সাজ-সজ্জা

বারান্দার কোণে ছোট্ট পুকুর

ছেলেবেলায় খেলার ছলে পুকুর বানিয়েছে। ছোট্ট সেই পুকুরের পানিতে মাছ ছেড়ে দেয়া, কচুরিপানা ছেড়ে দেয়া আরও কতোকিছুই না করতেন। সেই থেকেই একটা পুকুরে শাপলা ফোটানোর স্বপ্ন বুনে এসেছেন। কিন্তু শহরের এই যান্ত্রিকতা আর ইট-কাঠের চার দেয়ালের ভেতরে যেটুকু জায়গা থাকে তাতে নিজেরই থাকা দায়। তাই পুকুরের স্বপ্নটা কেবল মাত্র স্বপ্নই থেকে যায়।

খুব সহজেই ঘরের কোণের বারান্দাতেই ছোট্ট একটা পুকুর বানিয়ে নিতে পারেন। এই পুকুরে শাপলা থাকবে, পুকুরের ধার জুড়ে কচু গাছ, ঘাস থাকবে, আবার থাকবে ছোট ছোট মাছও। কি বিশ্বাস হচ্ছে না তো? দেখে নিন তাহলে খুব সহজেই ঘরের বারান্দায় কীভাবে ছোট্ট একটি পুকুর বানানো সম্ভব।

যা যা লাগবে
প্লাস্টিকের বা মাটির চওড়া মুখের একটি কন্টেইনার একটি চেপ্টা টব এবং একটি ছোট লম্বা আকৃতির টব শাপলা, কচুরিপানা, কাদা-মাটিতে জন্মে এমন ঘাস ও কচু গাছ, পানি, ছোট পাথর গোল্ড ফিশ বা মশা খেকো যেকোনো ছোট মাছ।

যেভাবে বানাবেন
ছোট্ট পুকুর শুকনো মাটির সঙ্গে সামান্য জৈব সার মিশিয়ে নিন। এবার চেপ্টা ও লম্বা আকৃতির টবে মাটি ভরে নিন। চেপ্টা টবে শাপলা গাছ লাগিয়ে দিন। এবার লম্বা টবটিতে কচু গাছ অথবা কাঁদা মাটির ঘাস বুনে দিন। এবার চওড়া মুখের কন্টেইনারটি ভালো করে পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। কন্টেইনারের অর্ধেকের নিচে ছোট ছোট পাথর দিয়ে ভরে ফেলুন। কন্টেইনারের অর্ধেক পর্যন্ত পানি দিয়ে ভরে দিতে হবে।

এবার কন্টেইনারের পাথরের ওপর সামনের দিকে শাপলার টবটি রাখুন এবং পেছনে লম্বা টবটি রাখুন। তারপর পুরো কন্টেইনারটি পানি দিয়ে ভরে দিন। এবার পানিতে কয়েকটি গোল্ড ফিশ ছেড়ে দিন। তাহলে মশার উপদ্রব থেকে রক্ষা পাবেন। সব শেষে পানিতে কিছু ছোট কচুরীপানা গাছ ভাসিয়ে দিন। এগুলো নিজেরাই বংশবৃদ্ধি করে নিবে। ব্যাস হয়ে গেলো আপনার স্বপ্নের ছোট্ট একটি পুকুর।

এরপর কিছুদিন অপেক্ষা করুন। শাপলা গাছ গুলো বড় হয়ে শাপলা ফুটবে এবং কন্টেইনারের কিনার দিয়ে পুকুর পাড়ের মতো কচু গাছ ও ঘাস বড় হবে। ছোট্ট পুকুরের যত্ন পর্যাপ্ত আলো, বাতাস ও রোদ আছে এমন বারান্দায় রাখুন কন্টেইনারটি। সম্ভব হলে মাঝে মাঝে ছাদে রেখে দিন কয়েকদিনের জন্য। পাতা মরে পচে গেলে পানি নষ্ট হয়ে যাবে। তাই সব সময় মরা পাতা ফেলে দিতে হবে। শখ পুরণের সঙ্গে বাড়ির সৌন্দর্য বর্ধনে এমন একটি পুকুরের জুড়ি নেই।

এম ইউ

Back to top button