ক্রিকেট

লড়াইটা কোহলি-বাবরেরও

দুবাই, ২৪ অক্টোবর – দীর্ঘদিন পর আবার ক্রিকেটের মাঠে ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ। ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচ মানেই টানটান উত্তেজনা, তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা, বিনা যুদ্ধে এক ইঞ্চি জমি না ছাড়ার মনোভাব এবং দুই দেশের কোটি কোটি ক্রিকেট ভক্তের আবেগের বিস্ফোরণ। সেজন্যই এই ম্যাচের গুরুত্ব ও তাৎপর্য আলাদা।

বিশ্বকাপের আসরে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই স্নায়ুর লড়াই। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলের মুখোমুখি সাক্ষাতে যারা যত বেশি মানসিক দৃঢ়তা দেখাতে সক্ষম হবে, তারাই হাসবে শেষ হাসি। ভারত-পাকিস্তান দুই চিরপ্রতীদ্বন্দ্বীর লড়াই তো বটেই, তাছাড়াও দুই দলের দুই মহাতারকা ও অধিনায়ক বিরাট কোহলি ও বাবর আজমের ব্যাটের লড়াই দেখার অপেক্ষায় মুখিয়ে রয়েছে ক্রিকেটপ্রেমীরা। মহারণের আগে এক ঝলকে দেখে নিন কোহলি বনাম বাবরের লড়াইয়ে এগিয়ে কে?

বিগত কয়েক বছরে একাধিক ক্ষেত্রে কোহলির সঙ্গে জমজমাট লড়াই হয়েছে বাবরের। অন্যদিকে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কোহলির ব্যাটে রানের খরা দেখা গিয়েছে। কিন্তু বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে কোহলির পারফরম্যান্স ঈর্ষণীয়।

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে কোহলি ৮৪ ইনিংসে ৫২.৬৫ গড়ে করেছেন ৩১৫৯ রান। তার স্ট্রাইক রেটও অসাধারণ, ১৩৯.০৪। যদিও আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এখনো সেঞ্চুরির দেখা পাননি তিনি। তবে হাফ সেঞ্চুরি রয়েছে ২৮ টি। আর রান তাড়া করায় কোহলি ৩৭ ইনিংসে ৮৩.৭৬ গড়ে করেছেন ১৭৫৯ রান। যেখানে রান তাড়া করায় তার স্ট্রাইক রেট-১৩৭.২। হাফ সেঞ্চুরি ১৮টি।

অপরদিকে প্রথমে ব্যাট করার রেকর্ডের দিকে লক্ষ করলে দেখা যায়, কোহলি ৪৭ ইনিংসে ৩৫.৮৯ গড়ে করেছেন ১৪০০ রান। যেখানে তার স্ট্রাইক রেট ১৪১.৪১ এবং হাফ সেঞ্চুরি ১০টি । ২০২১ ক্রিকেট মৌসুমে কোহলি মোট ৫টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলেছেন। যার মধ্যে তিনি ৪৬.২ গড়ে মোট ২৩১ রান সংগ্রহ করেছেন। ফলে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ক্ষেত্রে ৪৬-এর বেশি গড় কিন্তু খুবই ভালো। এই ৫ ইনিংসে মাত্র ২ বার আউট হয়েছেন কোহলি। ১৪৭.১ স্ট্রাইক রেটে ২৩১ রান সংগ্রহ করেছেন ভারত অধিনায়ক। ৩টি অর্ধশতকসহ সর্বোচ্চ এক ইনিংসে ৮০ রান সংগ্রহ করেছেন কোহলি।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে বাবর ৫২ ইনিংসে ৪৭.৩২ গড়ে করেছেন ২০৩৫ রান। যেখানে তার স্ট্রাইক রেট ১২৯.৭ এবং সেঞ্চুরি করেছেন একটি আর হাফ সেঞ্চুরি ১৮টি। রান তাড়া করায় বাবর ২৩ ইনিংসে ৪৫.৮৯ গড়ে করেছেন ৮৭২ রান। স্ট্রাইক রেট ১৩০.৯৩ এবং সেঞ্চুরি রয়েছে একটি আর হাফ সেঞ্চুরি ৬টি। আবার প্রথমে ব্যাট করার রেকর্ডের দিকে লক্ষ করলে দেখা যায় বাবর ২৯ ইনিংসে ৪৮.৪৫ গড়ে করেছেন ১১৬৩ রান। স্ট্রাইক রেট ১২৮.৭৯ এবং হাফ সেঞ্চুরি ১২টি।

২০২১ মৌসুমে বাবর মোট ১৪টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন। যেখানে তিনি ৩৭.৪ গড়ে মোট ৫২৩ রান সংগ্রহ করেছে। প্রত্যেকবারই আউট হয়েছেন বাবর। এই সময়ে ১৩২.৭ স্ট্রাইক রেট। চলতি বছরে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এক ইনিংসে তার সর্বোচ্চ সংগ্রহ ১২২ রান। কোহলির থেকে অনেক বেশি ম্যাচ খেলেছেন বাবর।

তাছাড়াও কোহলির (২৭ ইনিংস) চেয়ে এক ইনিংস কম খেলে ১০০০ রানের মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলেন বাবর। ২ হাজার রানের মাইলফলকও কোহলির (৫৬) চেয়ে কম খেলে স্পর্শ করেন বাবর (৫২)।

সম্প্রতি কোহলিকে পেছনে ফেলে ওয়ানডের শীর্ষ ব্যাটসম্যানও হয়েছেন পাকিস্তানের অধিনায়ক। এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথমবার ভারতকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ার সুযোগ বাবরের। দুই দেশের লড়াইয়ে উত্তেজনার মাত্রা তাই বাড়িয়ে দিচ্ছে কোহলি-বাবর দ্বৈরথ।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নিরিখে বিচার করলে ভারতের ধারেকাছে নেই পাকিস্তান। তবে গত ১০ বছরে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ভারতের জয়ের হার যেখানে ৬৩.৫ শতাংশ, সেখানে খুব বেশি পিছিয়ে নেই পাকিস্তান। তারা জিতেছে ৫৯.৭ শতাংশ ম্যাচ।

ভারতীয় ক্রিকেট দল এই সময়ে ১১৫ টি-টোয়েন্টি খেলেছে। তার মধ্যে জিতেছে ৭৩টি। ভারতকে হারতে হয়েছে ৩৭টি ম্যাচ। মোট ২টি ম্যাচ টাই হয়ে গিয়েছে। পরিত্যক্ত হয়েছে ৩টি ম্যাচ। আর পাকিস্তান মোট ১২৯টি ম্যাচ খেলেছে। তারা ভারতের থেকে বেশি ম্যাচ জিতেছে, ৭৭টি। হার ৪৫ ম্যাচ। দুটি টাই ও পাঁচটি পরিত্যক্ত।

সূত্র : রাইজিংবিডি
এন এইচ, ২৪ অক্টোবর

Back to top button