জাতীয়

১১০০ কোটি টাকা ক্ষতি, বিমানের সাবেক চেয়ারম্যান ও এমডিকে জিজ্ঞাসাবাদ

ঢাকা, ৩০ সেপ্টেম্বর – মিসর থেকে সাত বছর আগে দুটি বোয়িং উড়োজাহাজ ভাড়া আনার ঘটনা তদন্তে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সাবেক চেয়ারম্যান এয়ার মার্শাল (অব.) জামাল উদ্দীন আহমেদ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোসাদ্দেক হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর উড়োজাহাজ ভাড়া আনার সঙ্গে জড়িতদের তলব করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো সংসদীয় কমিটি।

বৈঠক শেষে জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে বিমানের সাবেক এমডি মোসাদ্দেক সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।

তবে সংসদীয় কমিটির সভাপতি র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, বৈঠকে আমরা তাদের (বিমানের সাবেক চেয়ারম্যান ও এমডি) কথা শুনেছি। তারা তাদের লিখিত বক্তব্যও দিয়েছেন। আরও লিখিত দেবেন। তাদের কথা আমরা আরও শুনবো। তদন্ত করবো। তবে আমরা এখনই বলছি না যে দুর্নীতি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মিসর থেকে দুটি বোয়িং উড়োজাহাজ ভাড়া আনার ঘটনায় কাউকে এই মুহূর্তে দোষী করছি না। যে ক্ষতি হয়েছে সেটা দুর্নীতির কারণেই যে হয়েছে এমন নয়। ভুল সিদ্ধান্তও হতে পারে। আমরা আরও পর্যালোচনা করবো। যাচাই করে সিদ্ধান্ত জানাবো।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন- সংসদীয় কমিটির সদস্য বিমান প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী, আশেক উল্লাহ রফিক, আনোয়ার হোসেন খান, সৈয়দা রুবিনা আক্তার ও কানিজ ফাতেমা আহমেদ এমপি।

সাত বছর আগে পাঁচ বছরের চুক্তিতে ইজিপ্ট এয়ার থেকে বোয়িং ৭৭৭-২০০ ইআর উড়োজাহাজ দুটি লিজ নিয়েছিল বিমান। ২০১৪ সালের মার্চে লিজে আনা একটি উড়োজাহাজ বিমানের বহরে যুক্ত হয়। আরেকটি উড়োজাহাজ যুক্ত হয় একই বছরের মে মাসে।

জানা যায়, ভাড়া আনার এক বছরেরও কম সময়ে ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ফ্লাইট পরিচালনার পর একটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। পরে উড়োজাহাজটি সচল রাখতে ইজিপ্ট এয়ার থেকে আরেকটি ইঞ্জিন ভাড়ায় আনা হয়। পরে সেটিও বেশিদিন টেকেনি, দেড় বছর যেতে না যেতেই নষ্ট হয় নতুন ইঞ্জিনটিও।

পরবর্তিতে উড়োজাহাজটি সচল রাখতে ইজিপ্ট এয়ার থেকে আবারও ভাড়ায় আনা হয় ইঞ্জিন। পরে সেটিও নষ্ট হয়ে যায়। এরপর সেই ইঞ্জিন মেরামত করতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়। তবে মেরামতের জন্য নির্দিষ্ট কোনও সময়ও দেয়া হয়নি। যার ফলে ইজিপ্ট এয়ার এবং মেরামতকারি কোম্পানি, উভয়কে অর্থ দিতে হয় বিমানকে।

গত বছরের অক্টোবরে সংসদীয় কমিটির বৈঠকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় জানায়, দুটি বোয়িং ৭৭৭-২০০ উড়োজাহাজের পেছনে পাঁচ বছরে বাংলাদেশ বিমানের ক্ষতি হয়েছে ১১০০ কোটি টাকা। উড়োজাহাজ দুটি চালিয়ে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ২২০০ কোটি টাকা। আর খরচ হয়েছিল ৩৩০০ কোটি টাকা। এজন্য প্রতিমাসে বিমান ১১ কোটি টাকা করে ভর্তুকি দিয়ে আসছিল। সেই দায় থেকে গত বছরের মার্চ মাসে মুক্তি পেয়েছে বিমান।

সূত্র : বাংলাদেশ জার্নাল
এন এইচ, ৩০ সেপ্টেম্বর

Back to top button