মধ্যপ্রাচ্য

তালেবানের উত্থান উদ্বেগজনক: সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী

রিয়াদ, ২১ সেপ্টেম্বর – আফগানিস্তানে তালেবানের উত্থান উদ্বেগজনক। সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেছেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ। সোমবার তার ওই সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয়েছে।

প্রিন্স ফয়সাল বলেন, আফগানিস্তানে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আল কায়েদা, আইএস ও তালেবানের প্রত্যাবর্তন এবং পুনরুত্থান একটি বাস্তবিক উদ্বেগের বিষয়। তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ একটি উদ্বেগের বিষয়। তালেবান এখন অঙ্গীকার করছে, সন্ত্রাসবাদের জন্য আফগান ভূখণ্ড ব্যবহৃত হবে না।’

আফগানিস্তানে তালেবানের প্রথম মেয়াদে দলটির সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়া তিন দেশের মধ্যে একটি ছিল সৌদি আরব। তবে এবার তাদের সঙ্গে রিয়াদের কোনো যোগাযোগ নেই বলে জানান প্রিন্স ফয়সাল। দলটির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়ার আগে রিয়াদ আরও অপেক্ষা করবে বলে জানান তিনি। সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আফগানিস্তানে অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনব্যবস্থা দেখতে চাই। সেখানে শান্তি ও স্থিতিশীলতার নিশ্চয়তা চাই। ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকে এটি নিয়ে আমাদের আলোচনা হয়েছে এবং আমরা একমত হয়েছি।’

তিন দিনের সফরে শনিবার দিল্লি পৌঁছান সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। আফগানিস্তান ইস্যুতে আলোচনার জন্যই তার এ সফর। এর অংশ হিসেবে রবিবার ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন তিনি।

আলাপকালে ভারতে বিনিয়োগের ব্যাপারে রিয়াদের আগ্রহের কথাও জানান তিনি। কাশ্মীর প্রসঙ্গে প্রিন্স ফয়সাল বলেন, এটি ভারত ও পাকিস্তানের দ্বিপক্ষীয় সমস্যা। তাদের পরস্পরের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে বিরোধ নিষ্পত্তি করা উচিত।

কাবুলের নারী চাকরিজীবীদের ঘরে থাকার নির্দেশ তালেবানের : আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের সরকারি চাকরিজীবী নারীদের জন্য নতুন নির্দেশনা দিয়েছে তালেবান। কাবুলের মেয়র হামদুল্লাহ নোমান সরকারি নারী চাকরিজীবীদের ঘরে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি আফগানিস্তানের নারীদের ওপর তালেবানের আরোপিত সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞা। নব্বইর দশকে তালেবান ক্ষমতায় থাকাকালে নারীদের ঘরের বাইরে গিয়ে কাজ করা ও পড়াশোনার ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। নোমান বলেছেন, ‘কিছু সময়’ নারীদের কাজ করা থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন বলে মনে করছে তালেবান। দুই দশকের যুদ্ধ শেষে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারের মধ্যে গত ১৫ আগস্ট কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান। এর পর তালেবানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, এবার নারী অধিকারের প্রতি সম্মান দেখাবে তারা। তবে তা হবে শরিয়া আইনের মধ্যে থেকে।

তালেবান ক্ষমতায় আসার পর থেকেই কর্মজীবী নারীদের আইনশৃঙ্খলার উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত ঘরে থাকতে বলা হয়। সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকার ঘোষণা করে তালেবান। তাদের মন্ত্রিসভায় কোনো নারী রাখা হয়নি। এর প্রতিবাদ জানিয়ে কাবুলসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ করেন আফগান নারীরা। এ সময় নারীদের ওপর চড়াও হন তালেবান সদস্যরা।

এদিকে আফগানিস্তানের নারীবিষয়ক মন্ত্রণালয় বন্ধ করে দিয়েছে তালেবান। এ মন্ত্রণালয়কে নীতিনৈতিকতাবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে বদল করছে তারা। এক সময় এ মন্ত্রণালয় কট্টর ধর্মীয় মতাদর্শ বাস্তবায়নে কাজ করেছিল। বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তালেবান সরকারের আমলে এ দপ্তর ছিল।

গত সপ্তাহে স্কুল খোলার ঘোষণা দেয় তালেবান। তবে শুধু ছেলেদের স্কুল খোলার সিদ্ধান্ত দেয় তারা এবং স্কুলে শুধু পুরুষ শিক্ষকরাই পাঠদান করবেন বলে ঘোষণায় বলা হয়। তালেবান বলছে, তারা মেয়েদের স্কুল খুলে দেওয়ার বিষয়ে কাজ করছে।

সূত্র : সমকাল
এন এইচ, ২১ সেপ্টেম্বর

Back to top button