ইসলাম

কোরআনে মানবজাতিকে সম্বোধন করে যেসব বিষয়ে বলা হয়েছে

কোরআনে কারিম আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে সমগ্র মানবজাতির জন্য হেদায়েত, রহমত ও শিফা। এটা মানবজাতির দিক-নির্দেশনাও বটে। কোরআনে কারিমে আল্লাহতায়ালা মানবজাতিকে সম্বোধন করে আহবান করছেন তার পথে চলার। এ ছাড়া বলা হয়েছে-

১। হে মানুষ! তোমরা তোমাদের রবের ইবাদত করো, যিনি সৃষ্টি করেছেন তোমাদেরকে এবং তোমাদের পূর্বে যারা ছিল তাদেরকে। যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করো। -সূরা বাকারা: ২১

২। হে মানুষ! জমিনে যা রয়েছে, তা থেকে হালাল পবিত্র বস্তু আহার করো এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। নিশ্চয় সে তোমাদের জন্য সুস্পষ্ট শত্রু। -সূরা বাকারা: ১৬৮

৩। হে মানুষ! তোমরা তোমাদের রবকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এক নফস থেকে। আর তা থেকে সৃষ্টি করেছেন তার স্ত্রীকে এবং তাদের থেকে ছড়িয়ে দিয়েছেন বহু পুরুষ ও নারী। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যার মাধ্যমে তোমরা একে অপরের কাছে চেয়ে থাক। আর ভয় করো রক্ত-সম্পর্কিত আত্মীয়ের ব্যাপারে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর পর্যবেক্ষক। -সূরা নিসা: ১

৪। হে মানুষ! অবশ্যই তোমাদের নিকট রাসূল এসেছে, তোমাদের রবের পক্ষ থেকে সত্য নিয়ে। সুতরাং তোমরা ঈমান আনো, তা তোমাদের জন্য উত্তম হবে। আর যদি কুফরি করো, তবে নিশ্চয় আসমানসমূহ ও জমিনে যা রয়েছে, তা আল্লাহর জন্যই এবং আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। -সূরা নিসা: ১৭০

৫। হে মানুষ! তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের নিকট প্রমাণ এসেছে এবং আমি তোমাদের নিকট স্পষ্ট আলো নাজিল করেছি। -সূরা নিসা: ১৭৪

৬। বলো, হে মানুষ! আমি তোমাদের সবার প্রতি আল্লাহর রাসূল, যার রয়েছে আসমানসমূহ ও জমিনের রাজত্ব। তিনি ছাড়া কোনো (সত্য) ইলাহ নেই। তিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু দেন। সুতরাং তোমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান আন ও তার প্রেরিত উম্মী নবীর প্রতি, যে আল্লাহ ও তার বাণীসমূহের প্রতি ঈমান রাখে। আর তোমরা তার অনুসরণ করো, আশা করা যায়- তোমরা হেদায়েত লাভ করবে। -সূরা আরাফ: ১৫৮

৭। হে মানুষ! তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে এসেছে উপদেশ এবং অন্তরসমূহে যা থাকে তার শিফা, আর মুমিনদের জন্য হেদায়েত ও রহমত। -সূরা ইউনুস: ৫৭

আরও পড়ুন: বছরের শ্রেষ্ঠ দশদিন কোনগুলো এবং কেন শ্রেষ্ঠ?

৮। বলো, হে মানুষ! তোমরা যদি আমার দ্বীনের ব্যাপারে সন্দেহে থাকো, তবে আল্লাহ ছাড়া তোমরা যার ইবাদত করো আমি তার ইবাদত করি না, বরং আমি ইবাদত করি আল্লাহর, যিনি তোমাদের মৃত্যু দেন। আর আমি আদিষ্ট হয়েছি মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার। -সূরা ইউনুস: ১০৪

৯। বলো, হে মানুষ! তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের নিকট সত্য এসেছে। সুতরাং যে হেদায়েত গ্রহণ করবে, সে নিজের জন্যই হেদায়েত গ্রহণ করবে। আর যে পথভ্রষ্ট হবে, সে নিজের ক্ষতির জন্য পথভ্রষ্ট হবে। আর আমি তোমাদের অভিভাবক নই। -সূরা ইউনুস: ১০৮

১০। হে মানুষ! তোমরা তোমাদের রবকে ভয় করো। নিশ্চয়ই কিয়ামতের প্রকম্পন এক ভয়ঙ্কর ব্যাপার। যেদিন তোমরা তা দেখবে সেদিন প্রত্যেক স্তন্য দানকারিনী আপন দুগ্ধপোষ্য শিশুকে ভুলে যাবে এবং প্রত্যেক গর্ভধারিণী তার গর্ভপাত করে ফেলবে, তুমি দেখবে মানুষকে মাতাল সদৃশ, অথচ তারা মাতাল নয়। তবে আল্লাহর আজাবই কঠিন। -সূরা হজ: ১-২

