জাতীয়

পীরগঞ্জে সহিংসতায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করলেন সৈকত ও রবিউল

রংপুর, ২৪ অক্টোবর – রংপুরের পীরগঞ্জে হিন্দুপল্লিতে হামলা, অগ্নিসংযোগের ঘটনার মূল উসকানিদাতা ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কৃত সৈকত মণ্ডল ও মসজিদের ইমাম রবিউল ইসলামকে রোববার সন্ধ্যার পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে তাঁরা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দেলোয়ার হোসেনের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে পীরগঞ্জে সহিংস ঘটনার সঙ্গে তাঁদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।

একই সঙ্গে হিন্দুবাড়িতে হামলা, ভাঙচুরের মামলায় ৩৭ জন আসামির তিন দিনের রিমান্ড শেষে তাঁদেরও রোববার সন্ধ্যার পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে হিন্দুপল্লিতে হামলায় সৈকত মণ্ডলের সম্পৃক্ততার জের ধরে সমালোচনার মুখে রংপুর কারমাইকেল কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার বিকেলে রংপুর মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি শফিউর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক শেখ আসিফ হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় বিজ্ঞপ্তিতে ওই কমিটি বিলুপ্তের কথা বলা হয়েছে।

রোববার সকালে পীরগঞ্জ থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে র‌্যাব-১৩–এর ডিএডি আবদুল আজিজ একটি মামলা করেন। এই মামলার আসামি সৈকত মণ্ডল। এ ছাড়া হিন্দুবাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের মামলায় গ্রেপ্তার মসজিদের ইমাম রবিউল ইসলামকে আসামি করা হয়েছে।

কারমাইকেল কলেজের দর্শন বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ থেকে সদ্য বহিষ্কৃত সৈকত মণ্ডল এবং পীরগঞ্জের রামনাথপুর ইউনিয়নের বটেরহাট মসজিদের ইমাম রবিউল ইসলামকে সন্ধ্যায় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দেলোয়ার হোসেনের আদালতে নেওয়া হয়।

পীরগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার কামরুজ্জামান জানিয়েছেন, পীরগঞ্জে সহিংসতার ঘটনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে পৃথক তিনটি মামলা এবং একটি অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের মামলায় এখন পর্যন্ত ৬৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি আরও বলেন, র‌্যাবের হাতে আটক সৈকত ও রবিউল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে পীরগঞ্জে সহিংস ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। এর বেশি কিছু মন্তব্য করেননি।

সূত্র: প্রথম আলো
এম ইউ/২৪ অক্টোবর ২০২১

Back to top button