জাতীয়

সাগরে গভীর নিম্নচাপ, জলোচ্ছ্বাসের শঙ্কা

ঢাকা, ১৩ সেপ্টেম্বর – উত্তর পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি প্রথমে নিম্মচাপ পরে গভীর নিম্মচাপে পরিণত হয়েছে। গভীর নিম্মচাপটি সকাল ৯টায় পায়রা বন্দর থেকে ৪২৫ কি. মি. দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরও পশ্চিম-উত্তর পশ্চিমে অগ্রসর হতে পারে। এর প্রভাবে পটুয়াখালীর উপকূলীয় এলাকা ও এর অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্মাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ২ থেকে ৩ ফুট অধিক উচ্চতার বায়ুতাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে। উপকূলীয় এলাকা ও পায়রা বন্দরকে স্থানীয় ভাবে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। সাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরা ট্রলার ও নৌকা সমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে বলে আবহাওয়ার বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

সাগর উত্তাল হওয়ায় পটুয়াখালীর মহিপুর-আলীপুর-ঢোসসহ বেশ কয়েকটি মৎস্য বন্দর এলাকায় দেড় হাজারের বেশি মাছ ধরা ট্রলার ও নৌকা নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছে।

এদিকে, সাগরে গভীর নিম্মচাপের ফলে ও পূবালী বাতাসের কারণে সাগর উত্তাল এবং নদ-নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ২ ফুট পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তলিয়ে গেছে অর্ধশত চরসহ নিম্মাঞ্চল। তবে কোথায় কোন ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। সকাল থেকেই রোদ-বৃষ্টির সাথে দমকা হওয়া বইছে উপকূলজুড়ে।
আলীপুর মৎস্য বন্দরের মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, এক সপ্তাহ আগে থেকেই সাগরে ইলিশ মাছ ধরা পরছিল জেলেদের জালে। এর মধ্যেই আবার সাগরে লঘুচাপটি নিম্মচাপ থেকে গভীর নিম্মচাপে পরিণত হয়েছে। মাছ ধরতে সাগরে নামতে না পারায় আমাদের অনেক ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে।

আলীপুর মৎস্য ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি ও লতাচাপলি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আনছার উদ্দিন মোল্লা জানান, লঘুচাপটি গভীর নিম্মচাপে পরিণত হওয়ার কারণে বঙ্গোপসাগর বেশ উত্তাল রয়েছে। তাই ইলিশের মৌসুম চললেও সাগর উত্তাল থাকায় জেলেরা বাধ্য হয়ে বন্দরে ফিরে অলস সময় পার করছে। তবে এক সপ্তাহ ধরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে জেলেরা সাগরে যেতে না পারায় সকলকে লোকসানে পড়তে হবে।

সূত্র: প্রতিদিনের সংবাদ
এম ইউ/১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১

Back to top button