জাতীয়

২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে শাহবাগ ছাড়লো আন্দোলনকারীরা

ঢাকা, ১৮ অক্টোবর – কুমিল্লা ও রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পূজামণ্ডপে হামলা-ভাঙচুর এবং হিন্দুদের বাড়িতে আগুন দেয়ার সাথে সংশ্লিষ্টদের শাস্তি নিশ্চিতসহ দাবি আদায়ের জন্য ২৪ ঘণ্টা আল্টিমেটাম দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি অংশ।

সোমবার বেলা সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করে রাখেন তারা। অবরোধের কারণে শাহবাগ থেকে পল্টন, সায়েন্স ল্যাব, বাংলামোটর ও টিএসসি অভিমুখী সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে ‘সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় করতে হবে’, ‘মন্দিরে হামলা কেনো, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো’, ‘তুমি কে? আমি কে? বাঙালি বাঙালি’, ‘দুনিয়ার হিন্দু, এক হও এক হও’, ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নেই’ ইত্যাদি বিক্ষুব্ধ শ্লোগান দিতে থাকেন তারা।

আন্দোলনের সমন্বয়ক ও জগন্নাথ হল ছাত্র সংসদের সদ্যসাবেক সাহিত্য সম্পাদক জয়দ্বীপ দত্ত বলেন, আমাদের সাত দফা দাবি রয়েছে। ইতোমধ্যে গণমাধ্যমে আমরা তা জানিয়েছি। আমাদের এ দাবিগুলোর প্রতি বিভিন্ন সংগঠন, শিক্ষক ও প্রগতিশীল সমাজ সংহতি প্রকাশ করেছেন। তাই আমাদের দাবি মেনে নিতে আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে অনুরোধ করছি। সেজন্য আমরা ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছি। যদি আমাদের দাবি মেনে না নেয়া হয় এবং কোনো ধরনের আশ্বাস দেয়া না হয়, তাহলে আমরা পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবো।

অবরোধ ও দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করে সনাতনী বিদ্যার্থী সংসদের সভাপতি ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কুশল বরণ চক্রবর্তী বলেন, আফগানিস্তানে যেহেতু তালিবান ক্ষমতায় আছে। তাই এ দেশের মৌলবাদী শক্তিগুলো ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে। আজ মৌলবাদী শক্তিগুলো ঘাপটি মেরে আছে। মৌলবাদী এই অপশক্তিগুলোর বিষদাঁত উপড়ে না ফেলতে পারলে তারা শিকড় গেঁড়ে বসবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের চেয়ারম্যান ললিতা মণ্ডল বলেন, যে কোনো দেশে সংখ্যালঘু হয়ে জন্মগ্রহণ করা পাপ। কিন্তু আমাদের দেশে একে একে আমরা যেভাবে নিগৃহীত হচ্ছি, তা আমাদেরকে খুব জ্বালাতন করছে। আমরা আর সহ্য করতে পারছি না।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, মা (প্রধানমন্ত্রী) আমরা সকলে আপনার জন্য প্রার্থনা করি। অনেকে আপনার বদনাম ও দুর্নাম করতে চায়। কিন্তু আমরা জানি আপনি কে! আপনি আমাদের মায়ের সমতুল্য। আপনি চাইলে সব সম্ভব। অতিদ্রুত হামলাকারী ও দোষীদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাই।

তাদের দাবিগুলো হলো:

* হামলার শিকার মন্দিরগুলো অতি শিগগিরই প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে।

* বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাটের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

* ধর্ষণ ও হত্যার শিকার পরিবারগুলোকে স্থায়ী ক্ষতিপূরণ দিতে হবে; দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

* জাতীয় সংসদে আইন প্রয়ণের মাধ্যমে মন্দির ও সংখ্যালঘুদের বাসাবাড়িতে সাম্প্রদায়িক হামলার দায়ে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

* সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় ও সংখ্যালঘু কমিশন গঠন করতে হবে।

* হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের আধুনিকায়ন করে ফাউন্ডেশনে উন্নীত করতে হবে।

* জাতীয় বাজেটে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য জিডিপির ১৫% বরাদ্দ রাখতে হবে।

সূত্র : বাংলাদেশ জার্নাল
এন এইচ, ১৮ অক্টোবর

Back to top button