জানা-অজানা

যেভাবে ঠিক হয় ঘূর্ণিঝড়ের নাম

ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের ইতিহাস শত শত বছরের পুরনো। কখনো ইংরেজি বর্ণ ধরে, কখনো নারীর নামে নামকরণ করা হয়েছে সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়ের। এর সামাজিক প্রভাবও কম নয়।

নামকরণের ক্ষেত্রে কিছু নিয়মও মানা হয়। যেমন- এরকম নাম দেওয়া হয়, যা ছোট হবে এবং সাধারণ মানুষ সহজে উচ্চারণ করতে পারে। যে দেশ নাম রাখবে তার সঙ্গে ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য থাকতে হবে। খেয়াল রাখতে হয় ওই শব্দ যেন কাউকে আঘাত না করে। কোনো রকম ব্যঙ্গ, বিদ্রুপ বা আতঙ্ক ছড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে এমন নামও রাখা যায় না। কোনো ধর্মীয় সম্পর্ক বা ব্যক্তির নামও ব্যবহার করা হয় না।

আগে ঝড়গুলোকে নানা নম্বর দিয়ে শনাক্ত করা হতো। কিন্তু সেসব নম্বর সাধারণ মানুষের কাছে দুর্বোধ্য ছিল। ফলে সেগুলোর পূর্বাভাস দেয়া, মানুষ বা নৌযানকে সতর্ক করাও কঠিন হয়ে যেত।

মুক্তিযুদ্ধের ঠিক আগে পূর্ব পাকিস্তানে ধ্বংসলীলা চালিয়েছিল জোরালো এক ঘূর্ণিঝড়। তারও কোনো নাম ছিল না। ভোলায় তাণ্ডব চালিয়েছিল সেই ঝড়টি। জায়গার নামেই পরিচিত সেই ঝড়টি।

নিহতের সংখ্যা বিচারে ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়টি স্মরণকালের ভয়াবহতম ঘূর্ণিঝড়গুলোর একটি। ১৯৯৯ সালে ওড়িশা তছনছ করে দেয়া ঘূর্ণিঝড়কেও লোকে চেনে পারাদ্বীপ সাইক্লোন নামে। কারণ ওড়িশার এই বন্দর শহরেই আছড়ে পড়েছিল শক্তিশালী এই তুফান।

ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের জন্য নির্ধারিত রয়েছে পাঁচটি আঞ্চলিক সংস্থা। এর ভেতরে একটি হচ্ছে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা ‘জাতিসংঘ এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন’।

২০০০ সালে ওমানে এই প্যানেলের ২৭তম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকে আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের সিদ্ধান্ত হয়। ফলে প্রথমবারের মতো ২০০৪ সাল থেকে বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগর উপকূলবর্তী দেশগুলোতে ঝড়ের নামকরণের প্রচলন শুরু হয়। সেই বছর তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড়ের প্রথম নামকরণও করেছিল বাংলাদেশ। নাম ছিল ‘অনিল’।

তারপর একে একে ‘আমপান’ ঝড়ের নামকরণ করেছিল থাইল্যান্ড। আবার ‘ফণী’ ঝড়ের নাম দিয়েছিল বাংলাদেশ। ‘বুলবুল’ নাম ছিল পাকিস্তানের দেওয়া। সর্বশেষ ঝড় ‘ইয়াসের’ নামকরণ করেছিল ওমান। সেই সময়ই চলমান ঝড় ‘গুলাব’ এর নামও ঠিক করে রেখেছিল পাকিস্তান।

সেই ‘গুলাব’ই এবার ধেয়ে আসছে প্রবল বেগে, রোববারই উপকূলে আঘাত হানবে বলেই জানিয়েছে আবহাওয়াবিদরা।

এম এস, ২৫ সেপ্টেম্বর

Back to top button