পশ্চিমবঙ্গ

কংগ্রেস-সিপিএম জোট কি ভেঙে গেল পশ্চিমবঙ্গে

কলকাতা, ২০ সেপ্টেম্বর – পশ্চিমবঙ্গে এখন ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির অবক্ষয় চলছে। ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক দল হিসেবে এই রাজ্যে অনেক আগে থেকে পরিচিত জাতীয় কংগ্রেস ও ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআই)। কমিউনিস্ট পার্টি আবার দুটি ধারায় প্রবাহিত, সিপিএম বা ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) ও সিপিআই। এই দুটি দলই এই রাজ্যের বামফ্রন্টের শরিক দল। বাম আদর্শ নিয়ে এরা এখনও দলের আদর্শ প্রচার করে যাচ্ছে। কংগ্রেসও ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শ লালন করে আসছে কংগ্রেসের জন্ম নেওয়ার পর থেকে। কংগ্রেসের জন্ম হয়েছিল ১৮৮৫ সালে। আর ভারতে অবিভক্ত কমিউনিস্ট পার্টির জন্ম হয়েছিল ১৯২৫ সালে। তবে ১৯৬৪ সালে দলটি দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়।

১৯৭৭ সালে পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসকে হটিয়ে বামফ্রন্ট ক্ষমতায় আসার পর রাজ্যে যতগুলো বিধানসভার নির্বাচন হয়েছে তার প্রতিটি নির্বাচনে কংগ্রেস এবং বামদল নিয়মিত কিছু আসন পেয়ে আসছিল। কিন্তু ২০২১ সালে ঘটেছে ব্যতিক্রধর্মী এক ঘটনা; যা ঐতিহাসিক রেকর্ড। ওই নির্বাচনে কংগ্রেস বা বামদল বা বামফ্রন্ট রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা আসনে একটিতেও জিততে পারেনি।

যদিও এ বছরের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিধানসভার নির্বাচনকে মাথায় রেখে পশ্চিমবঙ্গে জাতীয় কংগ্রেস ও সিপিএম গড়েছিল এক নির্বাচনী জোট। অন্যদিকে ২১ জানুয়ারি ফুরফুরা শরীফের পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকী গড়েছিলেন নতুন একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক জোট যার নাম দেওয়া হয় ‘ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট’ বা আইএসএফ। এই আইএসএফকে সঙ্গে নিয়ে কংগ্রেস-সিপিএম গড়েন পরবর্তীতে এক নির্বাচনী জোট। নাম দেওয়া হয় সংযুক্ত মোর্চা।

এ বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি কলকাতার ব্রিগেড ময়দানে সিপিএম আয়োজিত বিশাল এক সমাবেশ থেকে কংগ্রেস-সিপিএম-আইএসএফ মিলে সংযুক্ত মোর্চা গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। সেই থেকে রাজ্য বিধানসভার নির্বাচনে এই সংযুক্ত মোর্চা নির্বাচনী ময়দানে অবতীর্ণ হয়। কিন্তু আইএসএফকে মনপ্রাণে মেনে নিতে পারেনি কংগ্রেস। তাই এই সংযুক্ত মোর্চা সিপিএমের নেতৃত্বে চলতে থাকলেও এড়িয়ে চলে কংগ্রেস। তারা প্রকারান্তরে জানিয়ে দেয়, তারা এই জোটের শরিক আইএসএফকে মানছে না। সিপিএম আইএসকে সমর্থন দিলেও রাজ্যের ধর্মনিরপেক্ষ মানুষ এই সংযুক্ত মোর্চাকে মেনে নিতে পারেনি ধর্মনিরপেক্ষ শক্তি হিসেবে।

এদিকে সংযুক্ত মোচার শরিক সিপিএম ও আইএসএফ আসন ভাগাভাগি করে বিধানসভা নির্বাচনে লড়লেও কংগ্রেস সামিল হয়নি তাতে। নির্বাচনের ফলাফলের পর দেখা যায়, এবার কংগ্রেস ও সিপিএম বিধানসভা নির্বাচনে একটি আসনেও জিততে পারেনি। শূন্য আসনে ফিরতে হয়েছে তাদের। তবে আইএসএফ একটি মাত্র আসন দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙর আসনে জিতে যায়। বিধায়ক হন আইএসএফ প্রধান আব্বাস সিদ্দিকী যা ছিল এই রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন রেকর্ড। ফলে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই কংগ্রেস ও সিপিএমের দূরত্ব বাড়তে থাকে।

যদিও ২০১৬ সালে এই রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনেও কংগ্রেস ও বামদলের জোট হয়েছিল। পরবর্তীতে অবশ্য সেই জোটও ভেঙে দেয় সিপিএম। এরপর এবারও নতুন করে সিপিএমের সঙ্গে কংগ্রেসের জোট হয়। কংগ্রেস আইএসএফকে একটি সাম্প্রদায়িক দল হিসেবে মনে করে। তাই এবারও সিপিএমই আবার ভেঙে দিল সংযুক্ত মোর্চাকে। যদিও সিপিএম নেতারা বলেছেন, কংগ্রেস বা আইএসএফয়ের সঙ্গে নির্বাচনী জোট ’সংযুক্ত মোর্চা ’গঠিত হয়েছিল। নির্বাচন শেষ হয়ে গেছে। তাই আর এই জোটের প্রয়োজনও ফুরিয়ে গেছে।

সিপিএমের রাজ্য কমিটির এক সভায় গত শুক্রবার যোগ দেন সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি। সিপিএমের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইয়েচুরি সাফ জানিয়ে দেন, ‘নির্বাচন শেষ হয়েছে তাই জোটেরও আর প্রয়োজন নেই। ভোটও শেষ, জোটও শেষ।’

সূত্র : প্রথম আলো
এন এইচ, ২০ সেপ্টেম্বর

Back to top button