জাতীয়

আদালতে ইভ্যালির রাসেল দম্পতি

ঢাকা, ১৭ সেপ্টেম্বর- প্রতারণার অভিযোগে এক গ্রাহকের করা মামলায় গ্রেপ্তার  ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ‘ইভ্যালির’ সিইও মোহাম্মদ রাসেল এবং প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান, তাঁর স্ত্রী শামীমা নাসরিনকে রাজধানীর গুলশান থানা থেকে আদালতে নেওয়া হয়েছে।

আজ শুক্রবার (১৭ সেপ্টম্বর) দুপুর ২টার দিকে তাঁদেরকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। এসময় আদালতের হাজতখানায় রাখা হয় আসামিদের।

এর আগে আজ শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে রাসেল দম্পতিকে র‍্যাবের সাদা প্রাইভেট কারে করে গুলশান থানায় নেওয়া হয়। সেখানে প্রয়োজনীয় কাজ শেষে করে তাঁদেরকে নিয়ে আদালতের পথে রওনা হয় র‍্যাব।

এদিকে, স্ত্রীসহ রাসেলকে গ্রেপ্তারের বিষয় নিয়ে আজ দুপুর ১২টায় সংবাদ সম্মেলন করা হয় র‍্যাবের পক্ষ থেকে। সংবাদ সম্মেলেনে লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, খন্দকার আল মঈন বলেন, একটি বিদেশি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের লোভনীয় অফার (১:২)-এর আলোকে ইভ্যালির ব্যবসায়িক স্ট্র্যাটেজি তৈরি করেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ রাসেল। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির কাছে কোম্পানি শেয়ারের অফার দিয়ে প্রলুব্ধ করে দায় চাপানোও ছিল পরিকল্পনার অংশ। এছাড়া তিন বছর পূর্ণ হলে শেয়ার মার্কেটে অন্তর্ভুক্ত হয়ে দায় চাপানোর পরিকল্পনা নেন রাসেল। দায় মেটাতে বিভিন্ন অজুহাতে সময় বাড়ানোর আবেদনও একটি অপকৌশল মাত্র। সর্বশেষ তিনি দায় মেটাতে ব্যর্থ হলে প্রতিষ্ঠানকে দেউলিয়া ঘোষণার পরিকল্পনা করেছিলেন।

খন্দকার আল মঈন আরো বলেন, প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইভ্যালির দেনা দাঁড়ায় ৪০৩ কোটি টাকা; তাদের চলতি সম্পদ ছিল ৬৫ কোটি টাকা, বিভিন্ন পণ্য বাবদ গ্রাহকদের কাছ থেকে অগ্রিম নেওয়া ২১৪ কোটি টাকা এবং বিভিন্ন গ্রাহক ও কোম্পানির কাছে বকেয়া প্রায় ১৯০ কোটি টাকা। নানা সংস্থার সূত্রে প্রকাশিত বিপুল পরিমাণ দায়ের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পরিপ্রেক্ষিতে রাসেল দম্পতি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

খন্দকার আল মঈনের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার রাসেল জানান ইভ্যালি ছাড়াও তাঁর আরো কয়েকটি ব্যবসায়িক প্লাটফর্ম রয়েছে। এর মধ্যে ই-ফুড, ই-খাতা, ই-বাজার ইত্যাদি দিয়েই ইভ্যালির ব্যবসায়িক কাঠামো শুরু হয়েছিল। তার ব্যবসায়িক স্ট্র্যাটেজি ছিল তৈরিকারক ও গ্রাহক চেইন বা নেটওয়ার্ক থেকে বিপুল অর্থ তুলে নেওয়া। তিনি বিশাল অফার, ছাড়ের ছড়াছড়ি আর ক্যাশব্যাকের অফার দিয়ে সাধারণ জনগণকে প্রলুব্ধ করতেন, যাতে দ্রুততম সময়ে ক্রেতা বৃদ্ধি করা যায়।

গতকাল বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় রাসেল দম্পতিকে। গ্রেপ্তারের পর র‌্যাব সদর দপ্তরে নেওয়া হয় তাঁদেরকে।

গতকাল বিকেলে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, বিকেল ৪টার দিকে স্যার সৈয়দ রোডের একটি ৯ তলা ভবনের চতুর্থ তলায় রাসেলের ফ্ল্যাটে তাঁদের অভিযান শুরু হয়। বিকেল সোয়া ৫টার দিকে রাসেল ও তাঁর স্ত্রীকে বাসা থেকে বের করে র‌্যাব সদর দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় মামলা করা হয়। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় তাঁদের।

বেশ কিছুদিন ধরে ইভ্যালির বিরুদ্ধে গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ নিয়ে আলোচনা চলেছে। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশও করেছে গ্রাহকরা। এরই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার রাতে রাসেল ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে গুলশান থানায় অর্থ আত্মসাৎ ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে মামলা করেন আরিফ বাকের নামের একজন। এরপর গতকাল বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাব।

আর আই

Back to top button