ক্রিকেট

কেন বিপ্লবকে দেশে ফেরাল বিসিবি?

ঢাকা, ১২ অক্টোবর – শনিবার রাতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) হঠাৎ করে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিভ্রান্তি ছড়ায় দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দলে স্ট্যান্ডবাই থাকা পেসার রুবেল হোসেনকে অতিরিক্ত খেলোয়াড় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করলেও কোথাও নেই আমিনুল ইসলাম বিপ্লবের নাম। এই লেগ স্পিনারকেও স্ট্যান্ডবাই হিসেবে নেওয়া হয়েছিল দলের সঙ্গে। উড়ে গিয়েছিলেন ওমান। কিন্তু সেখানেই শেষ তার বিশ্বকাপের মিশন! ওমানে থাকা নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেছিলেন, ‘বিপ্লবকে প্রয়োজন মনে হচ্ছে না, তাই তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।’

আইসিসির বেধে দেওয়া নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি দল ১৫ জনের স্কোয়াড গড়তে হবে। এরা থাকবেন বিশ্ব ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থার খরচে। এর বাইরেও অতিরিক্ত ক্রিকেটার হিসেবে স্ট্যান্ডবাইয়ের তালিকায় খেলোয়াড়দের রাখতে পারবে দলগুলো, তবে খরচ বহন করতে হবে সংশ্লিষ্ট বোর্ডগুলোকে। বিসিবিও রুবেলকে অতিরিক্ত হিসেবে রেখেছে, কিন্তু বিপ্লবকে ফেরত পাঠিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে কেন বিপ্লবকে দেশে পাঠানো হলো। কিংবা কেনই তাকে স্ট্যান্ডবাই হিসেবে নেওয়া হয়েছিল। সেসব নিয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নুর কাছে। শুরুতে দল নিয়ে কথা বলতে রাজি হলেও বিপ্লবের প্রসঙ্গ আসতেই মুখে কুলুপ এঁটেছেন তিনি। এ বিষয়ে কোনো কথাই বলতে রাজি করানো যায়নি তাকে।

বলা হচ্ছে, পেসারদের ইনজুরি বিবেচনায় রুবেলকে রেখে দেওয়া হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, স্পিনাররা কি ইনজুরিতে পড়েন না? তার থেকেও বড় একটি বিষয় ভাবাচ্ছে, তা হলো বিশ্বকাপ প্রথম রাউন্ডের তিন প্রতিপক্ষ ওমান, স্কটল্যান্ড ও পাপুয়া নিউ গিনির স্কোয়াডে রয়েছে লেগ স্পিনার। এই পর্ব উতরে সুপার টুয়েলভে উঠলে ভারত, পাকিস্তান, নিউ জিল্যান্ড ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে লড়তে হবে। এই দেশগুলোর স্কোয়াডেও আছে প্রতিষ্ঠিত লেগ স্পিনার। কোনো দলে একজন আবার কোনো দলে দুজন। বিপ্লবকে রেখে দিয়ে অনুশীলন করলে ব্যাটসম্যানদের জন্যই সুবিধা হতো। নেটে লেগ স্পিনে নিজেদের ঝালিয়ে নিয়ে রশিদ খান, শাদাব খান, রাহুল চাহার কিংবা ইশ সোধিদের মতো লেগিদের মোকাবেলা করতে পারতেন শক্ত হাতেই। অর্থাৎ লেগিদের বিপক্ষে খেলার অনুশীলনটা হয়ে যেত।

এ ছাড়া নাসুম আহমেদ-শেখ মেহেদীদের ব্যাকআপ হিসেবেও থাকতে পারতেন বিপ্লব। কিন্তু সেসব যেন ভাবনাতেই নেই। বিপ্লব দেশের হয়ে ৭টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন। এই ম্যাচগুলোতে ওভার প্রতি ৭.৬৫ রান দিয়ে ১০ উইকেট পেয়েছেন। সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নিয়েছেন ৩৪ রান দিয়ে। প্রত্যেকটি দেশই নিজ খরচে একাধিক ক্রিকেটারকে স্ট্যান্ডবাই হিসেবে রেখেছে। ভারত আইপিএলে ভালো করা পেসার, স্পিনারদের রেখে দিয়েছে দলে সঙ্গে। পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কাও একই কাজ করেছে। সেই সুযোগ থাকার পরও কাজে লাগায়নি বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট। শেষ পর্যন্ত এ জন্য ভুগতে হয় কী না তা বলে দেবে সময়।

সূত্র : রাইজিংবিডি
এন এইচ, ১২ অক্টোবর

Back to top button