আসে। আর সাকিব চ্যাম্পিয়ন বোলার, সে এই সব মুহুর্তের চাপ সইতে পারবে। আমরা এটা ভেবেছিলাম, এই হারের জন্য সাকিবকে বোলিংয়ে না আনাটা কারণ না। এখানে আমরা সঠিক সময়ে সুযোগ মিস করেছি এটাই কারণ।’

মুশফিক যে সুযোগ মিসের কথা বলেছেন সেটা তৈরি করেছিলেন আফিফ। শ্রীলঙ্কা যখন জয়ের থেকে ৭৬ রানে পিছিয়ে ছিল তখন সীমানায় রাজাপাকশের ক্যাচ ছাড়েন লিটন। সেই সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার পর রাজাপাকশা ৫৩ রান করেন। ওই সুযোগে বাংলাদেশ উইকেট পেলে ফল ভিন্ন হতে পারত বলে মনে করেন মুশফিক।

আফিফ একমাত্র ওভারে ১৫ এবং মাহমুদউল্লাহ প্রথম ওভারে ৬ রান দেওয়ার পর পরের ওভারে ১৬ রান দেন। আফিফের জায়গায় কেন সাকিবকে দিয়ে আরেকটি ওভার করানো হলো না? এমন প্রশ্নের জবাবে মুশফিক বলেছেন,‘সাকিবের জায়গায় যে বোলিং করেছে সে কিন্তু একটা সুযোগ তৈরি করেছে। সেটা কাজে লাগাতে পারলে পরে ডানহাতি ব্যাটসম্যান আসত। তখন সাকিব আরও বেশি কার্যকর হতে পারত। ফল দেখে এগুলো বিচার করাটা আমার কাছে তথাকথিত মনে হয়। আমার মনে হয় সঠিক সময়ে সেরা বোলাররা বোলিং করছে কি না এটা গুরুত্বপূর্ণ।’

সাকিবকে যে কোনো মুহুর্তে ব্যবহার করা যায় জানিয়ে মুশফিক আরও বলেন, ‘সাকিব একজন চ্যাম্পিয়ন বোলার, ডেথ ওভারে বোলিং করতে পারে, শেষ ওভারেও বোলিং করতে পারে। যদি এমন হতো যে শেষ ওভারে প্রয়োজন তখন সে-ই হতো আমাদের বোলার।’

এদিকে সাকিব আজ এক অনন্য রেকর্ডে গড়েছেন। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের সঙ্গে তিনি এখন বিশ্বকাপেও সবার সেরা বোলার। নিজের দ্বিতীয় ওভারেরর প্রথম বলে পাথুম নিশানকাকে বোল্ড করে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শহিদ আফ্রিদিকে ছড়িয়ে সবচেয়ে বেশি উইকেট সংগ্রাহকের তালিকায় নাম লেখান। পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়কের বিশ্বকাপে উইকেট সংখ্যা ৩৯টি।

গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে পাপুয়া নিউ গিনির বিপক্ষে ৪ উইকেট নিয়ে আফ্রিদিকে স্পর্শ করেছিলেন। ২০০৭ থেকে এখন পর্যন্ত ওভার প্রতি ৬.৩৬ রান দিয়ে ২৯ ম্যাচ খেলে ৪১ উইকেট নিয়েছেন সাকিব। এর আগে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে ২ উইকেট নিয়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েছিলেন। ৯১টি ম্যাচ খেলে সর্বোচ্চ ১১৭ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব এখন তার দখলে।

সূত্র : রাইজিংবিডি
এন এইচ, ২৫ অক্টোবর

Back to top button