ইউরোপ

ব্রিটেনে তীব্র জ্বালানি সংকট, নামতে পারে সেনাবাহিনী

লন্ডন, ২৮ সেপ্টেম্বর – যুক্তরাজ্যের পেট্রোল পাম্পগুলোতে জ্বালানিশূন্য হয়ে পড়ার আতংকে গাড়িচালকরা হুমড়ি খেয়ে জ্বালানি কেনার কারণে পরিস্থিতি আরও অস্বাভাবিক অবস্থার দিকে যাচ্ছে। ওই খারাপ অবস্থা মোকাবেলায় দেশটির সরকার সামরিক বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা কথা জানিয়েছে।

সোমবার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানি সংকটে দেশটির বড় শহরগুলোর অধিকাংশ রিফুয়েলিং স্টেশন বন্ধ হয়ে আছে। জ্বালানির নতুন সরবরাহ কবে আসবে সেটি সঠিকভাবে জানা নেই কারো।

গত সপ্তাহের শেষ দিকে জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতির বিষয়ে সতর্ক করার পর যুক্তরাজ্যজুড়ে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। মানুষ গাড়ি নিয়ে পেট্রল পাম্পগুলোর দিকে ছুটতে শুরু করে। তেল ভরার জন্য লম্বা লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে থাকে তারা আর এভাবে ব্রিটেনজুড়ে পাম্পগুলো জ্বালানিশূন্য হয়ে পড়ে।

যুক্তরাজ্যজুড়ে গত কয়েকদিনে নতুন জ্বালানির সরবরাহ না আসায় অনেক পেট্রোল স্টেশন এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। গাড়িতে যথেষ্ট তেল না থাকায় অনেকে তাদের কর্মস্থলে বা জরুরি কাজে পর্যন্ত যেতে পারছেন না বলেও খবর পাওয়া গেছে।

যুক্তরাজ্যের সরকার বলছে, জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই, পর্যাপ্ত তেল মজুদ আছে। তবে জ্বালানি তেলের সরবরাহ সময়মতো পেট্রোল স্টেশনে পৌঁছাতে সমস্যা হচ্ছে। সরকারের মন্ত্রীরা বার বার আবেদন জানাচ্ছেন, মানুষ যেন আতঙ্কিত হয়ে গাড়ির ট্যাংক ভর্তি করে জ্বালানি কেনার জন্য ভিড় না করে। কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয়নি।

দেশটির পেট্রোল রিটেইলার অ্যাসোসিয়েশন বলেছে, গতকাল রোববার নাগাদ দেশের আট হাজার পেট্রোল স্টেশনের অর্ধেকই জ্বালানি শূন্য হয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষ যেরকম আতঙ্কিত হয়ে তাদের গাড়িতে জ্বালানি নেয়ার জন্য ছুটছে, সেটাকেই এখন অনেকে এই সংকটের জন্য দায়ী করছেন। পরিস্থিতি যে সহসাই স্বাভাবিক হবে এমন কোনো আশার আলো দেখাতে পারছে না যুক্তরাজ্য সরকার।

প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের একজন মুখপাত্র বলেছেন , এ কাজে সেনাবাহিনী নামানোর সম্ভাবনা আমরা এখনও নাকচ করে দিইনি। এছাড়া জরুরি ভিত্তিতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে পাঁচ হাজার ট্রাক চালককে ব্রিটেনে আসার ভিসা দেয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে এতে কতটা কাজ হবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

শুধু পেট্রোলের সংকট নয়, ব্রিটেনের প্রায় সকল ধরনের নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রেই সংকট তৈরি হয়েছে প্রয়োজনীয় ট্রাক চালকের অভাবে, বিশেষ করে জ্বালানী ও খাদ্য পরিবহণে। আসন্ন ক্রিসমাসকে সামনে রেখে যখন এসব পণ্যের চাহিদা অনেকগুণ বাড়বে তখন পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের জ্বালানি শিল্প খাত জানিয়েছে, জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই, সমস্যা হয়েছে পেট্রল ও ডিজেল পাম্পগুলোতে সরবরাহ করা নিয়ে।

সূত্র : বাংলাদেশ জার্নাল
এন এইচ, ২৮ সেপ্টেম্বর


Back to top button
🌐 Read in Your Language