জাতীয়

নির্বাচন-নির্বাচন খেলা আর হবে না : বিএনপি মহাসচিব

ঢাকা, ০২ অক্টোবর – নির্বাচন হতে হলে অবশ্যই নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‌‘নির্বাচন-নির্বাচন খেলা আর হবে না। নির্বাচন হতে হলে অবশ্যই নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হতে হবে, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে হতে হবে। ’

আজ শনিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় সরকারের উদ্দেশে এসব কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘আপনাদের দিন শেষ। এখনো সময় আছে, নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে সরে যান। আমাদের স্পষ্ট কথা, নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া কোনো নির্বাচনে অংশ নেবো না।

সরকারের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘জনগণের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে সোজাপথে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। বারবার তিনি নির্বাচিত হয়েছেন। আপনারা পেছনের রাস্তা দেখেন। অবৈধ ফখরুদ্দিন সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে আপনারা সরকারে এসেছেন। ২০০৮ সালে ক্ষমতায় এসেছেন তাদের সঙ্গে সন্ধি করে। তাদের সঙ্গে আঁতাত করে ক্ষমতায় আছেন, বিরাজনীতিকরণ করছেন। দেশনেত্রীকে বেআইনিভাবে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগে মামলা দিয়ে আটক করে রেখেছেন। মিথ্যা ভিত্তিহীন মামলায় আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সাজা দিয়ে নির্বাসিত করে রাখা হয়েছে। আপনারা গণতন্ত্রের কথা বলেন, সোজা পথের কথা বলেন। হায়রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করে এই সরকারকে টিকিয়ে রাখা হয়েছে।’

সরকারের দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এই সরকার আবার একটি নির্বাচনের চেষ্টা করছে। যে নির্বাচনে বিগত সময়ের মতো জনগণ ভোট দিতে পারবে না। এবার ইভিএম। কিভাবে ভোট চুরি করা যায় তার একটি বড় হাতিয়ার।’

প্রধান নির্বাচন কমিশনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যিনি নির্বাচন প্রক্রিয়া ধ্বংস করেছেন, তিনিও বলছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচন কমিশন গঠন করা উচিত। সম্প্রতি তিনি রাশিয়া সফর করে সেখানকার নির্বাচন প্রদ্ধতি দেখে এসেছেন। সেখানেও একই অবস্থা, যে থাকে সরকারে সে হয় প্রধানমন্ত্রী, না হয় রাষ্ট্রপতি। ওখান সঙ্গে এখানকার পার্থক্য নেই। কিভাবে দিনের বেলা ভোট চুরি করা যায়। আবার চক্রান্ত শুরু হয়েছে। ’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আমাদের দায় আছে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে, জনগণকে মুক্ত করতে হবে। আমাদের সৃশৃঙ্খলভাবে গণতন্ত্রের মুক্তি ও খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আন্দোলন করতে হবে। পদের জন্য নয়; মাঠ বোঝাই করবেন যখন আন্দোলনের ডাক আসবে। ’

‘২০০১ সালের ১ অক্টোবর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সর্বশেষ নিরপেক্ষ নির্বাচন’ শীর্ষক এই আলোচনা সভাকে কেন্দ্র করে মিলনায়তনের ভেতরে ও বাইরে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী জমায়েত হয়। এতে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে ড. মাহবুব উল্লাহ, ড. দিলারা চৌধুরী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, আব্দুস সালাম, যুবদলের সাইফুল আলম নিরব, কৃষক দলের শহীদুল ইসলাম বাবুল, স্বেচ্ছাসেবক দলের আব্দুল কাদির ভূইয়া জুয়েল, ছাত্রদলের ফজলুর রহমান খোকন প্রমুখ।

আলোচনা সভায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, ‘আমি কিন্তু বিএনপির কোনো সদস্য নই। তারপরও এখানে এসেছি নিজের প্রাণের তাগিদে। আমরা দেখতে পাচ্ছি বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটি একটা ভয়ঙ্কার পরিণতির দিকে যাচ্ছে। আজ রাষ্ট্র দুই ভাগে বিভক্ত। এই অবস্থা থেকে উত্তোরণের পথ এবং তা জনগণকে জানিয়ে দেওয়া রাষ্ট্র বিজ্ঞানী হিসেবে কর্তব্য মনে করছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা জানি বাংলাদেশে এখন ভয়ঙ্কার পরিস্থিতিতে। দুটি রাজনৈতিক শক্তি আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মুখোমুখি দাঁড়িয়ে গেছে। কিভাবে এই বিভাজনকে একটা সমঝোতায় আনা যায়। নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার দাবিতে আন্দোলন দরকার হবে, পাশাপাশি সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে সমঝোতাও দরকার। ’

রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক তাসনীম সিদ্দিকী। তার ‘রেমিট্যান্স প্রবাহ আর প্রবাসীদের বাস্তবতায় মিল নেই’ শীর্ষক তার একটি সাক্ষাৎকার বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি তলব করার পর তাসনীম সিদ্দিকী হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, ‘তিনি একজন গবেষক। তার কাছে ব্যাখ্যা চাওয়ায় আমি উদ্বেগ প্রকাশ করছি।’

স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিএনপির কর্মসূচি গতকাল শুক্রবার করার কথা ছিল। কিন্তু স্থান না পাওয়ায় আজ শনিবার দলটি এই কর্মসূচি পালন করছে বলে জানান বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।

২০০১ সালের ১ অক্টোবর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট। দলটির নেতারা মনে করেন, এরপর দেশে আর অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি। তাই ওই দিনকে উপলক্ষ হিসেবে ধরে নির্দলীয় সরকারের প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে আলোচনা সভা করে দলটি। বিএনপির নীতিনির্ধারকরা বলছেন, এটিই হবে নির্বাচনকালীন সরকারের দাবিতে প্রথম কর্মসূচি; এরপর ধাপে ধাপে আরও কর্মসূচি আসবে।’

সূত্র : আমাদের সময়
এন এইচ, ০২ অক্টোবর

Back to top button