জাতীয়

ফ্যাসিবাদের সঙ্গে মুক্ত গণতন্ত্র ও মুক্ত গণমাধ্যম যায় না: মির্জা ফখরুল

ঢাকা, ২৫ সেপ্টেম্বর – বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ফ্যাসিবাদের সঙ্গে মুক্ত গণতন্ত্র ও মুক্ত গণমাধ্যম কখনো একসঙ্গে যায় না।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ গুম, খুন ও নির্যাতনের মাধ্যমে অস্ত্রের মুখে টিকে থাকার কৌশল নিয়েছে।

শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে/একাংশ) বার্ষিক সাধারণ সভায় অংশ নিয়ে বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ মানেই হলো ভয়ভীতি, ত্রাস সৃষ্টি করে মানুষের অধিকারগুলোকে কেড়ে নেওয়া। গুম, খুন ও নির্যাতনের মাধ্যমে অস্ত্রের মুখে টিকে থাকা, যে কৌশল আজকে আওয়ামী লীগ বেছে নিয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, একটি মুক্ত সমাজ, দেশ ও গণতন্ত্রের জন্য আমরা ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করেছিলাম। আওয়ামী লীগ আমাদের সেই আশা-আকাঙ্ক্ষাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। তারা এর আগেও বাকশাল গঠন করেছিল এবং এখনো গণতন্ত্রের মুখোশ পরে বিভিন্ন আঙ্গিকে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে আমাদের সমস্ত অধিকারগুলোকে কেড়ে নিয়েছে।

দেশ এখন রাজনীতিবিদরা পরিচালনা করছে না মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, একজন রাজনীতিবিদকে সিকিউরিটি হিসেবে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। তাকে দিয়ে গণতন্ত্র বিরোধী সব কাজগুলো করিয়ে নিচ্ছে। তারা রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুপরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে।

তিনি বলেন, আজকে সংসদে জনগণের কোনো প্রতিনিধিত্ব নেই। ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৫৪ জনকে নির্বাচিত করেছে। ২০১৮ সালে তারা আগের রাতেই ভোট ডাকাতি করেছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, এই আওয়ামী লীগই ’৭২-৭৫ এ চারটি সংবাদমাধ্যম ছাড়া সব সংবাদমাধ্যম নিষিদ্ধ করেছিল। সংবাদমাধ্যমকে পুরোপুরি দলীয়করণ করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, আমরা একটি ভয়াবহ দুঃসময় অতিক্রম করছি। আজকে একটি সরকার জবরদখল করে বসে আছে যারা আমাদের ৫০ বছরের সকল অর্জনকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এই দুঃসময় শুধু সংবাদমাধ্যমের নয়, এই দুঃসময় শুধু বিএনপির নয়; এই দুঃসময় পুরো জাতির জন্য।

নির্বাচন কমিশন সম্পর্কে বিএনপি মহাসচিব বলেন, প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণভাবে একটি আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। আবার শোনা যাচ্ছে নতুন করে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে।

তিনি বলেন, কেউ বলছে এটার জন্য একটি আইন করা দরকার। কিন্তু আইনটা করবে কে? সংসদে তো আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্যকিছু নেই। যারা এদেশে গণতন্ত্রকে হরণ করে এ দেশের মানুষের অধিকারগুলো কেড়ে নিয়েছে, তারাই আজকে এই আইনটি করবে।

ডিইউজে সভাপতি কাদের গনি চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ সময় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, বিএফইউজের সভাপতি এম আব্দুল্লাহ, মহাসচিব নুরুল আমিন রোকন, বিএফইউজের সাবেক মহাসচিব এম এ আজিজ, ডিইউজের সাবেক সভাপতি কবি আব্দুল হাই শিকদার, প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, ডিইউজের সাবেক সভাপতি বাকের হোসেন, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র : দেশ রূপান্তর
এন এইচ, ২৫ সেপ্টেম্বর

Back to top button