আইন-আদালত

বিচারকের এ ধরনের আচরণ ও কাজ অপ্রত্যাশিত-লজ্জাজনক: হাইকোর্ট

ঢাকা, ১০ সেপ্টেম্বর – দুর্নীতির মামলায় সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ডিআইজি প্রিজন্স পার্থ গোপাল বণিককে খাস কামরায় জামিন দেওয়া ও অতি গোপনে জামিন আদেশ কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় বিচারক প্রসঙ্গে হাইকোর্ট বলেছেন, জেলা জজ পর্যায়ের একজন বিচারকের এ ধরনের আচরণ ও কাজ অপ্রত্যাশিত-লজ্জাজনক। তাকে জামিন দেওয়া আদালত অবমাননার শামিল।

এ ঘটনায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫–এর বিচারক ইকবাল হোসেনকে সর্বোচ্চ সতর্ক করে পার্থ গোপালকে ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ ১২ পৃষ্ঠার এ রায় প্রকাশ করেছেন।

গত ১৭ জুন পার্থ গোপাল বণিকের জামিন মঞ্জুর করেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫–এর বিচারক ইকবাল হোসেনের ভার্চ্যুয়াল আদালত। এরপর তিনি কারামুক্ত হন। অনেকটা গোপনে ও তড়িঘড়ি করে এ জামিন দেওয়া হয়।

হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চের বিচারকেরা বলেন, আমাদের বলতে দ্বিধা নেই যে জেলা জজ পর্যায়ের একজন বিচারকের কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ ও কর্ম প্রত্যাশিত নয়। তার এ ধরনের আদেশ উচ্চ আদালতের প্রতি অবজ্ঞা এবং যা আদালত অবমাননার শামিল।

‘বিজ্ঞ বিচারক আসামিকে জামিন প্রদান করে হাইকোর্টের আদেশকে অবজ্ঞা করেছেন।’

গত ২ সেপ্টেম্বর ৮০ লাখ টাকাসহ হাতে নাতে বরখাস্ত ডিআইজি প্রিজন্স পার্থ গোপাল বণিককে নিম্ন আদালতের দেওয়া জামিন বাতিল করেন হাইকোর্ট।

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও পাচারের অভিযোগে পার্থ গোপাল বণিকের বিরুদ্ধে গত বছরের ২৯ জুলাই মামলা করে দুদক। মামলাটি তদন্ত করে একই বছরের ২৩ আগস্ট পার্থ গোপাল বণিকের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় দুদক।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, আসামি পার্থ গোপাল বণিক গতবছরের ২৮ জুলাই দুদকে হাজির হয়ে অনুসন্ধান টিমের কাছে বক্তব্য দেন। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে পার্থ গোপাল বণিক জানান, তার বাসায় ৩০ লাখ টাকা নগদ আছে। এ টাকার বৈধ উৎস তিনি দেখাতে পারেননি। পরে অভিযান চালিয়ে তার বাসা থেকে ৮০ লাখ টাকা জব্দ করা হয়।

সূত্র : বাংলাদেশ জার্নাল
এন এইচ, ১০ সেপ্টেম্বর

Back to top button