সিলেট

ফেঞ্চুগঞ্জের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হলেন মোহিনী

সিলেট, ২১ সেপ্টেম্বর – সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচনে মোহিনী বেগম বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। বৈদ্যুতিক পাখা প্রতীকে ৫ হাজার ৪৪৮টি ভোট পেয়ে তিনি বিজয়ী হন।

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মিরা বেগম ফুটবল প্রতীকে পেয়েছেন ৩ হাজার ৬শ ৫৩টি ভোট।

সোমবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা থেকে শুরু করে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ৩৬টি কেন্দ্রের শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় মোট ভোটার ছিলেন ৭৯ হাজার ৭৬৫ জন।

সোমবার সকাল থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হলেও বিকেল পর্যন্ত অধিকাংশ কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি একেবারেই কম ছিল। দু-একজন করে ভোটার এসে ভোট দিয়েছেন। ভোটারবিহীন কেন্দ্রে অনেকটা অলস সময় কাটিয়েছেন নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে মাঠে কাজ করে নির্বাচন কমিশন, পুলিশ ও র‍্যাব। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ভোটকেন্দ্রগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনীকে টহল দিতে দেখা গেছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সেলিনা ইয়াসমিন ঢাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুতে উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদটি শূন্য হয়ে যায়। এই পদের উপনির্বাচন গত ১১ এপ্রিল ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা থাকলেও করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকায় সব ধরনের নির্বাচন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গত ২১ জুন দ্বিতীয় দফায় ভোটগ্রহণের দিনক্ষণ ঠিক করা হয়। করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকায় ফের স্থগিত করা হয় নির্বাচন।

এদিকে, সেলিনা ইয়াসমিনের মৃত্যুর পর তার একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস ভাইরাল হয়। মৃত্যুর আগে ৫ ডিসেম্বর স্ট্রোক করেন সেলিনা ইয়াসমিন। অসুস্থ হবার আগে ওইদিনই তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেয়া স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘যদি আমার শারীরিক, মানসিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার কোনো ক্ষতি হয়, তার জন্য মাত্র তিনজন মানুষ দায়ী থাকবে। সমস্ত প্রমাণ আমার মেয়ের কাছে আছে। যথোপযুক্ত সময়ে আমার মেয়ে তা আপনাদের সামনে উপস্থাপন করবে। মনে রাখবেন শুধু তিনজন মানুষ এই পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। আমার ও আমার মেয়ের জন্য সকলে দোয়া করবেন।’

ফেসবুকে এটিই ছিল তার শেষ স্ট্যাটাস। এর পরদিন তিনি সিলেট নগরীর মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ভর্তি হন। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়।

সেলিনা ইয়াসমিন ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ঘিলাছড়া গ্রামের সাবেক সেনা কর্মকর্তা মৃত তাহির আহমদের মেয়ে ও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আরফান আলীর নাতনি।

সেলিনা ইয়াসমিনের মৃত্যুর রহস্যজট না খোলা অবস্থায় তার চেয়ারে বসলেন মোহিনী বেগম।

সূত্র : সিলেটভিউ
এন এইচ, ২১ সেপ্টেম্বর

Back to top button