আইন-আদালত

সিনহা হত্যা, স্বাক্ষ্য দিলেন প্রত্যক্ষদর্শী মুয়াজ্জিন

কক্সবাজার, ০৮ সেপ্টেম্বর – সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার দ্বিতীয় দফায় তৃতীয় দিনে সাক্ষী হিসেবে পঞ্চম জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। আজ সাক্ষ্য দিয়েছেন টেকনাফের শাপলাপুরের ঘটনাস্থল নিকটবর্তী মসজিদের মোয়াজ্জিন মো. আমিন। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাকে জেরা শুরু করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। জেরা শেষ বিকেল ৫টায়।

কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ফরিদুল আলম এই তথ্য জানিয়েছেন।

এদিকে আজ সাক্ষ্য দেয়া মো. আমিনকে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিক দাবি করে প্রদীপের আইনজীবী রানা দাশগুপ্ত দাবি করেছেন, তার সাক্ষ্য দেয়ার কোনো অধিকার নেই।

তিনি বলেন, আমিন বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিক। সে মসজিদ কমিটির সভাপতি-সম্পাদকের নাম বলতে পারেনি। রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পের বাইরে বের হতে অনুমতি নিতে হয়। সেই ধরনের কোনো অনুমতিপত্র সে দেখাতে পারেনি।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর জানান, আমিন প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশি। তিনি যে মসজিদে চাকরি করেন, সেই মসজিদে কোনো কমিটি নেই। তাই মসজিদ কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম জানার প্রশ্নই ওঠে না।

এর আগে গত ২৩ থেকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত মামলার প্রথম দফার সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। এতে সাক্ষ্য দেন মামলার বাদী ও সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস এবং ২ নম্বর সাক্ষী ঘটনার সময় সিনহার সঙ্গে একই গাড়িতে থাকা সাহেদুল সিফাত। রোববার দ্বিতীয় দফায় প্রথম দিনে মামলার ৩ নম্বর সাক্ষী মোহাম্মদ আলীর এবং সোমবার আদালতে চতুর্থ সাক্ষী হিসেবে কামাল হোসেনের জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। মামলায় ৮৩ জন সাক্ষীর মধ্যে এ পর্যন্ত ৪ জনের সাক্ষ্য প্রদান শেষ হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে মামলার ১৫ আসামিকে প্রিজেনভ্যানে করে কড়া পুলিশি পাহারায় আদালতে নেয়া হয়।

পিপি ফরিদুল বলেন, গত ২৩ থেকে ২৫ আগস্ট প্রথম দফায় সাক্ষ্যদানের জন্য ৮৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৫ জনকে আদালত নোটিশ দিয়েছিলেন। ওই তিনদিনে মামলার বাদী ও ২ নম্বর সাক্ষী জবানবন্দি প্রদান করেন। রোববার থেকে দ্বিতীয় দফায় প্রথম ও দ্বিতীয় দিনে মামলার ২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় শুরু হওয়া বিচারকাজে আগামীকাল (বুধবার) পর্যন্ত আদালতের নোটিশ পাওয়া অপর ১১ জন সাক্ষীর জবানবন্দি দেয়ার কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছর ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কস্থ বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।

এ ঘটনায় গত বছর ৫ আগস্ট সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বাদী হয়ে টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও বাহারছড়া তদন্ত সাবেক ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ ৯ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয় লিয়াকত আলীকে। আদালত মামলার তদন্তভার দেয়া হয় র‍্যাবকে।

গত বছর ১৩ ডিসেম্বর র‍্যাব-১৫ কক্সবাজার ব্যাটালিয়ানের তৎকালীন দায়িত্বরত সহকারী পুলিশ সুপার খাইরুল ইসলাম ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। গত ২৭ জুন আদালত ১৫ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এতে সাক্ষী করা হয় ৮৩ জনকে।

সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল
এম ইউ/০৮ সেপ্টেম্বর ২০২১

Back to top button