অপরাধ

৫ বছর ধরে ২০০ মৃত ব্যক্তির নামে ভাতা তুলছিলেন তারা

সাতক্ষীরা, ৩০ সেপ্টেম্বর – সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলাধীর ১০ নং ধলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যদের বিরুদ্ধে ২০০ মৃত ব্যক্তির নামে বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা উত্তোলনপূর্বক অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বৃহস্পতিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুদক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

দুদক জানায়, বৃহস্পতিবার দুদক সজেকা-খুলনার উপ-সহকারী পরিচালক আল আমিনের নেতৃত্বে একটি এনফোর্সমেন্ট টিম এ অভিযান পরিচালনা করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য রেকর্ড করেন।

রেজিস্ট্রার ও রেকর্ডবই পর্যালোচনা করে জানা যায়, চেয়ারম্যান গাজী শওকত হোসেন ও ৯ জন মেম্বারের বিরুদ্ধে ডিসেম্বর’২০১৯ সাল পর্যন্ত উপজেলা সমাজ কল্যাণ অফিসের সহায়তায় বিগত ৪/৫ বছরে ১৯৭ থেকে ২০০ জন মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে বয়স্কভাতা, বিধবাভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা অর্থ উত্তোলনপূর্বক আনুমানিক ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা আত্মসাতের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।

এ ব্যাপারে কমিটির মাধ্যমে তদন্ত করা হয়েছে এবং তিন লাখ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত আরও তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ ও রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কমিশন বরাবর পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করবে দুদক টিম।

এছাড়া নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার পোস্ট মাস্টারের সহায়তায় পোস্টাল অপারেটরের বিরুদ্ধে উপজেলা পোস্ট অফিসে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা প্রদানে শিডিউল জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া যায়। এর প্রেক্ষিতে দুদক সজেকা-রংপুরের উপ-সহকারী পরিচালক নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে অপর একটি এনফোর্সমেন্ট টিম অভিযান পরিচালনা করেছে।

টিমের সদস্যরা উক্ত দপ্তর সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ দুদক টিমকে জানিয়েছে, অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় ইতোপূর্বে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। উক্ত কমিটি অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে।

তাদের সুপারিশের ভিত্তিতে অপারেটর হান্নান মিয়াকে বরখাস্ত করা হয়েছে। হান্নান মিয়া আত্মসাতকৃত ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা ইতোমধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা করেছে। কর্তৃপক্ষ এর সঙ্গে আরও কারা জড়িত তা উদঘাটনের জন্য রাজশাহী পোস্ট মাস্টার অফিসের মাধ্যমে নতুন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

এ প্রক্রিয়ায় উপজেলা পোস্ট মাস্টারসহ ঊর্ধ্বতন অফিসের জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কমিশন বরাবর পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করবে এনফোর্সমেন্ট টিম।

এছাড়াও দুদক অভিযোগ কেন্দ্রে (হটলাইন-১০৬) আগত অভিযোগের প্রেক্ষিতে ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক কমিশনকে অবহিত করার জন্য ৮টি দপ্তরে এনফোর্সমেন্ট ইউনিট থেকে চিঠি ও তাগিদপত্র পাঠানো হয়েছে।

সূত্র: বাংলানিউজ
এম ইউ/৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১

Back to top button