সিলেট

সিলেট কিডনী ফাউন্ডেশন হাসপাতালের নির্মাণ কাজ শুরু

সিলেট, ১০ সেপ্টেম্বর – সিলেট কিডনী ফাউন্ডেশন হাসপাতালের নির্মাণ কাজ (১০ সেপ্টেম্বর) শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টায় শুরু হয়েছে।

উপলক্ষে হাসপাতাল নির্মাণের স্থান সিলেট শহরতলীর ৬নং টুকের বাজার ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের নাজির গাঁওয়ে সকাল সাড়ে ১১টায় এক দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, কিডনী ফাউন্ডেশন সিলেটের মহাসচিব কর্ণেল (অব) মোহাম্মদ আব্দুস সালাম বীর প্রতীক, কিডনী ফাউন্ডেশন সিলেটের পরিচালক ও ট্রেজারার জুবায়ের আহমদ চৌধুরী, নির্বাহী সদস্য ডা. মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী বাহার, ডা. নাজরা চৌধুরী, এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ডা: কাজী মুশফিক আহমদ, পরিচালক ও কো-অর্ডিনেটর ফরিদা নাসরীন, ডা. মো. জাকির হোসেন, স্থপতি মোস্তফা শাহরিয়ার, ডা. এম. এ. মজিদ, স্থপতি জামিউল গণি ওসমানী, প্রজেক্ট ডিরেক্টর নিবাস চন্দ, স্থপতি মো. আরিফ হোসাইন, স্থপতি আহসানুল মুলক, প্রজেক্ট ম্যানেজার ওবায়েদ বিন বাছিত (সুমন), কিডনী ফাউন্ডেশন সিলেটের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মহিবুর রহমান রাসেল, দৈনিক উত্তরপূর্ব’র জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক সজল ঘোষ ও কিডনী ফাউন্ডেশন সিলেটের ম্যানেজার আতিকুর রহমান।

কিডনী ফাউন্ডেশন সিলেটের মহাসচিব কর্ণেল (অব) মোহাম্মদ আব্দুস সালাম বীর প্রতীক জানান, ২০২০ সালের ১৭ জানুয়ারি সিলেট শহরতলীর ৬নং টুকের বাজার ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের নাজির গাঁওস্থ স্থানে প্রায় আড়াই বিঘা জমির উপর ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০ তলা বিশিষ্ট ১৫০ শয্যার সিলেটের কিডনী ফাউন্ডেশন হাসপাতালের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান। কিডনী ফাউন্ডেশন সিলেট ফেব্রুয়ারী ২০১৮ইং সাল থেকে সিলেট নগরীর উপশহরে অস্থায়ী হাসপাতাল নির্মাণ করে সিলেটের জনগনের ও কিডনী রোগীদের এক অভূতপূর্ব সেবা প্রদান করে আসছে। মাসে ১ হাজারেরও অধিক কিডনী রোগীদের সূলভ মূল্যে এবং ৫০% রোগীকে বিনা মূল্যে সেবা দিয়ে আসছে।

তিনি বলেন, গত জুন ২০২০ইং সালে যখন সিলেটে করোনা রোগীদের দুর্ভোগ শুরু হয় তখন কিডনি ফাউন্ডেশন সরকারের সহযোগিতায় ২টি উপজেলা হাসপাতাল যা বন্ধ অবস্থায় ছিল যন্ত্রপাতি, সরঞ্জমাদি, জনবল দিয়ে অতি অল্প সময়ের মধ্যে চালু করে। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে প্রেরিত সচিব লোকমান হোসেইন, বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসক-এর সহযোগীতায় খাদিমনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩২ শয্যার হাসপাতাল এবং দক্ষিণ সুরমার উপজেলা হাসপাতাল চালু করে জনগনকে সেবা প্রদান করে। এই প্রতিষ্ঠান ২/৩ বৎসরে সিলেটের মানুষের একটি অতি আস্থাভাজন প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। কিডনী ফাউন্ডেশন সিলেটের ট্রাষ্টিবোর্ডের এবং অভিভাবক হিসেবে যারা সর্বদা সহযোগিতা করে যাচ্ছে তাদের মধ্যে পরিকল্পনা মন্ত্রী এম. এ. মান্নান এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্ঠা রাশেদা কে চৌধুরী, মেজর জেনারেল আজিজুর রহমান (বীর উত্তম), ডা. আব্দুল মুবিন, প্রফেসর হারুন-অর-রশিদসহ আরও অনেকে।

তিনি জানান, এই প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্যোক্তা প্রফেসর শহীদ শামসুদ্দিন আহমেদের পুত্র কিডনী ফাউন্ডেশনের সভাপতি প্রফেসর জিয়াউদ্দিন আহমদ, কিডনী ফাউন্ডেশনের মহাসচিব কর্ণেল (অব) মোহাম্মদ আব্দুস সালাম বীর প্রতীক, কিডনী ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও ট্রেজারার জুবায়ের আহমদ চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার সালাউদ্দিন আহমেদ, ডা. এম. এ. মজিদ, ডা. কাজী মুশফিক আহমদ, ডা. নাজরা চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার হাবিব আহসান বাবলু, ইঞ্জিনিয়ার মোস্তফা শাহরিয়ার, ডা. মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী বাহার, ইঞ্জিনিয়ার মিশফাক সামাদসহ দেশ-বিদেশের অনেক গুণীজন সম্পৃক্ত রয়েছেন। এ পর্যন্ত এই প্রতিষ্ঠানের পথ চলার সাথে ‘শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ ট্রাষ্ট’ এবং কিডনী ফাউন্ডেশনের ট্রাষ্টিদের দান এবং সহযোগিতায় দিন দিন তাদের কর্মতৎপরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই হাসপাতালে আধুনিক চিকিৎসা ছাড়াও গবেষণা, প্রশিক্ষণ এবং মাঠ পর্যায়ে গরীব রোগীদের সেবার অঙ্গীকার নিয়ে এগুচ্ছে।

তিনি আরো জানান, এবছর এর শুরুর দিক জানুয়ারী থেকে প্রতি ছয় মাস করে ডায়লাইসিস সেন্টারে হাতে কলমে শিক্ষা গ্রহনের লক্ষ্যে নার্সদের একটা গ্রুপ করে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং শিক্ষানবিশ নার্সদের মাসিক স্টাইপেন্ড দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ট্রেনিং গ্রহন শেষে তারা বিভিন্ন হাসপাতালের ডায়ালাইসিস ইউনিটে নিজেদেরকে নিয়োজিত করেছে এবং তাদের কর্ম দক্ষতাকে সুনামের সাথে কাজে লাগাতে পারছে। এই ট্রেনিংকালীন সময়ে তাদেরকে আর্থিক অনুদান ও বৃত্তি প্রদান করে আসছেন আমেরিকা প্রবাসী কিডনী ফাউন্ডেশনের সক্রিয় সদস্য ডা. ফাতেমা আহমদ। কিডনী ফাউন্ডেশন সিলেটের মহাসচিব কর্ণেল (অব) মোহাম্মদ আব্দুস সালাম বীর প্রতীক এই স্বপ্ন-আশা বাস্তবায়নে সিলেটবাসীসহ দেশ ও বিদেশের সকল মানুষের সাহার্য্য-সহযোগীতা একান্ত ভাবে কামনা করেছেন।

সূত্র : সিলেটভিউ
এন এইচ, ১০ সেপ্টেম্বর

Back to top button