ক্রিকেট

হাত এত পিচ্ছিল হলে ম্যাচ জিতবে কীভাবে বাংলাদেশ?

আবুধাবি, ২৫ অক্টোবর – বিশ্বকাপ শুরুর আগে নবাগত পাপুয়া নিউগিনি অধিনায়ক আসাদ ভালা খুব গর্ব করে বলেছিলেন, ‘ফিল্ডিং হচ্ছে আমাদের শক্তিশালী দিক। ফিল্ডিং আমাদের গর্ব। আমরা এটা নিয়ে গর্ব করতেই পারি।’

বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচের দিন আসলে তাদের ফিল্ডিং কতটা শক্তিশালী- সেটা দেখা গিয়েছিল। যতগুলো ক্যাচ তুলেছিলেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা- তার কোনোটিকেই তারা মাটিতে পড়তে দেয়নি। যে কোনো মূল্যেই হোক তালুবন্দি করেছে।

বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের অন্তত পাপুয়া নিউগিনির কাছ থেকে ফিল্ডিংটা শিখে আসা দরকার। অনায়াসে ক্যাচ ছাড়া এবং নিশ্চিত জয়ের ম্যাচ হেরে যাওয়ার রেকর্ড যে ভুরি ভুরি টাইগারদের।

আজ আরব আমিরাতের শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে যেমন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ক্যাচ ছাড়েন লিটন কুমার দাস। দুটি ক্যাচই তার হাত ফসকে মাটিতে পড়ে যায়।

ফল যা হওয়ার তাই হলো, দুই লঙ্কান ব্যাটার চারিথা আশালঙ্কা এবং ভানুকা রাজাপাকসে মিলে বাংলাদেশের হাত থেকে ম্যাচ কেড়ে নিলো। ১৭২ রান তাড়া করে ৭ বল হাতে রেখেই ৫ উইকেটে জয় নিয়ে মাঠ চেড়েছে লঙ্কানরা।

অথচ এই ম্যাচে জিততে পারতো বাংলাদেশই। প্রথমে ব্যাট করে স্কোর বোর্ডে ১৭১ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। জয়ের জন্য এই ১৭১ রান সত্যিই খুব চ্যালেঞ্জিং ছিল। বাংলাদেশ তো জয় পাচ্ছেই, এমনটা ধরে নিয়েছিল অনেকেই।

কিন্তু লিটন এমন ম্যাচও হাতছাড়া করে দিলেন শিশুসুলভ ফিল্ডিংয়ে। যদিও দলের মধ্যে লিটন একজন ভালো ফিল্ডার হিসেবেই পরিচিত। এর আগে অনেক ম্যাচেই বেশ গুরুত্বপূর্ণ ক্যাচ তার হাতে ধরা পড়েছিল।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আজকের এই ম্যাচটিতে লিটনের কী হয়েছিল, কারও জানা নেই। লঙ্কানদের জিতিয়েছেন যে দুই ব্যাটার, তাদের দু’জনেরই ক্যাচ উড়ে গিয়েছিল লিটনের হাতে। চারিথা আশালঙ্কা এবং ভানুকা রাজাপকসে- এ দু’জনই দুর্দান্ত ব্যাট করছিলেন। দু’জনকেই জীবন দেন লিটন।

প্রথমবারের ঘটনা ১৩তম ওভার। আফিফ হোসেন ধ্রুব করছিলেন বল। তার করা তৃতীয় বলেই স্লগ করতে চেয়েছিলেন স্কয়ার লেগের ওপর দিয়ে। বল উঠে যায় একেবারে বাউন্ডারির ওপর রাজাপাকসের। একেবারে লিটনের হাতে। কিন্তু তার হাতের ফাঁক গলে সেটি পড়ে যায় মাটিতে। রাজাপাকসে তখন ব্যাট করছিলেন ১২ বলে ১৮ রান নিয়ে। শেষ পর্যন্ত তিনি করেন ৩১ বলে ৫৩ রান।

পরেরবার বোলার ছিলেন মোস্তাফিজ। তিনি বল করছিলেন ১৭তম ওভারের। এবারও তৃতীয় বলে আশালঙ্কা ব্যাট করতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন সুইপার কভারে। কিন্তু এবারও সেই লিটন এবং এবারও ক্যাচ ছুটে গেলো তার হাত থেকে। আশালঙ্কা তখন ছিলেন ৩৭ বলে ৬৩ রানে। শেষ পর্যন্ত ৪৯ বলে ৮০ রানে অপরাজিত থেকে ম্যাচ শেষ করেই মাঠ ছাড়েন তিনি।

এই দুটি ক্যাচ যদি ধরতে পারতেন লিটন এবং ওই সময় যদি রাজাপাকসে এবং আশালঙ্কার উইকেট পড়তো, তাহলে নিশ্চিত বিপতে পড়তো লঙ্কানরা। তাতে বাংলাদেশের জয়ের রাস্তাটাও পরিষ্কার হয়ে যেতো। দুই ক্যাচ মিসের আগে যে ম্যাচে ভালোভাবেই ছিল টাইগাররা।

সূত্র : বাংলাদেশ জার্নাল
এন এইচ, ২৫ অক্টোবর

Back to top button