জাতীয়

মৃত্যুদণ্ডের আইন কি বাংলাদেশে ধর্ষণ বন্ধের সমাধান?

মৃত্যুদণ্ডের আইন কি বাংলাদেশে ধর্ষণ বন্ধের সমাধান?

নোয়াখালী, ০৮ অক্টোবর- নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জে একজন গৃহবধুকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন এবং এই সময়ে আরও কয়েকটি ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে কয়েকদিন ধরে ঢাকাসহ দেশটির বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ থেকে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দাবি করা হচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমেও এই দাবি নিয়ে তর্ক বিতর্ক চলছে।

তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে নয়। তারা বলছে, আইনে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবনের যে সাজা এখন আছে, সেটারই প্রয়োগ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না এবং সেকারণে ধর্ষণ বা নারী নিপীড়ন উদ্বেগজনকহারে বাড়ছে।

বাংলাদেশে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করার বিষয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।

রাজপথের বিক্ষোভ এবং সামাজিক মাধ্যমে প্রতিবাদে এখন ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের দাবি তোলা হয়েছে। তারা মনে করে, আইনের প্রয়োগ বা বাস্তবায়ন এবং নির্যাতিতা নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা- এই বিষয়গুলোতে বড় সমস্যা রয়েছে। সে কারণে ধর্ষণের অভিযোগ বিচারের পর্যায়ে যেতেই অনেক সময় লেগে যায়। আবার নিম্ন আদালতে বিচার হওয়ার পর উচ্চ আদালতে মামলার জটে পরে যাচ্ছে।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নীনা গোস্বামী বলছেন, গত ১০ বছরে তাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে তিনশ’র বেশি মামলায় নির্যাতিত নারীদের আইনী সহায়তা দেয়া হচ্ছে। সেখানে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দীর্ঘ সময়ের কারণে এখনকার শাস্তিই নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।

নীনা গোস্বামী মনে করেন, শাস্তি যাই থাকুক- তা বাস্তবায়ন করাটাই বড় বিষয়। এখন আইনে যে শাস্তি আছে, সেটাই যেনো নিশ্চিত হয় এবং বাস্তবায়ন হয়। সেটা দেখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমি এটা বলতে চাচ্ছি, আমাদের অনেকগুলো মামলা শুনানির অপেক্ষায় আছে। যার জন্য কিন্তু রায়ের বাস্তবায়ন দীর্ঘায়িত হচ্ছে। আমরা যে মামলাগুলো পরিচালনা করছি, সেগুলো থেকে আমাদের হাতে এখনও ২০১২ সালের বা ২০১৪ সালের মামলা রয়েছে। এই মামলাগুলোতে এখনও নিম্ন আদালতেও রায় হয়নি। নিম্ন আদালতে হলেও উচ্চ আদালতে গিয়েও অপেক্ষমান থাকতে হয়। ১০, ১২ বা ১৪ বছর ঝুলে থাকলে কারও মনেও থাকে না। হাতেগোনা দু’একটি মামলা আছে যেটা খুব দ্রুততার সাথে শেষ হয়েছে।’

মানবাধিকার কর্মীদের বক্তব্য হচ্ছে, নির্যাতিত নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বিচার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রিতা কমিয়ে আনা এবং রাজনৈতিক প্রভাবের বাইরে থেকে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া- এই বিষয়গুলোতে তারা কার্যকর পদক্ষেপ চাইছেন।

মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে মানবাধিকার কর্মীদের যে প্রশ্ন রয়েছে, সেই প্রেক্ষাপটে কর্মকর্তারা বলেছেন, মৃত্যুদণ্ডের বিধান আনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সাথেও আলোচনা করা হবে।

সূত্রঃ বিবিসি
আডি/ ০৮ অক্টোবর

Comments

Back to top button