ঢালিউড

কেন অনুদানের টাকা ফিরিয়ে দিচ্ছেন অমিতাভ রেজা

ঢাকা, ১৯ সেপ্টেম্বর – অমিতাভ রেজা। নির্মাতা। সম্প্রতি সরকারি অনুদানের ছবি ‘পেন্সিলে আঁকা পরী’ নির্মাণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। ছবিটি নির্মাণের জন্য সরকারিভাবে ৬০ লাখ টাকার মধ্যে প্রথম কিস্তির ১৮ লাখ টাকা পেয়েছেন। সরকারি অনুদান পেয়েও কেন তিনি ছবিটি নির্মাণ করবেন না, এ ব্যাপারে কথা হলো তার সঙ্গে-

অনুদান পেয়েও ‘পেন্সিলে আঁকা পরী’ কেন নির্মাণ করবেন না?

এক অর্থে নির্মাতা হিসেবে এটা আমার ব্যর্থতাই। কত মানুষ অনুদান চেয়ে পান না। আর আমি অনুদান পেয়েও ফেরত দিচ্ছি। এ জন্য আমি দুঃখিত। বাংলা ভাষার নন্দিত লেখক হুমায়ূন আহমেদ বেঁচে থাকতেই আমি তার কাছ থেকে ‘পেন্সিলে আঁকা পরী’র অনুমতি নিয়েছিলাম। এরপর হুমায়ূন স্যার চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার আগে তিনি তাগাদা দিয়ে বলেছিলেন, ‘ছবিটা বানাচ্ছ না কেন?’ তাড়াতাড়ি বানাও। তখন ‘আয়নাবাজি’ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় ‘পেন্সিলে আঁকা পরী’র জন্য কিছু করতে পারিনি। স্যার মারা যাওয়ার পর ব্যাপারটা তার পরিবারের সদস্যদের কাছে বলেছি। সবাই উৎসাহ দিয়েছেন।

অনেকেই বলছেন, হুমায়ূন পরিবারের অনুমতি না নিয়েই অনুদানের জন্য আবেদন করেছেন?

এটা ঠিক নয়। আমি হুমায়ূন পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে ভালোভাবে অনুমতি নিয়েই অনুদানের জন্য জমা দিয়েছি। তারপরও তারা কেন এটা নিয়ে জল ঘোলা করল? অনুদানের জন্য ছবিটি জমা দেওয়ার আগে তাদের সঙ্গে অর্থনৈতিক বিষয়ে কথা হয়নি। যেহেতু হুমায়ূন আহমেদের পরিবারের সবার সঙ্গে আমার বেশ ভালো সম্পর্ক, তাই ভেবেছি, অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে পরে কথা বললেই হবে। এটা নিয়ে সমস্যা খুব একটা হবে না। এটা আমার জন্য ভুল ছিল। এরপর যখন অনুদান পেলাম, ছবির বাজেট হলো, তখন কথা ছিল বাজেটের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কথা বলব। যখন আলাপ হলো, তখন তাদের দুই পরিবারের পক্ষ থেকে যে শর্ত দেওয়া হলো, তাতে করে আমার পক্ষে ছবিটি নির্মাণ করা সম্ভব হবে না। কারণ, ছবিটি নির্মাণের জন্য সরকার ৬০ লাখ টাকা দিচ্ছে। এই টাকার সঙ্গে সমপরিমাণ টাকা আরও বিনিয়োগ করতে হবে। কিন্তু হুমায়ূন আহমেদের পরিবারের এত এত শর্ত! এত শর্ত মানতে পারব না।

হুমায়ূন আহমেদের পরিবারের পক্ষ থেকে কী কী শর্ত দেওয়া হয়েছিল?

অনেক শর্ত- ছবির ফাইন্যান্স থেকে শুরু করে ক্রিয়েটিভ নানা বিষয়ের ওপর; যা পরিস্কারভাবে বলতে চাই না। শুধু এতটুকুই বলব, পরিবার থেকে যে শর্ত দেওয়া হয়েছে, সেগুলো মেনে কাজ করা আমার জন্য মুশকিল।

এবার ‘রিকশা গার্ল’ প্রসঙ্গে বলুন। ছবিটি গত বছর মুক্তির কথা ছিল…

গত বছরে মুক্তির পরিকল্পনা অনুযায়ী সব কাজও শেষ করেছিলাম। কিন্তু করোনার কারণে বদলে যায় পরিকল্পনা। এখন সিনেমাটি বিশ্বের বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র উৎসবে জমা দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবান ইন্টারন্যাশনাল চলচ্চিত্র উৎসবে আন্তর্জাতিক বিভাগে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। আগামী মাসে উত্তর আমেরিকার মিল ভ্যালি চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটি দেখানো হবে। আর মুক্তির বিষয়টি এখনও পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে। আশা রয়েছে, করোনার প্রাদুর্ভাব কমলে ছবিটি মুক্তি পাবে।

ছবির সাফল্য নিয়ে কতটা আশাবাদী?

কমবেশি সবাই নিজের কাজ নিয়ে আশাবাদী থাকেন। কিন্তু সাফল্য-ব্যর্থতা নির্ভর করে দর্শকের ওপর। নৈর্ব্যক্তিক জায়গা থেকে যদি বলি, আমি সন্তুষ্ট। কারণ, ছবির প্রত্যেক কলাকুশলী নিজের সেরাটা দিয়েছেন।

এম ইউ/১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১

Back to top button