জাতীয়

১৮ জন সকাল থেকে নিখোঁজ, রাতে জানা গেল ডিবি হেফাজতে

ঢাকা, ৮ অক্টোবর – ঢাকার বারিধারা ডিওএইচএস এর একটি কোম্পানিতে কাজ করতেন ১৮ জন কর্মী। বৃহস্পতিবার সকালে তারা গাজীপুরের ‍পূবাইলের একটি রিসোর্টে যাওয়ার উদ্দেশে বের হন। কিন্তু রিসোর্টে না পৌছনোর খবর আর মোবাইলে ফোন করে করে না ধরায় কোনো খোঁজ পাচ্ছিলেন না তাদের স্বজনরা। এদিকে এ ঘটনায় অনেকের স্বজন ​বিভিন্ন থানায়ও গিয়েছিলেন।

অবশেষে রাতে জানা গেল, তাদের আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। রাত পৌনে ১০টার দিকে আটকদের স্বজনরাও মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ের অভ্যর্থনা কক্ষে উপস্থিত ছিলেন।

গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে, বারিধারা ডিওএইচএসএর নিউ মিরাকল ফিনটেক বিডি নামে একটি কোম্পানিতে কাজ করেন তারা। যেটি অনুমোদনহীনভাবে অনলাইনে সুদের ব্যবসা চালাচ্ছিল। এজন্য তাদের আটক করে যাচাই করা হচ্ছে।

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক প্রতারণার বিরুদ্ধে অভিযানে নেমে অনলাইনে লোক ঠকানোর নানা ব্যবসার খবর পেয়ে তদন্তের জাল আরও বাড়িয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে একটি বাসে (কোস্টারে) করে তারা পূবাইলের অরণ্যবাস রিসোর্টের উদ্দেশে রওনা হন। কিন্তু তারা না পৌঁছায় স্বজনরা খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন।

সেই রিসোর্টের মালিক মাহাবুবুর রহমান জানান, ওই কোম্পানির কর্মীরা দিনভর থাকার বুকিং দিয়েছিল। রাতে থাকার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছিল। তাদের খাবার প্রস্তুত ছিল, রুমগুলোও খালি ছিল। কিন্তু তারা রিসোর্টে আসেননি।

এদিকে নিখোঁজদের একজন দেবাশীষ দে’র বাবা উদ্বিগ্ন হয়ে আদাবর থানায় যান অভিযোগ দিতে। আদাবর থানার ডিউটি অফিসার এসআই মাধব চৌধুরী বলেন, ছেলে নিখোঁজের অভিযোগ নিয়ে দেবাশীষের বাবা দুলাল চন্দ্র দে থানায় এসেছিলেন। তাকে ঘটনাস্থলে থানায় যেতে বলা হয়েছে।

নিখোঁজদের একজন জান্নাতুল ফেরদৌস ইতির বাগদত্তা শারিদ হাসান জানান, সকাল ৭টায় তিনি গিয়ে ইতিকে অফিসের সামনে রেখে এসেছিলেন। এর ঘণ্টাখানেক পরে কথা হয়। তখন ইতি জানিয়েছিলেন তারা উত্তরায়, পূবাইলের পথে গাড়ি চলছে। এরপর সারাদিন আর খোঁজ-খবর নেই।

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) এ কে এম হাফিজ আক্তার বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯ টায় তাদের ঠিক কী কারণে আটক করা হয় সে বিষয়ে জানান।

তিনি বলেন, এরা অনলাইন সুদের ব্যবসা করে। চায়নার মালিক সবাই। তারা বাংলাদেশিদের ব্যবহার করে ২ হাজার টাকা ঋণ দিয়ে একমাসে ৪ হাজার টাকা নেয়। মাইক্রোক্রেডিট দেখিয়ে অনলাইন প্লাটফর্মে অনুমোদিত এই ব্যবসা বিদেশিরা এসে মহজনী ব্যবসার মতো করছে। এটার কোনো অনুমোদন নেই।

তাদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে- জানতে চাইলে হাফিজ বলেন, যাদের আনা হয়েছে, তাদের যাচাইবাছাই করা হচ্ছে। যারা জড়িত নয়, তাদের ছেড়ে দিয়ে মূল মালিক যারা, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল
এম ইউ/০৮ অক্টোবর ২০২১

Back to top button