চট্টগ্রাম

মিতু হত্যা মামলার যাবতীয় নথিপত্র আদালতে রাখার নির্দেশ

চট্টগ্রাম, ২৪ আগস্ট – চট্টগ্রামের চাঞ্চল্যকর মিতু হত্যা মামলায় পিবিআই’র দেয়া তদন্ত প্রতিবেদন, সাক্ষীদের সাক্ষ্য, আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিসহ যাবতীয় নথিপত্র এখন থেকে আদালতের হেফাজতে তালাবদ্ধ করে সংরক্ষণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বাদী-বিবাদি যাদের প্রয়োজন হবে, আদালতে আবেদন করে তার নকল নিতে পারবেন।

সোমবার (২৩ আগস্ট) বাবুল আক্তারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহনাজ রহমানের আদালত এই আদেশ দেন।

অ্যাডভোকেট শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী বলেন, মিতু হত্যার পর তার স্বামী বাবুল আক্তারের দায়ের করা মামলার যাবতীয় কাগজপত্র জুডিশিয়াল হেফাজতে রাখার আদেশ চেয়ে আমরা আবেদন করেছিলাম। আদালত শুনানি শেষে ১৬১ ও ১৬৪ ধারার জবানবন্দি এবং মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদনসহ যাবতীয় কাগজপত্র জুডিশিয়াল হেফাজতে রাখার আদেশ দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, গত ১২ মে মিতুর পিতা মোশারফ হোসেন বাবুল আক্তারকে আসামি করে যে মামলা করেছেন তার সহি মুহুরি নকল জিআরও শাখায় চেয়েও আমরা পাইনি। সহি মুহুরি নকল আমাদের সরবরাহ করার আবেদন করলে মহানগর হাকিম সারোয়ার জাহানের আদালত আমাদের সেই মামলার সহি মুহুরি নকল প্রদানের আদেশ দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৫ জুন সকাল ৭টা ১৭ মিনিটে চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড়ে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলে করে তিন দুর্বৃত্ত মিতুকে ঘিরে ধরে। প্রথমে তারা তাকে গুলি করে। এরপর কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়। ওই সময় মিতুর স্বামী বাবুল আক্তার পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি পেয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে যোগ দিয়ে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন।

এ ঘটনায় নগরীর পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন বাবুল আক্তার। মামলাটি চট্টগ্রামের নগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে ৩ বছর ১১ মাস তদন্তে থাকার পর গত বছরের মে মাসে মামলাটি পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) হস্তান্তর করা হয়। মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা হলেন পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা।

তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বাবুল আক্তারকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। এরপর মিতু হত্যাকাণ্ডে বাবুল আক্তারকে প্রধান আসামি করে মোট ৮ জনের বিরুদ্ধে গত ১২ মে মিতুর বাবা মোশারফ হোসেন পাঁচলাইশ থানায় এজাহার দায়ের করেন।

এজাহারে সাবেক এসপি মিতুর স্বামী বাবুল আক্তার, কিলিং স্কোয়াডের সদস্য মো. কামরুল ইসলাম সিকদার ওরফে মুসা, এহতেশামুল হক ওরফে ভোলাইয়া, মো. মোতালেব মিয়া ওরফে ওয়াসিম, মো. আনোয়ার হোসেন, মো. খায়রুল ইসলাম ওরফে কালু, ওরফে কসাই কালু, মো. সাইদুল ইসলাম সিকদার ওরফে সাকু মাইজ্যা ও শাহজাহান মিয়াকে আসামি করা হয়েছে। যদিও এদের মধ্যে দু’জন পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ইতোমধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন এবং বর্তমানে জেলে আছে দু’জন। পুলিশের মতে, নিখোঁজ রয়েছেন কিলিং স্কোয়াডের নেতৃত্বদানকারী মুসা।

এছাড়া স্ত্রী হত্যা মামলার প্রধান আসামি বাবুল আক্তারকে পাঁচ দিনের রিমান্ড নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পিবিআই। রিমান্ড শেষে প্রথমে আদালতে জবানবন্দি দেয়ার কথা থাকলেও পরে জবানবন্দি দেননি বাবুল। ২৯ মে থেকে বাবুল আক্তার ফেনী কারাগারে আছেন।

সূত্র : বাংলাদেশ জার্নাল
এন এইচ, ২৪ আগস্ট

Back to top button