১১। হে মানুষ! যদি তোমরা পুনরুত্থানের ব্যাপারে সন্দেহে থাকো তবে নিশ্চয়ই জেনে রেখো, আমি তোমাদেরকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি, তারপর শুক্র থেকে, তারপর আলাকা থেকে, তারপর পূর্ণাকৃতিবিশিষ্ট অথবা অপূর্ণাকৃতিবিশিষ্ট গোশত থেকে। তোমাদের নিকট বিষয়টি সুস্পষ্টরূপে বর্ণনা করার নিমিত্তে। আর আমি যা ইচ্ছা করি তা একটি নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত মাতৃগর্ভে অবস্থিত রাখি। অতঃপর আমি তোমাদেরকে শিশুরূপে বের করি, পরে যাতে তোমরা যৌবনে উপনীত হও। তোমাদের মধ্যে কারও কারও মৃত্যু দেওয়া হয় এ বয়সেই, আবার কাউকে কাউকে ফিরিয়ে নেওয়া হয় হীনতম বয়সে, যাতে সে জ্ঞান লাভের পরও কিছু না জানে। তুমি জমিনকে দেখতে পাও শুষ্কাবস্থায়, অতঃপর যখনই আমি তাতে পানি বর্ষণ করি, তখন তা আন্দোলিত ও স্ফীত হয় এবং উদগত করে সকল প্রকার সুদৃশ্য উদ্ভিদ। -সূরা হজ: ৫

১২। বলো, হে মানুষ! আমি তো কেবল তোমাদের জন্য সুস্পষ্ট সতর্ককারী। সুতরাং যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও সম্মানজনক রিজিক। আর যারা আমার আয়াতসমূহকে ব্যর্থ করে দেওয়ার চেষ্টা করে, তারা জাহান্নামের অধিবাসী। -সূরা হজ: ৪৯-৫১

১৩। হে মানুষ! একটি উপমা পেশ করা হলো- মনোযোগ দিয়ে তা শোনো, তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে ডাকো তারা কখনও একটি মাছিও সৃষ্টি করতে পারবে না। যদিও তারা এ উদ্দেশ্যে একত্রিত হয়। আর যদি মাছি তাদের কাছ থেকে কিছু ছিনিয়ে নেয়, তারা তার কাছ থেকে তাও উদ্ধার করতে পারবে না। অন্বেষণকারী ও যার কাছে অন্বেষণ করা হয় উভয়েই দুর্বল। -সূরা হজ: ৭৩

১৪। হে মানুষ! তোমরা তোমাদের রবকে ভয় করো এবং সেই দিনকে ভয় করো যেদিন পিতা তার সন্তানের কোনো উপকার করতে পারবে না এবং সন্তানও তার পিতার কোনো উপকারে আসবে না। নিশ্চয় আল্লাহর ওয়াদা সত্য। সুতরাং দুনিয়ার জীবন যেন কিছুতেই তোমাদেরকে ধোকা দিতে না পারে এবং মহাপ্রতারক (শয়তান) যেন তোমাদেরকে আল্লাহ সম্পর্কে ধোঁকায় ফেলতে না পারে। -সূরা লোকমান: ৩৩

১৫। হে মানুষ! তোমাদের ওপর আল্লাহর নিয়ামতকে তোমরা স্মরণ করো। আল্লাহ ছাড়া আর কোনো স্রষ্টা আছে কি, যে তোমাদেরকে আসমান ও জমিন থেকে রিজিক দেবে? তিনি ছাড়া কোনো (সত্য) ইলাহ নেই। অতএব তোমাদেরকে কোথায় ফিরানো হচ্ছে? সূরা ফাতির: ৩

১৬। হে মানুষ! নিশ্চয়ই আল্লাহর ওয়াদা সত্য; অতএব দুনিয়ার জীবন যেন তোমাদেরকে কিছুতেই প্রতারিত না করে; আর বড় প্রতারক (শয়তান) যেন তোমাদেরকে আল্লাহর ব্যাপারে প্রতারণা না করে। -সূরা ফাতির: ৫

১৭। হে মানুষ! তোমরা আল্লাহর প্রতি মুখাপেক্ষী আর আল্লাহ অমুখাপেক্ষী ও প্রশংসিত। -সূরা ফাতির: ১৫

১৮। হে মানুষ! আমি তোমাদেরকে এক নারী ও এক পুরুষ থেকে সৃষ্টি করেছি আর তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি। যাতে তোমরা পরস্পর পরিচিত হতে পারো। তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সেই অধিক মর্যাদাসম্পন্ন যে তোমাদের মধ্যে অধিক তাকওয়াসম্পন্ন। নিশ্চয় আল্লাহ তো সর্বজ্ঞ, সম্যক অবহিত। -সূরা হুজুরাত: ১৩

১৯। হে মানুষ! কিসে তোমাকে তোমার মহান রব সম্পর্কে ধোঁকা দিয়েছে? যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন অতঃপর তোমাকে সুষম করেছেন, তারপর তোমাকে সুসামঞ্জস্য করেছেন। যে আকৃতিতে তিনি চেয়েছেন তোমাকে গঠন করেছেন। -সূরা ইনফিতার: ৬-৮

২০। হে মানুষ! তোমার রব পর্যন্ত (পৌঁছতে) অবশ্যই তোমাকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। অতঃপর তুমি তার সাক্ষাৎ পাবে। -সূরা ইনশিকাক: ৬

এন এইচ, ২৭ অক্টোবর

Back to top button