বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

ফেসবুককে রোহিঙ্গাবিরোধী অ্যাকাউন্টের তথ্য প্রকাশের নির্দেশ

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের উপর চালানো সহিংসতাকে উসকে দিতে ফেসবুকের যেসব অ্যাকাউন্ট থেকে প্রচারণা চালানো হয়েছিল, সেগুলোর বিস্তারিত তথ্য (রেকর্ড) দিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটির কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক বিচারক।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার আল জাজিরা জানিয়েছে, ওয়াশিংটন ডিসির এক বিচারক সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন চালানোর দায়ে মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক আদালতে দোষি সাব্যস্ত করতে তদন্তকারীদের কাছে তথ্য হস্তান্তর করতে ব্যর্থ হওয়ায় ফেসবুকের সমালোচনা করেছেন।

ফেসবুক এসব ডাটা বা তথ্য দিতে অসম্মতি জানিয়ে আসছে। তারা বলছে, এটা যুক্তরাষ্ট্রে আইনের পরিপন্থী। তবে মার্কিন ওই বিচারক বলছেন, যেসব (ফেসবুক) পোস্ট ডিলিট হয়ে গেছে, সেগুলো যুক্তরাষ্ট্রের আইনে আওতায় আর থাকছে না।

বার্তাসংস্থা রয়টার্স মার্কিন আদালতের এ রুল সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা করতে পারেনি। এ নিয়ে ফেসবুকও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

নেদারল্যান্ডসের হেগে আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে চলমান মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া এসব রেকর্ড চেয়েছে। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, দেশটি ১৯৪৮ সালে প্রণীত জাতিসংঘের গণহত্যা সম্পৃক্ত নীতিমালা ভঙ্গ করেছে।

২০১৭ সালের আগস্ট মাসের শেষ দিকে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী। এ অভিযানে হত্যা, ধর্ষণ, নিপীড়নের মুখে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা। বাংলাদেশে কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে তাদের রাখা হয়েছে।

ওই অভিযানে কয়েক হাজার রোহিঙ্গাকে নির্বিচারে হত্যা করে মিয়ানমারের সেনা সদস্যরা। রোহিঙ্গাদের বাড়িঘরও পুড়িয়ে দেয়া হয়। স্যাটেলাইনের মাধ্যমে পাওয়া ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, রাখাইনে মাইলের পর মাইল এলাকা পুড়িয়ে দেয়া হয়েছিল।

রোহিঙ্গাদের বাস্তুচ্যুত করতে রাখাইনে যে অভিযান চলছিল, তার সমর্থনে এবং রোহিঙ্গাদের সমালোচনা করে তখন মিয়ারমারের কিছু বাসিন্দা ফেসবুকে নানা পোস্ট দিয়েছেন। সারা পৃথিবী রোহিঙ্গা নিপীড়নের বিরুদ্ধে মুখ খুললেও এসব পোস্ট মিয়ানমারে রোহিঙ্গাবিরোধী মনোভাবকে উসকে দিয়েছে। পরে ফেসবুক এগুলো সরিয়ে নেয়।

এম ইউ/২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১

Back to top button