ফুটবল

ইউরোপে গার্দিওলার দলের পক্ষে-বিপক্ষে মেসির রেকর্ড

পেপ গার্দিওলা ও লিওনেল মেসির সম্পর্কের রসায়ন অন্যরকম। বার্সেলোনার সেরা সময়ের অপরিহার্য অংশ ছিলেন তারা। কাতালানদের ডাগআউটে যখন ছিলেন গার্দিওলা, তখন তার সাফল্যের মূল চাবিকাঠি ছিলেন মেসি। দুজনের কেউই এখন আর বার্সার নয়। ৯ বছর আগে ন্যু ক্যাম্প ছাড়েন গার্দিওলা, আর মেসি ২১ বছরের সম্পর্ক চুকিয়ে এখন পিএসজিতে। নতুন ক্লাবে এসে নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার আগেই সাবেক গুরুর মুখোমুখি হতে হচ্ছে আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডকে। মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায় পার্ক দে প্রিন্সেসে চ্যাম্পিয়নস লিগ গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি পিএসজি ও ম্যানচেস্টার সিটি।

এই ম্যাচের আগে স্বাভাবিকভাবে আলোচনায় থাকছেন গার্দিওলা ও মেসি। সাফল্যমণ্ডিত সময় কাটানো গুরু-শিষ্য পঞ্চমবারের মতো প্রতিপক্ষ। গার্দিওলা যখন সাবেক শিষ্যকে মাথায় রেখে ছক সাজাবেন, তখন সাবেক গুরুর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে মাঠে নামবেন মেসি। চ্যাম্পিয়নস লিগে স্প্যানিশ কোচের দলের পক্ষে আর বিপক্ষে আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড কেমন করেছেন, সেই প্রসঙ্গ এই মুহূর্তে আলোচনা করা যেতে পারে।

২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত চার মৌসুম গার্দিওলার অধীনে খেলেছেন মেসি। তাদের দুজনকে একসঙ্গে নিয়ে লা লিগা জায়ান্টরা ছিল অদম্য। তিনটি লা লিগা ও দুটি চ্যাম্পিয়নস লিগ সহ ১৪ শিরোপা জিতেছে ওই সময়। ২০০৯ সালে তো সেক্সটুপল (ছয়টি শিরোপা) জেতার অনন্য নজির গড়েছিল গার্দিওলা-মেসির বার্সা।

বলা হয়ে থাকে মেসির ক্যারিয়ার গড়ায় বড় ভূমিকা গার্দিওলার। কিন্তু স্প্যানিশ কোচ তার সবচেয়ে সফল কোচিং ক্যারিয়ার পার করেছেন মেসিকে নিয়ে। এমনকি ৩৪ বছর বয়সী ফরোয়ার্ডের সঙ্গে সম্পর্ক চুকিয়ে ফেলার পর আর কখনো চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা হয়নি গার্দিওলার। তার অধীনে ইউরোপ সেরার প্রতিযোগিতায় ৪৭ ম্যাচ খেলেছেন মেসি, যেখানে তার গোল ৪৩টি এবং জয় ২৮টি। ১৫ ম্যাচ টাই হয় এবং হেরে গেছে কেবল চারটি ম্যাচ।

গার্দিওলা বার্সা ছাড়ার পর বায়ার্ন মিউনিখে তিন মৌসুম কাটান। আর ম্যানসিটিতে আছেন ২০১৬ সাল থেকে। গত আট বছরে মেসি গার্দিওলার দলের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলেছেন চার ম্যাচ, দুইবার বায়ার্নের বিপক্ষে আর ম্যানসিটির বিপক্ষেও দুইবার। বুন্দেসলিগা দলের বিপক্ষে ২০১৪-১৫ মৌসুমের সেমিফাইনালের দুই লেগ মিলিয়ে বার্সার ৫-৩ গোলের জয়ে দুটি গোল করেছিলেন মেসি। ২০১৬-১৭ মৌসুমে গ্রুপ পর্বে মেসির বার্সার মুখোমুখি হয় গার্দিওলার ম্যানসিটি। দুইবারের দেখায় হ্যাটট্রিকসহ করেন চার গোল। মানে স্প্যানিশ কোচের বিপক্ষে চার ম্যাচে ৬ গোল তার। অবশ্য এই দুটি আসরে প্রত্যেকবার দ্বিতীয় লেগে হার দেখেছে মেসির বার্সা।

এখন দেখার অপেক্ষা মেসি আবারও সাবেক গুরুকে পেয়ে নিজের খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসতে পারেন কি না। এখন পর্যন্ত নতুন ক্লাবে তিন ম্যাচ খেলে গোল তো দূরের কথা, নজর কাড়তে পারেননি আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড।

সূত্র : রাইজিংবিডি
এন এইচ, ২৭ সেপ্টেম্বর

Back to top button