অপরাধ

‘এসপিসি ওয়ার্ল্ড এক্সপ্রেসে’র সিইও-এমডি আল আমিন স্ত্রীসহ কারাগারে

ঢাকা, ০৪ অক্টোবর – অর্থপাচারের মামলায় ই-কমার্স কোম্পানি এসপিসি ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আল আমীন (৩১) ও তার স্ত্রী পরিচালক শারমীন আক্তারকে (২৭) কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ সোমবার ঢাকার মহানগর হাকিম মোহাম্মদ জসীম এ আদেশ দেন।

এর আগে আসামিদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) উপপরিদর্শক (এসআই) সোহানূর রহমান। আসামিপক্ষে আইনজীবী কামরুজ্জামান চৌধুরী জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জামিনের বিরোধিতা করা হয়।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক জামিন আবেদন নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই শরীফ সাফায়েত হোসেন এ তথ্য জানান।

গত ২৬ আগস্ট কলাবাগান থানায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। গতকাল রোববার রাতে রমনা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘এর আগে ২৬৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন আল আমীন। বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক সংখ্যা প্রায় এক কোটি। এক মাসের মধ্যে তারা প্রায় ৫/৬ কোটি টাকার অর্ডার পায়।’

পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবির বলেন, ‘প্রাথমিক অবস্থায় এসপিসি ওয়ার্ল্ড কিছু পণ্য ডেলিভারি করে সেই গ্রাহকদের দিয়ে তাদের ফেসবুক পেজে ইতিবাচক রিভিউ দিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে বিশ্বাস স্থাপন করে। পরবর্তীতে অধিক সংখ্যায় অর্ডার ও অগ্রিম অর্থ পেলে তারা পণ্য ডেলিভারি না দিয়ে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা শুরু করে। অনেক দিন পেরিয়ে গেলে গ্রাহকেরা যখন বুঝতে পারেন, তারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন, তখন বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সংবাদ মাধ্যমে প্রতিকার দাবি করে বক্তব্য দিতে থাকেন। যারা খুব বেশি চাপ প্রয়োগ করেন, তাদের টাকা ফেরতের মিথ্যা আশ্বাস হিসেবে চেক প্রদান করা হয়। কিন্তু অপর্যাপ্ত ব্যালেন্স থাকায় চেক ডিজঅনার হওয়ায় গ্রাহকদের সঙ্গে সকল যোগাযোগ বন্ধ করে লাপাত্তা হয়ে যায়।’

পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সিআইডির এলআইসি’র একটি চৌকস দল গতকাল রোববার রাতে এসপিসি ওয়ার্ল্ড এক্সপ্রেস’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আল আমীন (৩১) ও পরিচালক শারমীন আক্তারকে (২৭) গ্রেপ্তার করেছে। এ সময় তাদের হেফাজত হতে সাদা রংয়ের একটি এক্সিও ফিল্ডার প্রাইভেট কার জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, মানি লন্ডারিং ও প্রতারণা আইনে প্রায় ৪টি মামলার তথ্য রয়েছে সিআইডি’র কাছে।

কারাগারে যাওয়া আল আমীন ডেসটিনি ২০০০ এর উচ্চ পর্যায়ের টিম লিডার ও প্রশিক্ষক ছিলেন বলে জানিয়েছেন হুমায়ুন কবির। ডেসটিনি ও যুবকের আদলেই তিনি এসপিসি ওয়ার্ল্ডকে গড়ে তুলেছেন।

সূত্র: আমাদের সময়
এম ইউ/০৪ অক্টোবর ২০২১

Back to top button