ক্রিকেট

রাতে মাঠে নামছে কলকাতা, সাকিব থাকছেন তো?

দুবাই, ২০ সেপ্টেম্বর – গত ৪ মে কলকাতা নাইট রাইডার্সের দুই ক্রিকেটার আক্রান্ত হন করোনাভাইরাসে। ওই দিন তাদের মাঠে নামার কথা ছিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে। তা আর হয়নি। সাড়ে চার মাস পর সেই স্থগিত ম্যাচ মাঠে গড়াচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত পর্বের দ্বিতীয় দিনে। বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় আবুধাবিতে সাকিবের দল মুখোমুখি হচ্ছে বিরাট কোহলিদের।

করোনার ধাক্কায় স্থগিত হওয়ার আগে বেঙ্গালুরু আর কলকাতার মধ্যে ছিল বড় ধরনের ফারাক। ৭ ম্যাচে ৫ জয়ে ১০ পয়েন্ট নিয়ে তিন নম্বরে বেঙ্গালুরু, আর সমান খেলে মাত্র ২ জয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে সপ্তম স্থানে কলকাতা। এতদিনের বিরতির পর আবার সেখান থেকে শুরু হচ্ছে লড়াই। প্রশ্ন ফিনিক্স পাখির মতো কি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কলকাতা? সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তাদের ‘ময়না’ কি সুযোগ পাবেন একাদশে?

স্থগিতের আগে সাকিব ৭ ম্যাচের শেষ চারটিতে খেলতেই পারেননি। জায়গা হারান সুনীল নারিনের কাছে। ৩ ম্যাচে ব্যাটিংয়ে ৩৮ রান, বোলিংয়ে ৮১ রানে ২ উইকেট। কলকাতার হয়ে চলতি আসরে সাকিবের এই পারফরম্যান্স হতাশার প্রতিচ্ছবি। ২০১২ ও ২০১৪ সালে কলকাতার হয়ে আইপিএলের শিরোপা জিতেছিলেন সাকিব। সেই চ্যাম্পিয়ন ক্রিকেটারকে এবার ৩ কোটি ২০ লাখ রুপিতে দলে ভেড়ায় কলকাতা। তিন মৌসুম পর সাকিবকে পেয়ে কলকাতার টুইট, ‘আমাদের ময়না ঘরে ফিরে আসছে।’

শুরু থেকে সাকিবের সুযোগ হবে কি না তা নিয়ে ছিল অনেক জল্পনা। কলকাতা ভালোমানের বিদেশি ক্রিকেটার সংগ্রহ করেছিল। সাকিবের সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতা ছিল সুনীল নারিন। তাকে টপকে প্রথম ৩ ম্যাচেই সুযোগ পেয়েছেন সাকিব। প্রথম ম্যাচে ব্যাটিংয়ে নেমেছিলেন একেবারে শেষে। সেখানে কিছু করার মতো ছিল না। তবুও বলের সঙ্গে রান মিলিয়ে খেলা যেত। জয় পাওয়া সেই ম্যাচে করেছিলেন ৫ বলে ৩ রান। তবে বোলিংয়ে প্রথম বলে পেয়েছিলেন উইকেট। ধারাবাহিকতা ছিল পরবর্তীতেও। তারপরও ৪ ওভারে ৩৪ রানে শেষ করেন বোলিং।

দ্বিতীয় ম্যাচে সাকিবের ঘূর্ণি যাদু ছিল দেখার মতো। চেন্নাইয়ে নিজের মনের মতো উইকেট পেয়েছিলেন। তাতে ৪ ওভারে ২৩ রানে দিয়ে নিয়েছিলেন ১ উইকেট। ধীর গতির উইকেট। বল টার্ন পাচ্ছিল। শট খেলার সুযোগ ছিল না মোটেও। এমন উইকেট সাকিবের ব্যাটিংয়ের জন্যও আদর্শ। অথচ কলকাতার যখন ২৯ বলে ৩১ রান দরকার তখন মুম্বাইকে উইকেট উপহার দিয়ে আসেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ক্রুনাল পান্ডিয়ার বল উড়াতে গিয়ে মিড উইকেটে ক্যাচ দিয়েন সাকিব ফেরেন ৯ বলে ৯ রান করে।

তৃতীয় ম্যাচে বাজে দিন গেছে কলকাতা ও সাকিবের। বোলিংয়ে বাঁহাতি স্পিনারকে ২ ওভারের বেশি করানোর সাহস করেননি অধিনায়ক এউইন মরগ্যান। ২ ওভারে সাকিব দিয়েছিলেন ২৪ রান। খরুচে বল করার পর ব্যাটিংয়ে চাহিদার বিপরীতে তিনি খেলেছেন মন্থর এক ইনিংস। কাইল জেমিসনকে স্টাম্প ছেড়ে খেলার চেষ্টায় বোল্ড হয়ে যখন ফেরেন তখন তার নামের পাশে রান ২৫ বলে ২৬। অথচ এ ইনিংসেও ছিল ১ ছক্কা ও ১ চার। তারপর টানা চার ম্যাচ খেললেও বাঁহাতি অলরাউন্ডার আর জায়গা পাননি একাদশে।

আবারও আইপিএল শুরু হচ্ছে সাকিবের কলকাতার। এই সময়ে বাঁহাতি অলরাউন্ডার বাংলাদেশের হয়ে তিনটি টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলেছেন। জিম্বাবুয়ে, অস্ট্রেলিয়া ও নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে পারফর্ম করেছেন তিনি। জিম্বাবুয়েতে তিন ম্যাচেই একটি করে উইকেট নেন এবং দুই ইনিংসে ব্যাট করে করেন ১২ ও ২৫ রান। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ইনিংস সেরা ৩৬ রান করেন সাকিব, পরের দুই ম্যাচে সমান ২৬টি করে রান আসে তার ব্যাটে। সিরিজের শেষ ম্যাচে অজিদের ৬২ রানে গুটিয়ে দিতে নেন ৪ উইকেট। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ২৫ রান ও ২ উইকেট নিয়ে হন ম্যাচসেরা। পরের ম্যাচেও সমান দুটি উইকেট নেন বাঁহাতি স্পিনার। অবশ্য সিরিজের তৃতীয় ও চতুর্থ ম্যাচে নিষ্প্রভ ছিলেন সাকিব, রান ০ ও ৮ এবং বোলিংয়ে ছিলেন উইকেটশূন্য।

এই পারফরম্যান্স করে কলকাতার নতুন শুরুতে সাকিব একাদশে জায়গা করে নিতে পারেন কি না সেটাই দেখার অপেক্ষা! বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে দারুণ শুরুর অপেক্ষায় সাকিব। তার ভেরিফায়েড অফিসিয়াল ফ্যান পেইজে লিখেছেন, ‘জয়ের লক্ষ্যে কলকাতা নাইট রাইডার্স মাঠে নামছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে। একটি দুর্দান্ত লড়াইয়ের অপেক্ষায়।’ এই লড়াইয়ে নিজে থাকতে পারবেন তো সাকিব?

সূত্র : রাইজিংবিডি
এন এইচ, ২০ সেপ্টেম্বর

Back to top button