আইন-আদালত

মৃত্যুদণ্ড চূড়ান্তের আগে কনডেম সেলে রাখার বৈধতা চ্যালেঞ্জ

ঢাকা, ০৪ সেপ্টেম্বর – মৃত্যুদণ্ডাদেশ চূড়ান্ত হওয়ার আগেই বন্দিকে কারাগারের কনডেম সেলে রাখার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ও কনডেম সেলে থাকা তিন বন্দির পক্ষে এ আবেদনটি করা হয়েছে বলে শনিবার জানান রিট আবেদনকারীদের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ও চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেম সেলে থাকা সাতকানিয়ার জিল্লুর রহমান, সিলেট কারাগারে থাকা সুনামগঞ্জের আব্দুল বশির ও কুমিল্লা কারাগারে থাকা খাগড়াছড়ির শাহ আলমের পক্ষে বৃহস্পতিবার আবেদনটি করা হয়েছে।

এ তিনজনের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের আবেদন) ও আপিল হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে বলে জানান শিশির মনির।

রিট আবেদনের বরাতে আইনজীবী বলেন, আবেদনে মৃত্যুদণ্ডাদেশ চূড়ান্ত হওয়ার আগে আসামিকে কনডেম সেলে আবদ্ধ রাখা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, এ মর্মে রুলের আরজি জানানোর পাশাপাশি রুল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় তিন রিট আবেদনকারীদের কনডেম সেল থেকে স্বাভাবিক সেলে স্থানান্তরের আরজি জানানো হয়েছে।

এছাড়া আবেদনে দেশের সব কারাগারের কনডেম সেলে থাকা সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের রাখার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে কারা মহাপরিদর্শককে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

আইনজীবী জানান, রবিবার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চে আবেদনটির ওপর শুনানি হতে পারে।

আবেদনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা বিভাগের সচিব, আইন সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শকসহ সাতজনকে বিবাদী করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

শিশির মনির বলেন, বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর করতে বেশকিছু আইনগত ধাপ অতিক্রম করতে হয়। ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারামতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন নিতে হবে। এছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১০ ধারা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে আপিল দায়েরের বিধান রয়েছে।

তিনি বলেন, হাইকোর্ট বিভাগ মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখলে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি সাংবিধানিক অধিকারবলে আপিল বিভাগে সরাসরি আপিল দায়ের করতে পারেন। পাশাপাশি সংবিধানের ১০৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আপিলের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ (রায় পুনর্বিবেচনা) আবেদনের আইনগত সুযোগ রয়েছে।

শিশির মনির আরও বলেন, সর্বোপরি, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির নিকট ক্ষমা চাইতে পারেন। রাষ্ট্রপতি ক্ষমার আবেদন না মঞ্জুর করলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে আইনগত বৈধতা লাভ করে। কিন্তু দেশে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পরই সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে নির্জন কনডেম সেলে বন্দি হিসেবে রাখা হয়।

গণমাধ্যমের বরাতে তিনি বলেন, দেশের কারাগারগুলোতে ২ হাজার ৫ জন ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি কনডেম সেলে বন্দি রয়েছেন। হাইকোর্ট বিভাগে চলতি বছরে ২০১৫ ও ২০১৬ সালে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি চলছে। সে হিসেবে চলতি বছর বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি হবে ২০২৬ সালে।

এই আইনজীবী বলেন, ২০২০ সালের হিসাব অনুযায়ী হাইকোর্টে বিচারাধীন ডেথ রেফারেন্সের সংখ্যা ৭৭৫টি। এই সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। বর্তমানে হাইকোর্ট বিভাগের ৩টি বেঞ্চ ডেথ রেফারেন্স মামলার শুনানি করছে।

সূত্র : দেশ রূপান্তর
এম এস, ০৪ সেপ্টেম্বর

Back to top button