পশ্চিমবঙ্গ

কিশোর দত্তের ইস্তফা অ্যাডভোকেট জেনারেলের পদ থেকে, গ্রহণ করল রাজভবন

কলকাতা, ১৪ সেপ্টেম্বর – পদত্যাগ করলেন রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল। অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত মঙ্গলবারই তাঁর পদত্যাগ পত্র পাঠান রাজভবনে। রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় টুইটারে জানিয়েছেন, তিনি এই পদত্যাগের পত্র গ্রহণ করেছেন। একই সঙ্গে এই পদত্যাগ পত্রের কপি পাঠানো হয়েছে রাজ্যের মুখ্যসচিবের দফতর ও আইনমন্ত্রীর দফতরেও। ব্যক্তিগত কারণ দর্শিয়ে এই পদত্যাগ পত্র লিখেছেন কিশোর দত্ত।

এই প্রথমবার নয়, এর আগে বর্তমান সরকারের আমলেই অ্যাডভোকেট জেনারেল জয়ন্ত মিত্রও হঠাৎ করে তাঁর পদ থেকে সরে দাঁড়ান। অতি সম্প্রতি যদি দেখা গিয়েছিল, অ্যাডিশনাল অ্যাডভোকেট জেনারেল অভ্রতোষ মজুমদার নিজের পদ থেকে সরে দাঁড়ান। রাজ্য সরকারের প্লিডার জয়তোষ মজুমদারের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছিল। তাঁদের জায়গায় ইতিমধ্যেই নতুন পদাধিকারী নিযুক্ত করা হয়েছে। তখন থেকেই প্রশ্ন ছিল, পুরনো ধারার মধ্যে একমাত্র রয়ে গিয়েছেন কিশোর দত্ত। তা হলে তিনিও কি এই পথেই হাঁটতে পারেন।

কিশোর দত্ত পদত্যাগের কারণ ‘ব্যক্তিগত’ বলেছেন। তবে আইনজীবী মহলের একাংশের বক্তব্য, ভোট পরবর্তী হিংসা মামলায় যে ভাবে বার বার রাজ্য সরকারকে আদালতের দরবারে ভর্ৎসনা শুনতে হয়েছে, তার কারণে কিশোর দত্ত এমন সিদ্ধান্ত নিলেও নিতে পারেন। এই মামলায় হঠাৎ করে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হলে নানা প্রশ্ন উঠতে পারে বলে আইনজীবী মহলের একাংশ মনে করছেন। সে ক্ষেত্রে তিনি নিজে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলে প্রশ্নের অবকাশ কম থাকে।

শুধু ভোট পরবর্তী হিংসা মামলাই নয়, টেট থেকে নারদ একাধিক ক্ষেত্রে রাজ্যকে আদালতের রোষের মুখে পড়তে হয়েছে। আইনজীবী মহলের দাবি, এর দায়িত্ব কোথাও না কোথাও এজি’র উপর এসে পড়ে। কারণ, তিনিই যেহেতু রাজ্যের হয়ে নির্দিষ্ট মামলায় সওয়াল করেন।

যদিও পাশাপাশি এমনও যুক্তি রয়েছে, ভোট পরবর্তী হিংসা মামলায় কেবল এজি কিশোর দত্তই রাজ্যের হয়ে সওয়াল করেননি। দেশের তাবড় আইনজীবীও আছেন। ফলে সত্যি যদি এ মামলায় রাজ্যের মুখ পোড়ে তার জন্য একমাত্র এজির কাঁধে দায় বর্তায় এমনটা নয় বলেও দাবি আইনজীবীদের কারও কারও। এদিকে কিশোর দত্তের এই সিদ্ধান্তে রাজনীতির রংও লাগতে শুরু করেছে।

বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং বলেছেন, “ওনাকে দিয়ে অনেক মিথ্যা কথা বলানো হয়েছে । তাই বিবেক দংশনে উনি পদত্যাগ করেছেন।” অন্যদিকে শিক্ষক নেতা মইদুল ইসলাম সোশ্য়াল মিডিয়ায় লিখেছেন, “আমার বাড়িতে পুলিশ আসা নিয়ে তাঁকে দিয়ে ভুল তথ্য দেয় পুলিশ প্রশাসন।”

এন এইচ, ১৪ সেপ্টেম্বর

Back to top button