জাতীয়

লক্ষ্যমাত্রায় না পৌঁছা পর্যন্ত টিকা ক্যাম্পেইন চলবে

ঢাকা, ২৮ সেপ্টেম্বর – প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে আগামীকাল মঙ্গলবার দেশজুড়ে করোনার বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হবে সকাল ৯টায়। লক্ষ্যমাত্রায় না পৌঁছা পর্যন্ত টিকা ক্যাম্পেইন চলবে। তবে, এ ক্যাম্পেইনে টিকা পাবেন না স্তন‌্যদানকারী ও গর্ভবতী নারীরা।

কর্মসূচির একদিন আগে গণটিকাদান কর্মসূচির পরিকল্পনার বিষয়ে কথা বলেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম।

সোমবার টিকাদান কর্মসূচি সম্পর্কে জানাতে ফেসবুক লাইভে আসেন স্বাস্থ্যের ডিজি। সেখানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, আগামীকাল ২৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিনকে কেন্দ্র করে এ টিকাদান কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিশ্বে যখন করোনা মহামারি শুরু হলো, যখন অনেক দেশই টিকার অনুমোদন দেয়নি, তখন তিনি (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) আমাদেরকে টিকা সংগ্রহের জন্য অনুমতি দিয়ে রেখেছিলেন। এটা তার দূরদর্শিতার পরিচয়।

টিকাদান কর্মসূচির বিস্তারিত জানাতে গিয়ে খুরশীদ আলম বলেন, টিকা নিতে জাতীয় পরিচয়পত্র এবং টিকা কার্ড সঙ্গে নিয়ে আসতে হবে। কেন্দ্রে বয়স্ক ব্যক্তিদের বসার ব্যবস্থা করতে হবে। টিকা নেয়ার পর কেন্দ্রে কমপক্ষে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে।

আগামীকাল এক দিনে ৮০ লাখ মানুষকে টিকা দেয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিশেষ ক্যাম্পেইনের অধীনে ৭৫ লাখ এবং চলমান কর্মসূচির আওতায় ৫ লাখ মানুষকে টিকা দেয়া হবে।

তিনি বলেন, আগামীকাল যে গণটিকাদান কর্মসূচি সারা দেশে পরিচালিত হবে সেখানে আমরা শুধু প্রথম ডোজের টিকা দেবো এবং একইভাবে আগামী মাসের একই তারিখে দ্বিতীয় ডোজের টিকা দেবো। আর এজন্য প্রয়োজনীয় সব মালামাল সারাদেশে সরবরাহ করেছি, সে কাজ চলছে। ক্যাম্পেইন শুরু হবে সকাল ৯টায় এবং আমাদের লক্ষ্যমাত্রায় না পৌঁছা পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে টিকাদান চলমান থাকবে। শেষ টিকা প্রদানের পর আমাদের টিম এক ঘণ্টা অবস্থান করবে। স্থানীয়ভাবে টিকাদানের সময় পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করতে পারবে। কোনোভাবেই আমাদের ইপিআই সেশনের টিকা দেয়া বন্ধ রাখা যাবে না।

স্তন্যদানকারী মা ও অন্তঃসত্ত্বা নারীরা এই টিকার আওতায় আসবেন না জানিয়ে আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, কাল বিশেষ ক্যাম্পেইনে প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের যেকোনো একটি ওয়ার্ডে একটি কেন্দ্র থাকবে। পৌরসভায় প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে এবং সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে তিনটি করে বুথে টিকা দেয়া হবে। স্থানীয়ভাবে বুথ কমানো–বাড়ানো যাবে।

এই ক্যাম্পেইনে নির্ধারিত জনগোষ্ঠী ২৫ বছর বয়সী বা তদূর্ধ্বদের টিকা দেয়ার ব্যাপারে আগে থেকে এসএমএসের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হবে জানিয়ে খুরশীদ আলম বলেন, চল্লিশোর্ধ্ব জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেবো এখানে। সঙ্গে বয়স্ক, নারী ও শারীরিক প্রতিবন্ধীদের আমরা বিবেচনায় রাখবো। স্তন্যদানকারী মা ও অন্তঃসত্ত্বা নারীদের এই ক্যাম্পেইনের আওতায় আনবো না। ভ্যাকসিন নেয়ার সময় জাতীয় পরিচয়পত্র ও টিকা কার্ড সঙ্গে আনতে হবে।

উপজেলা পর্যায়ে প্রতিটি ইউনিয়নে কোনও একটি ওয়ার্ডের একটি কেন্দ্রে একটি বুথ, পৌরসভার প্রতিটি কেন্দ্রে একটি কেন্দ্রে একটি বুথ, সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে তিনটি বুথের মাধ্যমে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন দেয়া হবে। সারা দেশে আগে থেকে যেসব কেন্দ্রে টিকাদান কর্মসূচি চলছিল সেগুলো অব্যাহত থাকবে।

বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম চলাকালে সরকারের নিয়মিত সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি কোনোভাবেই বন্ধ করা যাবে না বলে জানান তিনি।

খুরশীদ আলম বলেন, বয়স্ক যারা আসবেন টিকা নিতে তাদের জন্য বসার ব্যবস্থা করতে হবে এবং প্রত্যেককে টিকা নেয়ার পর অবশ্যই ৩০ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে।

সূত্র : বাংলাদেশ জার্নাল
এন এইচ, ২৮ সেপ্টেম্বর

Back to top button