ক্রিকেট

আমিরাতে বিশ্বকাপ ভেন্যুর পিচ থেকে প্রত্যাশা কী?

আবু ধাবি, ২১ অক্টোবর – টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভ শুরু হচ্ছে। সবগুলো ম্যাচ সংযুক্ত আরব আমিরাতের তিনটি ভেন্যু আবু ধাবি, দুবাই ও শারজায়। এখানেই কিছুদিন আগে হয়েছে আইপিএলের ৩১টি ম্যাচ। বিশ্বকাপে এই তিন পিচ থেকে কী প্রত্যাশা করা যেতে পারে, সেই ধারণা পাওয়া যেতে পারে ভারতের ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট লিগের এই প্রতিযোগিতা থেকে।

শারজা

আইপিএলের আমিরাত পর্ব শুরু হওয়ার ঠিক আগে শারজার পিচগুলি তৈরি হয়েছে। অতীতে এই ভেন্যু ব্যাটিং স্বর্গ ছিল না। ২০২০ সালের আইপিএলে দলগুলো যেখানে প্রতি ১২ বলে একটি করে ছক্কা হাঁকিয়েছে, এই বছর ছয় হয়েছে গড়ে ২৩ বলে। সব মিলিয়ে এই আইপিএলে ১০ ম্যাচে ৯৮ ছক্কা হয়েছে।

এই ধীরগতির পিচে বোলাররা তাদের বৈচিত্রময় গতি দিয়ে বেশি সাফল্য পেয়েছে। সিমার ও স্পিনারদের ইকোনমি রেট প্রায় কাছাকাছি, যথাক্রমে ৬.৯২ ও ৬.৭৯। পেস বোলারদের স্ট্রাইক রেট তুলনামূলক ভালো, তারা প্রতি ১৭ বলে নিয়েছে একটি করে উইকেট, যেখানে স্পিনাররা পেয়েছে ২২ বলে।

নিউ জিল্যান্ড, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ড সুপার টুয়েলভে দুটি করে ম্যাচ খেলবে শারজায়। আইপিএলের মতোই পিচ একই আচরণ করলে পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোয়াড এই কন্ডিশনের সেরা ব্যবহার করতে পারবে।

ধারণা করা হচ্ছে দুই দলই তিন স্পিনার খেলাবে এবং তাদের ব্যাটিং লাইন আপ পাওয়ার হিটার না থাকলেও স্বস্তি খুঁজে পাবে। স্কোর ১৮০-২০০’র চেয়ে ১৪০-১৬০ এর মধ্যে থাকবে।

দুবাই

গত কয়েক বছরে দুবাইয়ের পিচগুলি খুব বেশি পাল্টায়নি। কিছু পিচ ধীরগতির হলেও পেসারদের সহায়তা করবে। আইপিএলের গত দুই মৌসুমে গড় দলীয় স্কোর ছিল ১৫০-১৬০ এর মধ্যে। সিমাররা ছিল সবচেয়ে বেশি সফল, প্রতি উইকেট তারা পেয়েছে ২৭ রানে, স্পিনাররা ৩২ রানে।

মানে দুবাইতে তিন ফাস্ট বোলারদের দেখা যেতে পারে, অন্তত একজন থাকবেন যিনি গতির ঝড় তুলতে পারেন।

আরেকটি বিষয় দুবাইয়ে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে, পিচের অবস্থান। স্কয়ারের দিকে পিচগুলির এক দিকে বাউন্ডারি ছোট, তাতে করে ব্যাটসম্যান ও বোলারদের কৌশলী লড়াই হবে। ওই বাউন্ডারিতে চোখ রেখে দুবাইয়ে ডানহাতি-বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের সমন্বয় করতে হবে। আর বোলিং দলগুলোকে ভাবতে হবে কোন দিক থেকে স্পিনারদের বল করাবে।

দুবাইয়ে ভারত চারটি ম্যাচ খেলবে এবং আইপিএলে খেলার সুবাদে এই পিচ সম্পর্কে ভালো জানাশোনা হয়েছে তাদের। ভালো ব্যাটিং ও পেস বোলিং কন্ডিশন মাথায় রেখে তারা তাদের স্কোয়াড তৈরি করেছে।

আবু ধাবি

আবু ধাবি, বিশ্বকাপের এই আসরে সর্বোচ্চ রান দেখা যেতে পারে এই ভেন্যুতেই। কন্ডিশন চমৎকার ব্যাটিং উপযোগী। কিন্তু তিন ভেন্যুর মধ্যে এখানে বাউন্ডারি একটু বড়, তাই বোলাররা ভূমিকা রাখতে পারবে। স্পিনারদের কাছ থেকে তেমন সহায়তা পাওয়া যাবে না। তাদের প্রতি উইকেট শিকার গড়ে ৩৩ বলে, আর পেসাররা ২৯ বলে।

সন্ধ্যায় অনেক শিশির পড়ে বলে ওই সময়ের ম্যাচের সঙ্গে বিকালের ম্যাচ হবে ভিন্ন ধরনের। শিশিরের কারণে আবু ধাবিতে রাতের বেলা পরে ব্যাটিং করা দলই সুবিধা পাবে বেশি।

অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ এখানে দুটি করে ম্যাচ খেলবে। আফগানিস্তান খেলবে তিন ম্যাচ, যার দুটি বিকালে। কন্ডিশন যে ধরনের, তাতে করে কোনো দলই পাবে না বড় ধরনের সুবিধা।

টস জয়, প্রথমে ফিল্ডিং, ম্যাচ জয়

অক্টোবর-নভেম্বরে হচ্ছে বিশ্বকাপ, যখন আমিরাতের আবহাওয়া ঠাণ্ডা হতে শুরু করেছে।

গত বছর সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত হওয়া টুর্নামেন্ট থেকে ধারণা নেওয়া যেতে পারে। দুই অর্ধে ভিন্ন গল্প রচিত হয়েছে আমিরাতে। প্রথম ভাগে কন্ডিশন ছিল গরম এবং শিশির ছিল কম, প্রথমে ব্যাট করা দল জিতেছে ৭৭ শতাংশ ম্যাচ।

আর দ্বিতীয় ভাগ, যে সময়ে এবারের বিশ্বকাপ খেলা হচ্ছে। ওইবার রান তাড়া করা দল জিতেছিল ৭৭ শতাংশ ম্যাচ। বিশেষ করে আবু ধাবি ও শারজায় এমনটা দেখা গেছে বেশি। এই দুটি ভেন্যুতে ১৮ ম্যাচের ১৫টি জিতেছে পরে ব্যাট করা দল।

সূত্র : রাইজিংবিডি
এন এইচ, ২১ অক্টোবর

Back to top button