ক্রিকেট

বিসিবিতে আসছে কিছু নতুন মুখ

ঢাকা, ১৯ সেপ্টেম্বর – এ মুহূর্তে মাঠের ক্রিকেট নেই নেই করেও খেলা কম হচ্ছে না। এইচপি ও ‘এ’ দলের ম্যাচ হচ্ছে চট্টগ্রামে। অনূর্ধ্ব-১৯ দল আফগানিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে সিরিজ খেলছে সিলেটে। অথচ ক্রিকেটপাড়ার মানুষের ফোকাস মাঠের ক্রিকেটে নেই বললে চলে। সবার মন পড়ে আছে বিসিবির নির্বাচনে। যে নির্বাচনে মাঠ গরম করার মতো একজন প্রতিপক্ষও নেই। সে নির্বাচন ঘিরেও ক্রীড়াঙ্গনের মনোযোগ কাড়ার মতো এমন আগ্রহ অবাক করে।

ফোন করলেই সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটাররা জানতে চান- নতুন পরিচালক কে হচ্ছেন, বর্তমান কমিটি থেকে বাদ পড়ছেন কে কে। উৎসুকদের কৌতূহল মেটানো সত্যিই কঠিন। বিসিবির এবারের নির্বাচন যে ঢাকঢোল পিটিয়ে হচ্ছে না। বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বেছে বেছে মনোনীত করছেন ভাবী পরিচালকদের। তাই বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের কর্মকর্তাদের কাছে নির্বাচন নিয়ে কিছু জানতে চাওয়া হলে সবাই এক বাক্যে বলে দেন- বোর্ড সভাপতি দেখছেন, তারা কিছুই জানেন না। যদিও কথায় কথায় সবই জানা হয়ে যায়- সবাই আসলে সব জানেন। বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে তালিকা করা হচ্ছে এবারের বিসিবি পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনে। গত চার বছরে ক্রিকেটীয় কার্যক্রমে পিছিয়ে থাকা পরিচালকরাও রয়েছেন ঝুঁকির মুখে।

বিসিবির নির্বাচন হয় তিন ক্যাটাগরিতে- এক নম্বর ক্যাটাগরিতে ক্লাব থেকে নির্বাচিত হন ১২ জন পরিচালক। ঢাকা লিগের ক্লাব থেকে নির্বাচিত হন তারা। বিসিবি চালান ক্লাব পরিচালকরাই। দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে জেলার কাউন্সিলরদের ভোটে নির্বাচিত হন বিভাগীয় ১০ জন পরিচালক। তৃতীয় ক্যাটাগরি থেকে একজন পরিচালক নির্বাচিত হন সাবেক ক্রিকেটার, বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা বোর্ড ও সরকারি সংস্থার কাউন্সিলরদের ভোটে।

পরবর্তী চার বছর মেয়াদে পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনে বেশি নতুন মুখ দেখা যেতে পারে ক্লাব ক্যাটাগরিতে। পরিচালক লোকমান হোসেন ভূঁইয়া ও হানিফ ভূঁইয়া নির্বাচন করছেন না। শওকত আজিজ রাসেল, তানজিল চৌধুরী বাদ পড়তে পারেন। প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের স্বত্বাধিকারী তানজিল চৌধুরী নিজে থেকেই সরে গেছেন বলে শোনা যাচ্ছে। গত এক বছরে বিসিবির কর্মকাণ্ডে সেভাবে দেখাও যায়নি তাকে। মোহামেডান থেকে মাহাবুবুল আনাম ও মাসুদুজ্জামান পরিচালক হবেন। প্রয়াত পরিচালক আফজালুর রহমান সিনহার জায়গায় আসতে পারেন তার ছেলে ফাহিম সিনহা। রাজশাহী বিভাগ থেকে নির্বাচিত পরিচালক শফিউল আলম স্বপনের না থাকার সম্ভাবনা বেশি। খালেদ মাসুদ পাইলট চেষ্টা করছেন রাজশাহী থেকে। ঢাকা বিভাগ থেকে নাঈমুর রহমান দুর্জয় ও রাসেল আহমেদ তুহিন নির্বাচন করবেন। সৈয়দ আশফাকুল ইসলামের জায়গায় প্রার্থী হবেন তুহিন। চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে আ জ ম নাছির, আকরাম খান থাকছেন। রংপুর বিভাগ থেকে অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম। খুলনার পরিচালক শেখ সোহেল ও কাজী ইনাম আহমেদ এবারও থাকবেন। সিলেট বিভাগ থেকে নাদেল আহমেদ চৌধুরীর থাকা একপ্রকার নিশ্চিত হলেও বরিশাল বিভাগ থেকে আলমগীর খান আলো থাকবেন কিনা জানা যায়নি। তিন ক্যাটাগরি থেকে নির্বাচিত হবেন ২৩ জন পরিচালক। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে মনোনীত হবেন দু’জন। এই ২৫ জনকে নিয়ে বিসিবি পরিচালনা পর্ষদ।

ছকে ফেলে নির্বাচন সফল করতে কাউন্সিলরও বাছাই করা হচ্ছে সেভাবে। তিন নম্বর ক্যাটাগরিতে খেলোয়াড় থেকে ১৩ জন কাউন্সিলর মনোনীত করে বিসিবি। যেখানে সাবেক অধিনায়ক থাকেন পাঁচজন। মিনহাজুল আবেদীন নান্নুদের সঙ্গে শাহরিয়ার নাফীস, রাজিন সাহেলকেও কাউন্সিলর করা হচ্ছে। এই বিভাগে নির্বাচন করছেন গেম ডেভেলপমেন্টের চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ সুজন।

একটি সূত্র জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা বোর্ড ও সংস্থাগুলোর ২৩টি ভোট নিশ্চিত করে ফেলেছেন তিনি। ক্রিকেটারদের ভোট না পেলেও সুজনের পরিচালক হওয়া নিশ্চিত হয়ে আছে। আজ কাউন্সিলরদের নাম জমা দেওয়ার শেষ দিন। নির্বাচন হতে পারে এ মাসের শেষ সপ্তাহে। ভেতরে ভেতরে সব প্রস্তুতিই নেওয়া হয়ে গেছে। কাউন্সিলর চূড়ান্ত হয়ে গেলে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করবে।

সূত্র : সমকাল
এন এইচ, ১৯ সেপ্টেম্বর

Back to top button