নোয়াখালী

নোয়াখালীতে আওয়ামী লীগের ত্রিমুখী সংঘর্ষে অস্ত্র হাতে ৩ যুবক (ভিডিও)

নোয়াখালী, ০৭ আগস্ট – নোয়াখালীতে আওয়ামী লীগের তিন গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার সময় অস্ত্র হাতে তিন যুবকের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। গতকাল রোববার বিকেলে জেলা শহর মাইজদীতে আওয়ামী লীগের ত্রিমুখী সংঘর্ষের মধ্যে তিন যুবককে অস্ত্র হাতে ৩৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়।

গতকাল সোমবার বিকেলে সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে সেই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওতে দেখা যায়, এক যুবক হাতের অস্ত্র দিয়ে একাধিক প্রতিপক্ষের দিকে গুলি করেন এবং অন্য দুজন পাল্টা প্রতিরোধে অস্ত্র নিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যান।

তবে অস্ত্রধারী তিন যুবক কোন পক্ষের সমর্থক এ ব্যাপারে কেউ মুখ খুলছেন না। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারাও তিন যুবককে নিজেদের সমর্থক বলতে নারাজ। তবে প্রকাশ্যে এভাবে অস্ত্রের মহড়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাহেদ উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, তিনি অস্ত্রধারীদের একটি ভিডিও দেখেছেন। পুলিশ অস্ত্রধারীদের চিহিৃত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে।

ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, ১০-১২ সহযোগীবেষ্টিত অস্ত্রধারী এক যুবক প্রতিপক্ষের দিকে গুলি করছেন এবং বাকি দুজন প্রতিপক্ষদের ধাওয়ার মুখে অস্ত্রহাতে অন্য সহযোগীদের সঙ্গে দৌড়ে পালিয়ে যাচ্ছেন।

স্থানীয়রা জানান, জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে নোয়াখালীতে তিন পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। এর মধ্যে নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরী, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শিহাব উদ্দিন শাহীন এবং পৌর মেয়র ও শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহীদ উল্লাহ খান সোহেলের সমর্থকরা সোমবার পৃথক সমাবেশের ডাক দেয়।

এ সমাবেশকে কেন্দ্র করে আগের দিন রোববার তিনপক্ষই শহরে অবস্থান নিয়ে প্রচার চালায়। এদিন বিকেলের দিকে একরামুল করিমের অনুসারীরা শহরের জামে মসজিদ মোড়ের উত্তর দিকে অবস্থান নেয়। অপরদিকে শিহাব উদ্দিন শাহীনের অনুসারীরা জামে মসজিদের দক্ষিণ দিকে জিলা স্কুলের সামনের সড়কে অবস্থান নেয়। আর মেয়র শহীদ উল্লাহ খান সোহেলের সমর্থকরা অবস্থান নেন পৌরসভার সামনে।

নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বিবদমান গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছেছে। ২০১৯ সালের ২০ অক্টোবর মাইজদী শহীদ ভুলু স্টেডিয়ামে সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সম্মেলনের মাধ্যমে জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়। এ সময় কয়েকটি সাংগঠনিক পদ ঘোষণা করা হলেও সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদসহ মূল পদগুলো ঘোষণা না হওয়ায় এ দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ সময় কেন্দ্র অনুমোদন না দেওয়ায় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার সঙ্গে এ কমিটি নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরীর বাগ্‌বিতণ্ডা হয় এবং তারা দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন।

এছাড়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ নেওয়ার জন্য পৌর মেয়র শহীদ উল্লাহ খান সোহেল ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শিহাব উদ্দিন শাহীনও মাঠে রয়েছেন।

সূত্র : আমাদের সময়
এন এইচ, ০৭ আগস্ট

Back to top button