জাতীয়

বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে ‘ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট’ চালুর প্রস্তাব

ঢাকা, ০৩ অক্টোবর – এই প্রস্তাবে এনআইডি সার্ভারের তথ্য ব্যবহার করে বিয়ের কাজী নিজের তথ্য ও বিয়ে প্রার্থীদের তথ্য ইনপুট দিয়ে বিয়ের ‘ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট’ গ্রহণের পদ্ধতি চালু করতে বলা হয়েছে।
রোববার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সংসদের ‘স্ট্রেংদেনিং পার্লামেন্ট’স ক্যাপাসিটি ইন ইন্টিগ্রেটেড পপুলেশন ইস্যু ইনটু ডেভেলপমেন্ট (এসপিসিপিডি)’ প্রকল্পের সদস্য সাবেক প্রধান হুইপ আ স ম ফিরোজ এই প্রস্তাব দেন।

সংসদীয় কমিটির বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “সংসদীয় কমিটি আমাদের বক্তব্য আমলে নিয়েছেন। এ বিষয়ে পরবর্তীতে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত জানাবে বলে আমাদের বলেছেন।”

বাল্যবিয়ে বন্ধে তথ্য ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর প্রসঙ্গ টেনে ওই প্রস্তাব দেন ফিরোজ। গ্রামভিত্তিক সচেতনতা কার্যক্রম চালু করার প্রস্তাবও দেন তিনি।

ইউনিসেফ জানিয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি বাল্যবিয়ে হচ্ছে বাংলাদেশে, যা সারাবিশ্বে অষ্টম। ১৮ বছর বয়সের আগে বিয়ে হয়েছে দেশে এমন নারীর সংখ্যা দেশে ৩ কোটি ৮০ লাখ।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে বাল্যবিয়ে বন্ধ এবং সরকারের জাতীয় কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৪১ সালের মধ্যে বাল্যবিয়ে নির্মূলে গত দশকের তুলনায় যথাক্রমে কমপক্ষে ১৭ গুণ ও আট গুণ বেশি কাজ করতে হবে বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ।

নারী নির্যাতন বন্ধে থানায় একজন নারী কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিটি জেলায় অন্তত একটি করে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার স্থাপনের প্রস্তাব করেছে এসডিসিপিডি। মাদক দমনে প্রতিটি থানায় একজন অফিসার নির্ধারণ করে দেওয়ার প্রস্তাবও করা হয়েছে।

সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ এবং যৌন হয়রানি বন্ধে হাই কোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পদক্ষেপ উপস্থাপন করা হয়। বিএপিপিডি’র প্রতিনিধি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সদস্যদের পরামর্শ বিষয়ক কর্মশালায় বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ এবং যৌন হয়রানি বন্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার উপর জোর দেওয়া হয়।

সংসদীয় কমিটির সভাপতি মো. শামসুল হক টুকুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, পীর ফজলুর রহমান, নূর মোহাম্মদ ও বেগম রুমানা আলী অংশ নেন।

এছাড়া বিশেষ আমন্ত্রণে উপস্থিত ছিলেন আ স ম ফিরোজ, মাহাবুব আরা গিনি, মেহের আফরোজ, আব্দুস শহীদ, আ ফ ম রুহুল হক, হাবিবে মিল্লাত, উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম, শামীমা আক্তার খানম, শামীম হায়দার পাটোয়ারী ও আরমা দত্ত।

সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর
এম ইউ/০৩ অক্টোবর ২০২১

Back to top button