কুমিল্লা

‘আপা’ সম্বোধন করায় রেগে ‘মা’ ডাকতে বললেন ইউএনও

কুমিল্লা, ০৫ অক্টোবর – আপা ডাক শুনে ক্ষিপ্ত হয়ে নিজেকে ‘মা’ ডাকতে বলেছেন কুমিল্লা বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবিনা ইয়াসমিন।

ইউএনওর এমন আচরণে বিরক্ত হয়ে সোমবার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তুলে ধরেন জামাল উদ্দিন নামে ওই ব্যক্তি।

তিনি বুড়িচং উপজেলার ভরাসার বাজারের একজন ব্যবসায়ী।

এ প্রসঙ্গে ইউএনও বলছেন, বয়স্ক মানুষের কাছ থেকে আপা ডাক শুনে তার মনে হয়েছে সেই ব্যক্তির চারিত্রিক সমস্যা থাকতে পারে, তাই তিনি আপা না বলে ‘মা’ ডাকতে বলেছেন।

এই কথায় সমস্যা হতে পারে বলেও মনে করেন না ইউএনও। বলেছেন, তিনি ‘স্যার’ ডাকতে বলেননি, যেটি নিয়ে তুমুল সমালোচনা হচ্ছে।

জামাল উদ্দিন তার ব্যক্তিগত ফেসবুকে লেখেন, ‘সরকারি কর্মকর্তাদের সাধারণ জনগণকে স্যার বলতে হবে এটা কি বাধ্যতামূলক? এই বিষয়ে সরকারের কোনো আইন আছে কি?’

তিনি আরও লেখেন, ‘ফ্যাক্ট: বুড়িচং উপজেলার ইউএনওকে (মহিলা) আপা বলার কারণে খুব রাগান্বিত হয়েছেন, এটা নাকি আনুষ্ঠানিক সম্বোধন না, আপা না বলে মা ডাকতাম। আমি লজ্জিত। দেশটা কি মগের মুল্লুক?’

জামাল উদ্দিন বলেন, ‘সোমবার দুপুরে জন্মনিবন্ধন-সংক্রান্ত একটি কাজে ইউএনওর অফিসে যাই। আমার সমস্যার কথা বলার পর আমি ইউএনওকে আপা বলে সম্বোধন করি।

‘এ সময় ইউএনও উত্তেজিত হয়ে যান। তখন তিনি আমাকে উদ্দেশ করে বলেন, স্যার ডাকতে না পারলে মা ডাকবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় আমি বিব্রত হই। এ সময় কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা ও রাজাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন।’

বুড়িচং উপজেলার ১ নম্বর রাজাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোস্তফা এ বিষয়ে বলেন, ‘ওই দিনের ঘটনা সত্য। স্যার না বলায় ইউএনও মহোদয় খেপে যান।’

পরে এ বিষয়ে অনেকেই নাম না প্রকাশ করার শর্তে জানান, ইউএনও সাবিনা ইয়াসমিনকে স্যার বলে সম্বোধন না করলে তিনি খেপে যান।

বিষয়টি নিয়ে ইউএনও সাবিনা ইয়াসমিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘উনি (জামাল উদ্দিন) বয়স্ক মানুষ। তাই ওনাকে বলেছি আপু না ডেকে মা ডাকতে। একজন বয়স্ক মানুষ কেন আপু ডাকবে।

‘ম্যাডাম বলতে পারে অথবা ইউএনও সাহেবও ডাকতে পারে। এ কথাই বলেছি। আর যদি কেউ কোনো নারীকে দেখলেই আপা ডাকে তাহলে বুঝতে হবে তার চরিত্রে সমস্যা আছে। আমি স্যার বলতে বলিনি।’

সূত্র: সিলেট টুডে
এম ইউ/০৫ অক্টোবর ২০২১

Back to top button