পশ্চিমবঙ্গ

পশ্চিমবঙ্গে ফের একা সিপিএম

কলকাতা, ১৪ সেপ্টেম্বর – পশ্চিমবঙ্গে একুশের বিধানসভা ভোটে ফুরফুরার পিরজাদা আব্বাসের দল আইএসএফ ও কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বেঁধেছিল সিপিএম। এই দুই সঙ্গীকে নিয়েই তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছিল দলটি।

ভোটে বাম আর কংগ্রেস নিশ্চিহ্ন হলেও একমাত্র ভাঙর বিধানসভা দখল করতে সমর্থ হয় আইএসএফ। কিন্তু এবার ভবানীপুরসহ তিনটি উপনির্বাচনে সিপিএমের ডাকে সাড়া দিলো না আইএসএফ। কংগ্রেসের পর এবার আইএফএফের সাড়া না পেয়ে ফের বাংলার রাজনীতিতে কার্যত একা বামেরা।

জানা গেছে, ভবানীপুরসহ তিনটি উপনির্বাচনে সিপিএম প্রার্থীদের প্রচারে পিরজাদা আব্বাস সিদ্দিকীর দল আইএসএফকে পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন খোদ বামফ্রন্ট সভাপতি প্রবীণ নেতা বিমান বসু। কিন্তু পত্রপাঠ তা খারিজ করে দিয়েছে আইএসএফ। রাজ্যের তিনটি উপনির্বাচনেই বামদের পাশে না থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।

সংযুক্ত মোর্চার হয়ে ভবানীপুরে কংগ্রেসের প্রার্থী দেওয়ার কথা তারা প্রার্থী দেয়নি। এমনকি তারা প্রচারেও থাকবে না বলে মোটামুটি স্থির হয়ে গেছে। তাই আইএসএফ–কে সঙ্গী করতে চেয়েছিল বামেরা। কিন্তু তারাও তিন কেন্দ্রেই প্রচার থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ভবানীপুরে সিপিএম প্রার্থী করেছে আইনজীবী শ্রীজীব বিশ্বাসকে। শ্রীজীব একুশের ভোটে কংগ্রেস প্রার্থীর ইলেকশন এজেন্ট ছিলেন।

একুশের বিধানসভা ভোটে সংযুক্ত মোর্চার জোটে লড়াই করলেও প্রথম থেকেই এই জোটে আইএসএফের অবস্থান নিয়ে সন্তুষ্ট ছিল না কংগ্রেস। একে অপরের বিরুদ্ধে প্রার্থী দাঁড় করিয়ে দিয়ে কংগ্রেস স্পষ্ট জানিয়েছিল আইএসএফের সঙ্গে তাদের কোনও আসন সমঝোতা হয়নি। দলটিকে নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিল বামফ্রন্টের শরিকরাও। তারা বলছিল, বাম শরিকদের সঙ্গে আলোচনা না করেই আইএসএফকে নিয়ে জোট করার সিদ্ধান্ত এককভাবেই নিয়েছে সিপিএম। একুশের ভোটে ভরাডুবির পর পশ্চিমবঙ্গে বামশক্তি নিশ্চিহ্ন হওয়ার দায় সিপিএমের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে বাম শরিক ফরওয়ার্ড ব্লকও নির্বাচনি বিপর্যয়ের জন্য আইএসএফের বিরুদ্ধে তোপ দাগে। আইএসএফের সঙ্গে জোট নিয়ে খোদ সিপিএমের অভ্যন্তরেও প্রশ্ন ছিল।

একুশের ভোটের পর কার্যত সংযুক্ত মোর্চার অস্তিত্ব সংকট দেখা দিচ্ছিল। নির্বাচনের পর সিপিএম-ও সংযুক্ত মোর্চার ব্যানারে কোনও যৌথ কর্মসূচি নেয়নি।

সংযুক্ত মোর্চা নিয়ে কংগ্রেসসহ বামফ্রন্টের শরিক দলগুলোর অসন্তোষে ধারাবাহিকভাবে অপমানিত আইএসএফের রাজ্য নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তারা এই তিনটি উপনির্বাচনে নিরবতা বজায় রাখবে। কোনও বিধানসভা কেন্দ্রেই তারা প্রচারে যাবে না বামদের হয়ে। এই খবরে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে সিপিএম কর্তাদের কপালে। তাদের আশা ছিল, কংগ্রেস পাশ থেকে সরে গেলেও ভাইজানের সমর্থন নিয়ে তিন কেন্দ্রে বিজেপিকে সরিয়ে অন্তত দ্বিতীয় স্থানে থাকতে পারবে। আর সেই আশাতেই ভবানীপুর আর মুশির্দাবাদের শামসেরগঞ্জে প্রার্থী দিয়েছে তারা।

বামফ্রন্টের শরিক আরএসপি প্রার্থী দিয়েছে জঙ্গিপুরে। ভবানীপুরে অল্প হলেও মুশির্দাবাদের দুইটি মুসলিম অধ্যুষিত কেন্দ্র হওয়ায় আইএসএফের সমর্থন পাওয়াটা জরুরি ছিল। কিন্তু তারা সরে দাঁড়ানোয় ভোটের ফল নিয়ে যথেষ্ট আতঙ্কে বাম শিবির।

রাজনৈতিক মহলের মতে, আইএসএফ চাইছে এই ভোটে বামদের একক জনসমর্থন কতটা আছে তা প্রমাণ হয়ে যাবে। আর সেটা হলেই একুশের ভরাডুবির দায় থেকে তারা নিজেদের মুক্ত করতে পারবে। এই অংক করেই পিরজাদা ভাইজান একুশের ভোটের পর থেকেই মৌন হয়ে অপেক্ষা করছেন। আর এই ভোট থেকেই সিপিএমের সঙ্গে ভাইজানের মধুচন্দ্রিমা শেষ হয়ে গেলো বলে মনে করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি সংযুক্ত মোর্চার অবলুপ্তি ঘটলো রাজ্য রাজনীতিতে।

অপরদিকে, চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনের আগে এই উপনির্বাচনে কংগ্রেসের তৃণমূলকে নীরব সমর্থন দেওয়ার মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে ফের বামদের বাদ দিয়ে বিজেপি বিরোধী রাজনীতির নয়া সমীকরণ তৈরি হলো।

সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন
এন এইচ, ১৪ সেপ্টেম্বর

Back to top button